কুরআনের বিকৃত অনুবাদের প্রদর্শনী করছে কাদিয়ানী সম্প্রদায় প্রসঙ্গ : বিভিন্ন ভাষায় কাদিয়ানীদের অনূদিত কুরআনে বিকৃতি

25

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম

শিখো বাংলায়.কম ৪. সূরা আলে ইমরান, আয়াত-৪৯

وَ رَسُوْلًا اِلٰی بَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ اَنِّیْ قَدْ جِئْتُكُمْ بِاٰیَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ  اَنِّیْۤ اَخْلُقُ لَكُمْ مِّنَ الطِّیْنِ كَهَیْـَٔةِ الطَّیْرِ فَاَنْفُخُ فِیْهِ فَیَكُوْنُ طَیْرًۢا بِاِذْنِ اللهِ وَ اُبْرِئُ الْاَكْمَهَ وَ الْاَبْرَصَ وَ اُحْیِ الْمَوْتٰی بِاِذْنِ اللهِ وَ اُنَبِّئُكُمْ بِمَا تَاْكُلُوْنَ وَ مَا تَدَّخِرُوْنَ  فِیْ بُیُوْتِكُمْ  اِنَّ فِیْ ذٰلِكَ لَاٰیَةً لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ.

আয়াতের প্রকৃত অনুবাদ : এবং তাঁকে বনী ইসরাঈলের নিকট রাসূল বানিয়ে পাঠাবেন। (সে মানুষকে বলবে) আমি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে নিদর্শন নিয়ে এসেছি (আর সে নিদর্শন এই) যে, আমি তোমাদের সামনে কাদা দ্বারা এক পাখির আকৃতি তৈরি করব, তারপর তাতে ফুঁ দেব, ফলে তা আল্লাহর হুকুমে পাখি হয়ে যাবে এবং আমি আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করে দেব, মৃতদেরকে জীবিত করব এবং তোমরা নিজ গৃহে যা খাও কিংবা মওজুদ কর, তা সব তোমাদেরকে জানিয়ে দেব।

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের বিকৃতি :

আলোচ্য আয়াতে আল্লাহর নবী হযরত ঈসা আ.-এর তিনটি অলৌকিক মুজেযার কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর হুকুমে হযরত ঈসা আ.-এর হাতে কাদামাটি থেকে পাখি সৃষ্টি, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীর তাঁর হাতে নিরাময় হওয়া এবং মৃত ব্যক্তিকে পুনর্জীবিত করা।

হযরত ঈসা আ.-কে প্রদত্ত এসব অলৌকিক মুজেযার কথা আল্লাহ তাআলা উপরোক্ত আয়াতে পরিষ্কার ইরশাদ করেছেন। যার মধ্যে কোন ধরনের দ্ব্যর্থতা, রূপকতা বা অস্পষ্টতা নেই। বস্তুত আল্লাহর অপার কুদরতে অসম্ভব বলতে কিছু নেই।

কিন্তু কাদিয়ানী সম্প্রদায় এখানেও যথারীতি নিজেদের তৈরি রূপক অর্থ আরোপ করেছে। পাখির আকৃতি সৃষ্টির অর্থ করেছে- ‘সাধারণ অনভিজ্ঞ লোক তাঁর সংস্পর্শে এসে আধ্যাত্মিক আকাশের উচ্চমার্গে পাখির মত বিচরণে সমর্থ হয়।’ জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগী নিরাময়ের অর্থ বিকৃত করে বলেছে, ‘তাদেরকে সমাজের বঞ্চনা ও অবহেলা থেকে তিনি মুক্ত করেছেন।’ আর মৃতকে পুনর্জীবন দানের অপব্যাখ্যায় বলেছে, ‘অনুসারীদের জীবনে বৈপ্লবিক ও অসাধারণ মহা-পরিবর্তন আনয়ন করেছেন।’ লক্ষ্য করুন-

কাদিয়ানীদের উর্দু অনুবাদে বিকৃতি :

میں تمہارے پاس تمہارے رب کی طرف سے ایک نشان لے کر آیا ہوں (اور وہ یہ ہے )کہ میں تمہارے (فائدہ کے) لیے بعض طینی خصلت رکھنے والوں سے پرندہ کے پیدا کرنے کی طرح (مخلوق) پیدا کروں گا۔ پھر میں ان میں ایک نئی روح پھونکوں گا جس پر وہ اللہ کے حکم کے ماتحت اڑنے والے ہو جائیں گے ۔(تفسیر صغیر)

