Monday, June 21, 2021
Home ইসলাম প্রতিদিন ফরজ নামাজের পরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দোয়া

ফরজ নামাজের পরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দোয়া

মুফতি মাসউদুর রহমান ওবাইদী

ফরজ নামাজের পরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি  দোয়া 

 

একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল, কোন দোয়া কবুলের অধিক সম্ভাবনা রাখে? তিনি ইরশাদ করলেন, গভীর রাতের দোয়া আর ফরজ নামাজ পরবর্তী দোয়া। -সহিহ তিরমিজি: ৩৪৯৯

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর নিম্নবর্ণিত দোয়াসমূহ পাঠ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ইসলামি স্কলাররা। দোয়া-(১)

 

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

উচ্চারণ:  আস্তাগফিরুল্লাহ

 

অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। 

 

উপরের এ বাক্যটি তিন বার পাঠ করতে হয়। -দলিলঃসহিহ মুসলিম: ১৩৬২

 

দোয়া-(২)

 

اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ

 

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আংতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়াযাল জালালি ওয়াল ইকরাম। (দোয়াটি আরবী দেখে শুদ্ধভাবে উচ্চারন করতে হবে)

 

অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার গুণবাচক নাম সালাম। তুমি শান্তিদাতা। তুমি কল্যাণময়। তুমি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। 

‍উল্লেখিত দোয়াটি এক বার পাঠ করা। দলিলঃ-সহীহ মুসলিম শরিফ: ১৩৬২

দোয়া-(৩)

 

ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়লে তার আর বেহেস্তের মধ্যে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো দূরত্ব থাকেনা। (নাসাঈ)

আয়াতুল করসী হলোঃ

 

اللّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيم

 

উচ্চারণ:‬ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বইয়্যুম লা তা’খুযুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিসসামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মাং  যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইংদাহু ইল্লা বি ইযনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিইহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা সাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম।

 (দোয়াটি আরবী দেখে শুদ্ধভাবে উচ্চারন করতে হবে)

‪অর্থ‬: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

 

দোয়া-(৪)

 

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ اَللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

 

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু। ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদির। আল্লাহুম্মা লা-মানিয়া লিমা আতাইতা। ওয়া-লা মুতিয়া লিমা মানা’তা ওয়ালা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু। 

 

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক। তার কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্বের মালিক তিনি। সকল প্রশংসা তার। তিনি সব কিছুর ওপর সামর্থ্যবান। আপনি দিলে কেউ বাঁধা দিতে পারে না। আপনি না দিলে কেউ দিতে পারে না, কেউ উপকার করতে পারে না। 

 

এ দোয়াটি একবার পাঠ করতে হয়। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

 (দোয়াটি আরবী দেখে শুদ্ধভাবে উচ্চারন করতে হবে)

 

দোয়া-(৫) সাইয়িদুল ইস্তিগফার ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া: সাইয়িদুল ইস্তিগফার এর ফজিলত:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দোয়া পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে, সে জান্নাতী হবে’।

 সাইয়েদুল ইস্তেগফার   হলো

 

।اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ-

 

সাইয়েদুল ইস্তেগফার বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রাববী, লা ইলা-হা ইল্লা আংতা, খালাক্বতানী ওয়া আনা ‘আবদুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছনা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী, ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুযুনূবা ইল্লা আংতা।((দোয়াটি আরবীতে শুদ্ধভাবে উচ্চারন করে পড়তে হবে))

 

 অর্থ হলো:‘হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হ’তে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই’। (১০৫)(১০৫) . বুখারী, মিশকাত হা/২৩৩৫ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘ইস্তিগফার ও তওবা’ অনুচ্ছেদ-৪।

 

দোয়া-(৬)

“”সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি”

 

অর্থঃআল্লাহ পবিত্র এবং সকল প্রসংশা,তারই।

 

সকালে ১০০বার আর সন্ধায় ১০০ বার পড়লে 

 কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশি নেকি নিয়ে কেউ আল্লাহর দরবারে হাজির হতে পারবে না। তবে যারা এই দোয়ার আমল করে, তারা ছাড়া। (মুসলিম, হাদিস : ২৬৯২)

 

দোয়া-(৭)

প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের পর সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার ও আল্লাহু আকবার ৩৪ বার পাঠ করা। -দলিলঃসহিহ মুসলিম: ১৩৭৭

 

অথবা সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার। এর পর ১ বার

لَا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ

 

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু। ওয়ালাহুল হামদু। ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। 

 

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক। তার কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্বের মালিক তিনি। সকল প্রশংসা তার। তিনি সবকিছুর ওপর সামর্থ্যবান। -সহিহ মুসলিম: ১৩৮০

দোয়া-(৮)

 

اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ الْجُبْنِ وَأَعُوْذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا

 وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

 

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল জুবনি। ওয়া আউযু বিকা আন আরুদ্দা ইলা আরযালিল উমুরি। আউযুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনিয়া। আউযুবিকা মিন আযাবিল কাবরি। 

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ভীরুতা থেকে আশ্রয় চাই। বার্ধক্যজনিত অক্ষমতা থেকে আশ্রয় চাই। দুনিয়ার ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাই। 

বর্ণিত দোয়াটিও এক বার পাঠ করতে হয়। -সহিহ বোখারি: ২৮২২

দোয়া-(৯)যাবতীয় কঠিন দুশ্চিন্তা, পেরেশানী থেকে মুক্তি  ও ঝণ পরিশোধের দোয়া:

দোয়াটি সকালেও সন্ধায় পড়তে হয়:

দোয়াটি হল:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ ‏”‏ ‏

 

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি ওয়া আউযুবিকা মিনাল আজঝি ওয়াল কাসালি ওয়া আউযুবিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়া আউযুবিকা মিন গলাবাতিদ দাইনি ওয়া ক্বহরির রিজাল। (দোয়াটি আরবী দেখে শুদ্ধভাবে পড়তে হবে)

 

দোয়াটির অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি যাবতীয় চিন্তা ও পেরেশানি থেকে। তোমার আশ্রয় প্রার্থণা করছি সবধরণের অক্ষমতা ও অলসতা থেকে। আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা ও কৃপনতা থেকে। আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি অত্যাধিক ঋণ ও মানুষের ক্রোধ থেকে।

 

((((দলিলঃআবু দাউদ শরীফ হাদিস নং ১৫৫৫)))))

 

দোয়া-(১০)

সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস এক বার করে তেলাওয়াত করা। -দলিলঃসুনানে আবু দাউদ: ১২২৫

 

দোয়া-(১১)

 

‎ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻰ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺍﻟْﻌَﺎﻓِﻴَﺔَ

“আল্লাহুম্মা ইন্নি আস’আলুকাল-আফ্যিয়াহ”

 

অর্থঃ হে আল্লাহ!তোমার কাছে আমি নিরাপত্তা ও সুস্ততা কামনা,করছি।

 

দলিলঃসহীহ তিরমিজি:৩৫১৪

দোয়া-(১২)

اَللَّهُمَّ أَعِنِّى عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

 

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আইন্নি আলা যিকরিকা ওয়া শোকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে তোমার জিকির করার সুযোগ দাও। তোমার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায়ের সুযোগ দাও। সুন্দরভাবে তোমার ইবাদতের সুযোগ দাও।

 

এই দোয়াটিও এক বার করে পাঠ করা। -সুনানে আবু দাউদ: ১৫২৪

আল্লাহ তাআলা যেন সবাইকে উক্ত দোয়াগুলো নিয়মিত আমল করার তওফীক  দান করেন।আমিন।

জনপ্রিয় খবর