Monday, June 21, 2021
Home আধুনিক মাসায়েল কুরআন হাতে নিয়ে চুমু খাওয়া বা কুরআন শরীরে লাগানো

কুরআন হাতে নিয়ে চুমু খাওয়া বা কুরআন শরীরে লাগানো

 

মুফতি মাসউদুর রহমান ওবাইদী

কুরআন হাতে নিয়ে চুমু খাওয়া বা কুরআন শরীরে লাগানো

প্রশ্ন: অনেকে মাথা নিচু করে কুরআনের উপর কপাল ছোঁয়ায় বা চুমু খায়-এটা কি ঠিক?

উত্তর: অনেক মানুষ আছে যারা প্রতিবার কুরআন হাতে নিয়ে একটু মাথা নিচু করে বা না করে চুমু খায়, কপালে লাগায়, বুকে জড়িয়ে ধরে, শরীরে লাগায়….আবার তা রাখার সময়ও এমন করে। এটা তারা অভ্যাসে পরিণত করেছে। মূলত: এই আচরণ দ্বারা তারা কুরআনের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে চায়। কেউ হয়ত কুরআন থেকে বরকত নেয়ার উদ্দেশ্যে এমনটি করে।

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

যাহোক এ কাজটি শরিয়ত সম্মত নয়। কারণ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবীগণ কুরআনের লিখিত কোন অংশ নিয়ে এমনটি করেন নি। কুরআন লিপিবদ্ধ হওয়ার পরও সাহাবী ও তাবেঈনগণ সালাফগণ এমনটি করতেন না।

কেউ যদি নিয়মিত এমন করে তাহলে তা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হবে।

আয়েশা (রাঃ) রাসূলুরাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ

“যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করল যা দ্বীনে নেই সে কাজটি আল্লাহ কাছে পরিত্যজ্য।” (বুখারী ও মুসলিম)

অন্য হাদিসে এসেছে:

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ.

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০)।

➧ কেউ যদি প্রশ্ন করে যে, কুরআনের প্রতি ভক্তি ও মোহাব্বতের উদ্দেশ্যে এমনটি করলে সমস্যা কোথায়?

আমরা বলব, নি:সন্দেহে কুরআনের প্রতি সাহাবি-তাবেঈনদের মোহাব্বত আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। আশা করি, এ বিষয়ে কোন জ্ঞানী ব্যক্তি দ্বিমত করবে না। সুতরাং তারা কুরআনের প্রতি যেভাবে মোহাব্বত করতেন তাই সমস্ত মুসলিম জাতির জন্য অনুসরণীয়।

যাহোক, তারা কখনো কুরআনে চুমু খেতেন না বরং তারা নিয়মিত তিলাওয়াত করতেন, কুরআন বুঝতেন, কুরআনের বিধান অনুযায়ী চলতেন এবং কুরআনের বিধান সর্বত্র প্রচার-প্রসার করতেন। এর চেয়ে বড় মোহাব্বত আর কিছু নাই।

সুতরাং তাদের মত করেই যদি আমরা কুরআনের প্রতি ভালবাসা প্রাকাশ করি এতেই আমাদের কল্যাণ রয়েছে। এর বাইরে কোন কিছুতে কল্যাণ নেই।

➧ অবশ্য কেউ যদি হঠাৎ আবেগের বশ:বর্তী হয়ে কখনো কখনো এমনটি করে ফেলে তাহলে তাকে বিদআত বলা যাবে না। যেমন:

কোন ব্যক্তি হয়ত অনেক দিন কুরআন থেকে দূরে ছিল। হঠাৎ কুরআন দেখতে পেয়ে মনের অজান্তেই তা বুকে জড়িয়ে ধরল ও আবেগে চুমু খেল। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেতে পারে নি। কিন্তু সবসময় এমটি করা তার অভ্যাস নয়। (অর্থাৎ এটাকে সে ইবাদত বা সুন্নত মনে করে নিয়মিত করে না-যা অনেকেই করে)। তাহলে সেটাকে বিদআত বলা ঠিক হবে না।

সে মূলত: আবেগে হঠাত এমনটি করে ফেলেছে- এটাকে ইবাদত বা সুন্নত মনে করে করে নি। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা অনিচ্ছা বশত: ভুলকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

আল্লাহ তালালা বলেন, رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا

“হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা হঠাৎ অনিচ্ছায় কোন ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না।” (সূরা বাকারা: ২৮৬)

সুতরাং এ কারণে আশা করা যায়, আল্লাহ এতে গুনাহ লিখবেন না। তবে নিয়মিত ও ইচ্ছাকৃত ভাবে এমনটি করা ঠিক নয়।

➧ আর কুরআন শরীরে লাগিয়ে বরকত নেয়ার উদ্দেশ্য থাকলে তা শিরক হিসেবে পরিগণিত। কারণ, কুরআনের গায়ে বরকত লেগে নেই। বরং কুরআন তিলাওয়াত ও আমলে বরকত রয়েছে। তাই বরকত পেতে চাইলে কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে এবং কুরআনের বিধান অনুসারে জীবন পরিচালনা করতে হবে। আল্লাহ তৌফিক দান করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম।

জনপ্রিয় খবর