কাদিয়ানীদের বাংলা অনুবাদে বিকৃতি : …আমি নিশ্চয় তোমাদের নিকট তোমাদের প্রভুর পক্ষ হইতে এক নিদর্শনসহ আসিয়াছি (উহা এই) যে, তোমাদের জন্য কাদা হইতে আমি পাখীর অবস্থার অনুরূপ সৃষ্টি করিব।… -কাদিয়ান থেকে প্রকাশিত ‘কুরআন মজীদ’।

ইংরেজি অনুবাদে বিকৃতি :

And will send him as a Messenger to the Children Of Israel with the Message ‘I come to you with a Sign from your Lord, which is, that I will fashion out for you acreation out of clay after the manner of a bird; -THE HOLY QUR’AN by Maulawi sher Ali

উর্দু অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা :

 یعنی جس طرح پرندہ انڈے سیکر بچے نکلتا ہے میں بھی اسی طرح انسانوں میں سے روحانی قابلیت کے لوگوں کو اپنی تربیت میں لے کر ایک دن اس قابل بنا دیتا ہوں کہ وہ خدا تعالی کی طرف روحانی پرواز کرنے والے بن جاتے ہیں۔ یہ مراد نہیں کہ میں خدا بن جاؤں گا اور نہ یہ مراد ہے زندہ پرندے پیدا کروں گا۔ یہود کو حکم تھا کہ اندھوں اور مبروص کو ناپاک سمجھیں (احبار باب ১৩ و باب ২১) مسیح سے اللہ تعالی نے اس ظلم کا ازالہ کروادیا۔ اسی کو اس جگہ بیان کیا گیا۔ لوگوں نے غلطی سے یہ سمجھ لیا کہ مادرزاد اندھوں اور مبروصوں کو وہ اچھا کرتے تھے۔( تفسیر صغیر از مرزا محمود)

কাদিয়ানীদের বাংলা অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা : … উপরোক্ত ব্যাখ্যার আলোকে এবং কাদামাটির রূপক অর্থ সম্মুখে রাখিয়া, ‘তোমাদের জন্য কাদামাটি হইতে আমি পাখির অবস্থার অনুরূপ সৃষ্টি করিব… -ইত্যাদি কথার মর্ম বুঝিবার চেষ্টা করিলে, উহার তাৎপর্য দাঁড়াইবে এই যে, সাধারণ অনভিজ্ঞ লোক, যাহাদের মধ্যে উন্নতি ও জাগরণের শক্তি রহিয়াছে, তাহারা যদি ঈসা আ.-এর সংস্পর্শে আসে ও তাঁহার বাণী গ্রহণ করিয়া জীবন যাপন করে, তাহা হইলে তাহাদের জীবনে আমূল পরিবর্তন আসিয়া যাইবে। ধূলি-ধূসরিত, সংসারাসক্ত, বস্তু-কেন্দ্রিক জীবনকে জলাঞ্জলি দিয়া, তাহারা আধ্যাত্মিক আকাশের উচ্চমার্গে পাখীর মত বিচরণ করিতে সমর্থ হইবে এবং বস্তুত তাহাই ঘটিয়াছিল।…

অন্ধ ও কুষ্ঠব্যধিগ্রস্তদের রোগমুক্তির বা উপশম দানের সম্বন্ধে বলা যায় যে, এই ধরনের রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদিগকে বনী ইসরাঈল জাতি অপবিত্র ও নোংরা জ্ঞানে, সমাজের সংশ্রব হইতে দূরে রাখিত,… ‘আমি মুক্ত করিয়া দিব’ কথাটির তাৎপর্য ইহাই যে, এই সব রোগাক্রান্ত লোকেরা আইনগত ও সমাজগতভাবে, অবহেলিত অবস্থায় বহু বঞ্চনা ও অসুবিধার মধ্যে ঘৃণার পরিবেশে বাস করিত। ঈসা আ. আসিয়া তাহাদিগকে সেবা যতœ করার তাগিদ দিয়া, সমাজে তাহাদিগকে স্থান দান করিয়া, তাহাদিগকে দুর্বিসহ জীবন হইতে মুক্ত করিয়াছিলেন।…

‘আমি মৃতগণকে জীবনদান করিব’ বাক্যটির অর্থ ইহা নয় যে, ঈসা আ. মৃত ব্যক্তিকে সত্যই জীবিত করিয়াছিলেন। যাহারা প্রকৃতই মরিয়া যায়, তাহারা পৃথিবীর বুকে কখনও পুনর্জীবিত হয় না।… আধ্যাত্মিক পরিভাষা মতে, নবীগণ তাহাদের অনুসারীদের জীবনে যে বৈপ্লবিক ও অসাধারণ মহা-পরিবর্তন আনয়ন করেন, তাহাকেই বলা হয় ‘মৃতকে জীবিত করা। -বকশী বাজার থেকে প্রকাশিত ‘কুরআন মজীদ’, টীকা নং- ৪২০-ঘ; পৃষ্ঠা নং ১৩৩

ইংরেজি অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা :

In the light of the above explanation, and keeping in view the figurative sense of the word “clay,” the whole clause, I will fashion out for you a creation…become a soaring being, would mean that if ordinary men of humble origin but possessing the inherent capacity for growth and development came into contact with him and accepted his Message, they would undergo a complete transformation in their lives. From men grovelling in the dust and not seeing beyond their material cares and mundane concerns, they would become converted into birds soaring high into the lofty regions of the spiritual firmament. And this is exactly what happened…

As for healing the blind and the leprous, it appears from the Bible that persons suffering from certain diseases (leprosy, etc.) were considered unclean by the Israelites and were not allowed to have social contact with other men. The word, “I declare to be free;” signify that the legal or social disabilities and disadvantages, under which persons suffering from such maladies laboured, were removed by Jesus…

The clause, I will quicken the dead, does not mean that Jesus actually brought the dead to life. Those actually dead are never restored to life in this world… The marvellous moral transformation that God’s Messengers bring about in the lives of their followers is termed “raising the dead to life,” in spiritual terminology. -THE HOLY QURAN, P. 194-195, Commentory No : 420F ( Edited by Malik Ghulam Farid.)

দেখুন- আলোচ্য আয়াতের অর্থে এবং ব্যাখ্যায় কাদিয়ানীরা হযরত ঈসা আ. এর মু‘জেযায় তিনটি অপব্যাখ্যা করেছে-

এক. কাদামাটি দ্বারা অলৌকিকভাবে বাস্তব পাখি রূপান্তরের অর্থ বিকৃত করে- ‘সাধারণ অনভিজ্ঞ লোকের ঈসা আ. এর সংস্পর্শে জীবনে আমূল পরিবর্তন ও আধ্যাত্মিক আকাশে পাখির মতো উড়তে সমর্থ হয়েছে’ -এ অর্থ করা।

দুই. অন্ধ ও কুষ্ঠরোগীদের আল্লাহর হুকুমে নিরাময় দানের অপব্যাখ্যা করে বলা যে, ‘হযরত ঈসা রোগীদেরকে  সেবা-যত্নের তাগিদ করে সমাজের অবহেলা ও ঘৃণা থেকে তাদের মুক্ত করেছেন।

তিন. মৃতকে আল্লাহর হুকুমে জীবিত করার মু‘জেযার অপব্যাখ্যা করে বলা যে, হযরত ঈসা তাঁর অনুসারীদের জীবনে বৈপ্লবিক ও অসাধারণ পরিবর্তন এনেছেন। এরই অর্থ নাকি মৃতকে জীবিত করা!

এভাবে কাদিয়ানীরা কুরআনে বর্ণিত নবী-রাসূলগণের সমস্ত মু‘জেযার অপব্যাখ্যা করেছে। ইতিপূর্বে আমরা উল্লেখ করে এসেছি, কুরআনের সুস্পষ্ট বর্ণনার মধ্যে এজাতীয় ভিত্তিহীন প্রলাপ আরোপ করে মূলত কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্য- ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব, নবী-রসূলগণের অলৌকিকত্ব এবং সর্বোপরি রাব্বুল আলামীনের অপার কুদরতকে অস্বীকার করা। যা তাদের কুফুরির অন্যতম দলীল।

ঙ) পূর্ববর্তী অলৌকিক ঘটনার অপব্যাখ্যা

১. সূরা ফীল, আয়াত ৪

وَ اَرْسَلَ عَلَیْهِمْ طَیْرًا اَبَابِیْل. تَرْمِیْهِمْ بِحِجَارَةٍ مِّنْ سِجِّیْلٍ.  فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّاْكُوْلٍ۠.

আয়াতের প্রকৃত অনুবাদ :

তিনি তাদের  (হস্তিবাহিনীর) বিরুদ্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি প্রেরণ করেছেন। যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণের মতো করে দেন।

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের বিকৃতি :

উপরে বর্ণিত সূরা ফীল-এ আল্লাহ তাআলা ইয়েমেনের বাদশাহ আবরাহার হস্তিবাহিনীর উপর কুদরতী আযাবের বিবরণ উল্লেখ করেছেন। যারা পবিত্র কাবা শরীফ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে মক্কায় চড়াও হয়েছিল।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের উপর এক আশ্চর্য ধরনের পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে পাঠিয়ে দেন। যারা নিজেদের মুখে করে ঐ বাহিনীর উপর কংকর বর্ষণ করেছিল। সে কংকরে এমন কাজ হয়েছিল, যা গোলা-বারুদ দিয়েও সম্ভব হয় না। যার উপরই সে কংকর পড়ত, তার শরীর ভেদ করে যেত। এ আযাবে আবরাহার হস্তিবাহিনী কুরআনের ভাষায় ‘ভক্ষিত তৃণ সদৃশ’ হয়ে যায়।

কুরআনের এমন সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বর্ণনার পরও কাদিয়ানীদের ধৃষ্টতাপূর্ণ দাবি হচ্ছে, ঐ লোকদের মৃত্যু পাখির কংকর নিক্ষেপে হয়নি; বরং গুটি বসন্তের মহামারিতে হয়েছে। আর তারপর তাদের মৃতদেহ খাওয়ার জন্য পাখি এসেছে!’ দেখুন-

কাদিয়ানীদের উর্দু অনুবাদে বিকৃতি :

اور (اس کے بعد) ان کی لاشوں پر جھنڈکے جھنڈ پرندے بھیجے۔ جو ان (کے گوشت) کو سخت قسم کے پتھروں پر مارتے اور نوچتے تھے۔(تفسیر صغیر)

কাদিয়ানীদের বাংলা অনুবাদে বিকৃতি : … যাহারা (তাহাদের মৃত দেহগুলিকে ভক্ষণ করিতেছিল) কঙ্করজাত শক্ত পাথরের উপরে আঘাত করিয়া করিয়া। -বকশী বাজার থেকে প্রকাশিত কুরআন মজীদ

ইংরেজি অনুবাদে বিকৃতি :

Which ate their carrion, striking them against stones of clay. -THE HOLY QUR’AN by Maulawi sher Ali

কাদিয়ানীদের বাংলা অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা :

তাহার ঐ বাহিনীতে কয়েকটি হাতি ছিল। গুটি বসন্তের মহামারি বা প্লেগ জাতীয় এক ধরনের সংক্রামক রোগ তাহার সৈন্যদলকে একেবারে ধ্বংস করিয়া ফেলে। তাহাদের  মৃত গলিত দেহগুলিকে দলে দলে পাখী আসিয়া খাইয়া শেষ করে। -বকশী বাজার থেকে প্রকাশিত কুরআন মজীদ, টীকা নং-৩৪৩৬; পৃষ্ঠা নং ১৩৬১

ইংরেজি অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা :

…He had a number of elephants with him. A plague or epidemic of the nature of smallpox, completely destroyed his army and their rotting bodies were eaten up by swarms of birds. -THE HOLY QURAN, P. 1825, Commentory No : 3436 ( Edited by Malik Ghulam Farid.

লক্ষ্য করুন- পবিত্র কা‘বা শরীফ ধ্বংস করার জন্য ইয়েমেনের বাদশাহ হাতির বাহিনীসহ আগমন করলে আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে পাখি প্রেরণ করেন। যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করেছিল। ফলে তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়।

এ কুদরতী আযাবের ঘটনার বিবরণে কাদিয়ানীরা তিনটি বিকৃতি করেছে-

এক. ‘আল্লাহ আবরাহার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি প্রেরণ করেছেন’- একথার পরিবর্তে অর্থ করেছে, ‘তাদের লাশের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি প্রেরণ করেছেন।

দুই. ‘পাখিরা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল’- এর পরিবর্তে আয়াতের অর্থ করেছে, ‘যারা তাদের মৃতদেহগুলোকে ভক্ষণ করছিল কংকরজাত শক্ত পাথরের উপর আঘাত করিয়া করিয়া’।

তিন. আয়াতে পরিষ্কার বলা হচ্ছে যে, পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে এসে কুদরতী পাথর দ্বারা তাদেরকে ধ্বংস করেছে। কিন্তু কাদিয়ানীরা তাদের টীকায় দাবি করেছে, তাদের মৃত্যু হয়েছে গুটিবসন্ত জাতীয় রোগে।

বলাবাহুল্য, এসবগুলোই কুরআনের চরম বিকৃতি এবং ভিত্তিহীন অপব্যাখ্যা। হাদীস, তাফসীর এবং আরবী ভাষায় যার কোনো প্রমাণ নেই।

চ) কিয়ামত সংশ্লিষ্ট বিবরণসমূহকে ‘মির্যা কাদিয়ানীর কাল’ সাব্যস্ত করতে বিকৃতি

কাদিয়ানীদের আরেক অদ্ভূত প্রবণতা হল, কিয়ামতের বিভীষিকা ও ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা-সম্বলিত বিভিন্ন আয়াতের অর্থে টানা-হেঁচড়া করে নিজেদের ‘কথিত প্রতিশ্রুত মাসীহ’-এর যুগকে প্রমাণ করা। তাদের অভিসন্ধি হচ্ছে, মির্যা কাদিয়ানী ও তার যুগের বিভিন্ন পরিস্থিতি ও পরিবর্তনকে আয়াতের উদ্দেশ্য-ইঙ্গিত ও প্রতিপাদ্য দাবি করে কাদিয়ানীর ‘আবির্ভাবের’ পক্ষে দলীল উৎপাদন করা। এখানে ছোট্ট একটি সূরা থেকে এ বিকৃতি প্রবণতার কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল।

মনে রাখতে হবে, নিম্নের সবগুলি আয়াতই কিয়ামতের প্রলয় সম্পর্কিত। সূর্য দীপ্তিহীন হওয়া, তারকা খসে পড়া, পাহাড় চালিত হওয়া, উটনী উপেক্ষিত এবং বন্য পশু একত্রিত হওয়া এবং সাগর-নদী উত্তাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সবই কিয়ামতের ধ্বংসযজ্ঞের বিবরণ। কিন্তু কাদিয়ানীদের বিকৃতি দেখুন-

১. সূরা তাকভীর, আয়াত ১

اِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ.

আয়াতের প্রকৃত অনুবাদ : যখন সূর্যকে দীপ্তিহীন করা হবে।

কাদিয়ানীদের অনুবাদ ও টীকা : যখন সূর্যকে আবৃত করা হইবে। টীকা নং-৩২৬১: আধ্যাত্মিক অন্ধকার যখন বিশ্বকে গ্রাস করিয়া ফেলিবে, আধ্যাত্মিক সূর্য (মহানবী সা.)-এর আলো যখন নিষ্প্রভ হইয়া আসিবে অথবা প্রায় তিরোহিত হইয়া যাইবে।

কাদিয়ানীদের উর্দু অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা :

 یہ اس عارضی ضعف کی طرف اشارہ ہے جو مسلمانوں پر آنے والا تھا۔ رسول کریم صلی اللہ صلوسلم عل          کو قرآن مجید میں سورج کہا گیا ہے اور اس آیت میں بتا یا گیا ہے کہ ایک زمانہ میں سورج پر پردہ ڈال دیا جائے گا۔ یعنی محمد رسول اللہ صلوسلم عل          کی عظمت لوگوں کے دلوں میں اتنی نہیں رہے گی جس کے آپ مستحق ہیں۔

ইংরেজি অনুবাদ ও টীকা  :

When the sun is folded up.

Commentory No : 3261 When there will be spiritual darkness all over the world—the light of the Spiritual Sun (The Holy Prophet) having become dim or disappeared altogether. Or, it may refer to the eclipses of the sun and the moon, -THE HOLY QURAN ( Edited by Malik Ghulam Farid P. NO: 1736.)

২. সূরা তাকভীর, আয়াত ২

وَ اِذَا النُّجُوْمُ انْكَدَرَتْ.

আয়াতের প্রকৃত অনুবাদ : এবং যখন নক্ষত্ররাজি খসে পড়বে।

কাদিয়ানীদের বিকৃত অনুবাদ ও টীকা : এবং যখন নক্ষত্ররাজি নিষ্প্রভ হইবে। টীকা নং-৩২৬২ : আন্ নাজমু (তারকা) বলিতে হক্কানি উলেমাকে বুঝাইয়াছে।… অতএব, আয়াতটির এইরূপ অর্থ হইতে পারে: যখন ধর্মীয় নেতাগণের পদস্খলন ঘটিবে এবং তাহাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি একেবারে কমিয়া যাইবে। আয়াতটিতে ধর্মীয় সংস্কারকের আগমনকালে অসাধারণ সংখ্যায় উল্কাপাতের ঘটনা ঘটিয়া থাকে- এই কথার প্রতিও ইঙ্গিত থাকিতে পারে। -কুরআন মজীদ, পৃষ্ঠা নং ১২৭৭

ইংরেজি অনুবাদের টীকা :

An-Nujum (stars) signifies religious Ulema. This meaning is supported by a well-known saying of the Holy Prophet: ‘My Companions are like stars, whomsoever you will follow, you will receive right guidance’ (Baihaqi). So the verse may mean: When religious leaders will become corrupt and will cease to exercise any influence. The reference may also be to the falling of the stars in exceptionally large numbers in the time of a Divine Reformer. – Commentory No : 3262; P. NO: 1736

৩. সূরা তাকভীর, আয়াত ৩

وَ اِذَا الْجِبَالُ سُیِّرَتْ.

আয়াতের প্রকৃত অনুবাদ : যখন পর্বতসমূহকে চলমান করা হবে। ( অর্থাৎ কিয়ামতের মহাপ্রলয়ের সময় যখন পাহাড়সমূহকে তার স্থান থেকে তুলে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলা হবে।

কাদিয়ানীদের বাংলা অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা : যখন পাহাড়গুলোকে ডিনামাইট দ্বারা বিধ্বস্ত করিয়া উহার মধ্য দিয়া রাস্তা তৈরি করা হইবে। রূপকভাবে নিলে অর্থ দাঁড়াইবে: শাসকবর্গের কর্তৃত্ব খর্ব হইয়া যাইবে। -কুরআন মজীদ, টীকা নং-৩২৬৩; পৃষ্ঠা নং ১২৭৭

ইংরেজি অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা :

When mountains will be blown away by dynamite and roads will be made through them; or metaphorically, when the authority of rulers will become undermined; the word Jabal meaning, the chief of a people (Lane). – Commentory No : 3263; P. NO: 1736

৪. সূরা তাকভীর, আয়াত ৪

وَ اِذَا الْعِشَارُ عُطِّلَتْ.

আয়াতের প্রকৃত অনুবাদ : এবং যখন দশমাসের গর্ভবতী উটনীও উপেক্ষিত হবে। (অর্থাৎ যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে, তখন সবাই এমন দিশেহারা হয়ে পড়বে যে, কারো অর্থ-সম্পদ সামলানোর মতো ফুরসত থাকবে না। এমনকি আরবদের নিকট সবচেয়ে দামী সম্পদ গর্ভবতী উটনীও উপেক্ষিত হবে।

কাদিয়ানীদের উর্দু অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা :

 یعنی ریل اور موٹر ایجاد ہو جائیں گے تو حجاز میں اونٹوں پر سفر کرنے کی ضرورت بہت کم ہو جائے گی۔ دس مہینے کی گابھن اونٹنی اس لیے کہا کہ جب اونٹنی دس مہینے کی گابھن ہو تو اس بچہ کے انتظار میں اس کی قیمت بڑھ جاتی ہے اور تبھی اسے چھوڑا جاسکتا ہے جب اونٹ کی ضرورت باقی نہ رہے۔ چناچہ ریل ، ہوائی جہاز اور موٹر کی ایجاد نے اس پیشگوئی کو پورا کردیا ہے۔

কাদিয়ানীদের বাংলা অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা : আয়াতটির অর্থ : যখন আরবের মত মরু দেশে পর্যন্ত উটনীর কোনো মূল্য বা প্রয়োজনীয়তা থাকিবে না। ইহা এই কথার প্রতি ইঙ্গিত করিয়াছে যে, যান-বাহনরূপে উটের ব্যবহার উঠিয়া যাইবে এবং উন্নত ও দ্রুতগতি সম্পন্ন যান-বাহন, মোটরগাড়ি, রেলগাড়ি, জাহাজ, এরোপ্লেন ইত্যাদি ইহার স্থান দখল করিয়া লইবে। -কুরআন মজীদ, টীকা নং-৩২৬৪; পৃষ্ঠা নং ১২৭৭

ইংরেজি অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা :

The verse means that when she-camels will lose their importance even in Arabia. The reference seems to be to the replacement of camels by better and swifter means of transport—railway trains, steamships, motor cars, aeroplanes, etc.- Commentory No : 3264; P. NO: 1736-1737

৫. সূরা তাকভীর, আয়াত ৫

وَ اِذَا الْوُحُوْشُ حُشِرَتْ.

আয়াতের প্রকৃত অনুবাদ : যখন বন্য পশুগুলিকে একত্র করা হবে। (অর্থাৎ কিয়ামতের বিভীষিকাময় অবস্থা দেখে বন্য পশুরাও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সব জড়ো হয়ে যাবে।

কাদিয়ানীদের উর্দু অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা :

 یعنی چڑیا گھر بنائے جائیں گے یا یہ کہ وحشی انسان متمدن ہو جائیں گے یا یہ کہ وحشی قوموں کو ان کے ملکوں سے نکال دیا جائے گا جیسے امریکہ اور آسٹریلیا میں ہوا۔ حشرت- کے معنی جلاوطن کرنے کے بھی ہوتے ہیں (اقرب

কাদিয়ানীদের বাংলা অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা : …আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায়, যখন জন্তু-জানোয়ার ও পশুপাখিকে চিড়িয়াখানায় একত্রিত করা হইবে; অথবা যখন আদিবাসী লোকদিগকে ছত্রভঙ্গ বিচ্ছিন্ন অবস্থা হইতে আনিয়া নাগরিক সম্প্রদায়রূপে সংগঠিত করা হইবে, অথবা যখন তাহারা দলবদ্ধ হইয়া স্বীয় মাতৃভূমি ত্যাগ করিতে বাধ্য হইবে। -কুরআন মজীদ, টীকা নং-৩২৬৫; পৃষ্ঠা নং ১২৭৮

ইংরেজি অনুবাদের টীকা :

In view of the different meanings of the root-word Hushira (Lane), the verse would signify: When animals will be collected in zoos, or when primitive people will be settled in organized civil communities; or, when they will be compelled to leave their homelands. – Commentory No : 3265; P. NO : 1737

৬. সূরা তাকভীর, আয়াত ৬

وَ اِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ.

আয়াতের প্রকৃত অনুবাদ : এবং যখন সাগরগুলিকে উত্তাল করে তোলা হবে। (অর্থাৎ কিয়ামত সংঘঠিত হওয়ার সময় সাগর ফুঁসে উঠবে। সাগরগুলো একাকার হয়ে ভয়ানক রূপ ধারণ করবে।

কাদিয়ানীদের উর্দু অনুবাদে বিকৃতি :

اور جب دریاؤں (کے پانیوں) کو نکال کر دوسرے دریاؤں یا نہروں میں ملا دیا جائے گا

কাদিয়ানীদের উর্দু অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা :

یہ موجودہ زمانہ کی خبر ہے اور آخری زمانہ میں انجنیرنگ کی ترقی پر دلالت کرتی ہے ۔ چنانچہ اس وقت پاکستان میں بھی کئی دریا ملائے جارہے ہیں اور ہندوستان میں بھی اور روس اور امریکہ میں بھی اور جرمن میں تو ربع صدی سے ملائے جاچکے ہیں۔ سجر – کے معنے خشک کردینے کے بھی ہوتے ہیں اوراسی لیے مفسرین نے اس کے یہ معنے کیے ہیں کہ دریا خشک کردیئے جائیں گے لیکن سجر کے یہ بھی معنے ہوتے  کہ اس کا پانی نکال کر اپنی مرضی کے مطابق کہیں لے جائیں جو نہروں کا اصول ہے (اقرب) پس دونوں لحاظ سے یہی معنے بنتے ہیں کہ نہریں نکال نکال کر دریا ؤں کو خشک کیا جائے گا نہ کہ ان کا پانی آسمان کی طرف اڑ ا کر خشک کیا جائے گا۔تفسیر صغیر

তাদের বাংলা অনুবাদের টীকায় কৃত অপব্যাখ্যা : আয়াতের অর্থ : যখন সেচ কার্য বা বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদির জন্য নদী হইতে পানি অন্যদিকে প্রবাহিত করা হইবে। অথবা সমুদ্রগুলিকে সংযুক্ত করা হইবে, অথবা গ্রাম-গ্রামান্তর হইতে মানুষ সরিয়া আসিয়া শহরগুলিকে অতিরিক্ত জন-সংখ্যার চাপে ভারাক্রান্ত করিয়া ফেলিবে। ‘সুজ্জেরা’ শব্দটির মধ্যে এই সব অর্থই রহিয়াছে (মুফরাদাত, মুনজিদ, লেইন)। -টীকা নং-৩২৬৬; পৃষ্ঠা নং ১২৭৮

ইংরেজি অনুবাদ ও টীকা :

And when the rivers are drained away

Commentory No : 3266

The verse signifies: When the waters of rivers will be drained away for irrigation and other purposes; or, when in sea-fights very large ships will be set on fire and it would seem as if the seas had caught fire; or, when large oceans will be joined together by means of canals; or, when rural population will go into towns and cities will overflow with their inhabitants. The word, Sujjira, possesses all these meanings (Lane). THE HOLY QURAN, P. 1737

শেষকথা

এভাবে কুরআনের অগণিত স্থানে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এবং তার অনুসারী সম্প্রদায় যে বিপুল ও ভয়াবহ অপব্যাখ্যার স্পর্ধা করেছে এবং আজো নির্দ্বিধায় করে যাচ্ছে, তাকে বিকৃতির মহোৎসব বলাই অধিক সঙ্গত হবে।

বিগত জানুয়ারী মাসে সুন্দরবনে কাদিয়ানীরা তাদের কুরআন প্রদর্শনীর ব্যানারে লিখেছিল- ‘৬৫ভাষায় বিরল কুরআন প্রদর্শনী’। তারা ‘বিরল’ কথাটি যে অর্থেই ব্যবহার করে থাকুক, এক দিক থেকে এ কথাটির সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত। কারণ, যে কুরআন তারা মুসলমানদের সামনে প্রদর্শন করে যাচ্ছে, তা শুধু বিরলই নয়; মুসলিম উম্মাহ ইতিপূর্বে কখনো চোখেও দেখেনি। ইসলামের সোনালী যুগ হতে এই সুদীর্ঘ দেড় হাজার বছরে মুসলিম উম্মাহ কুরআনের এমন বিকৃত অর্থ-ব্যাখ্যার সঙ্গে সম্পূর্ণ অপরিচিত। এখানে সামান্য কিছু উদাহরণ উল্লেখ করা হল। অন্যথায় কাদিয়ানীদের কুরআন বিকৃতি আরো ব্যাপক, আরো মারাত্মক।

আমাদের ভালোকরে মনে রাখতে হবে, ইঙ্গ-মার্কিন ও ইসরাঈলের মদদপুষ্ট অমুসলিম কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের নাপাক উদ্দেশ্য- বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় কুরআনের এমন এক বিকৃত ব্যাখ্যা পরিবেশন করা, যা ইসলামের পরিবর্তে শুধু কাদিয়ানিবাদের প্রচার করবে। যা ইসলামের নবীর পরিবর্তে মহা-প্রতারক কাদিয়ানীর গুণগান গাইবে। নবীগণের সম্মানকে ভূলুন্ঠিত করে দাজ্জাল কাদিয়ানীকে সম্মানিত করবে। আর এর সবই তারা করবে স্বয়ং ইসলামের নাম দিয়ে। ফলে সরলমনা মানুষ কাদিয়ানিবাদকেই ‘প্রকৃত’ ইসলাম মনে করবে।

কাদিয়ানীদের টার্গেট এমন এক ‘কুরআন’ মুসলমানদের হাতে হাতে ধরিয়ে দেওয়া, যা মুসলিম সমাজকে তাদের অজান্তেই ইসলাম থেকে বের করে সোজা জাহান্নামের পথে নিয়ে যাবে। মুহাম্মাদে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কদম থেকে সরিয়ে হতভাগ্য মির্যা কাদিয়ানীর কাতারে দাঁড় করাবে। মদীনা মুনাওয়ারা থেকে ঘুরিয়ে কুফরের কেন্দ্র কাদিয়ানের দিকে মুখ করে দিবে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, কুরআন প্রচারের কথা বলে, কুরআনের প্রকৃত (?) জ্ঞান পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে দেয়ার শিরোনাম দিয়ে কাদিয়ানীরা স্বধর্মের মিশনারী কার্যক্রমই চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী।

বাংলাদেশ সরকারের উচিত, এধরনের বিকৃতিমূলক প্রদর্শনী কঠোরভাবে দমন করা। অন্যের ধর্মগ্রন্থে হস্তক্ষেপ করার অপরাধে, পবিত্র কুরআন বিকৃত করার অপরাধে, মুসলিম সমাজকে ধর্মীয়ভাবে বিভ্রান্ত করা এবং তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অপরাধে অবিলম্বে কাদিয়ানী বিরোধী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

কাদিয়ানীরা অমুসলিম। কয়েক যুগ পূর্বেই গোটা মুসলিম উম্মাহ তাদেরকে বিশ্বব্যাপী অমুসলিম ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ সরকারের অতি দ্রুত তা কার্যকর করা উচিত। যাতে কাদিয়ানীরা অপরাপর সংখ্যালঘুর ন্যায় অমুসলিম সংখ্যালঘু হিসেবে সর্বসমক্ষে চিহ্নিত হয় এবং মুসলমানদের আকীদা, বিশ্বাস এবং পবিত্র কুরআনের অপব্যাখ্যা করার দুঃসাহস না করে।

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান, যদি প্রকৃতই আপনাদের কুরআনের খেদমত করার অভিপ্রায় থাকে, তবে যার প্রতি এ কুরআন নাযিল হয়েছিল- সর্বপ্রথম সেই খাতামুন্নাবিয়্যীন- সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ঈমান এনে তওবা করে ফিরে আসুন। তাঁর রেখে যাওয়া কুরআনকে তাঁরই অনুসৃত ব্যাখ্যার আলোকে গ্রহণ করুন এবং নবুওতের মিথ্যা দাবিদার মির্যা গোলাম আহমদকে পুরোপুরি বর্জন করুন। ইসলামের দ্বার আপনাদের জন্য সদা-উন্মুক্ত। (সমাপ্ত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here