Monday, June 21, 2021
Home মুসলিম বিশ্ব মধ্যেপ্রাচ্যের ঈগল সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবী

মধ্যেপ্রাচ্যের ঈগল সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবী

ইয়াহইয়া বিন আবু বকর ৷।

৮৮ বছর পর খৃস্টানদের দখল থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসকে আযাদ করতে  এবং খ্রিস্টান ক্রুসেডারদেরকে পর্যদুস্ত করায় মহান সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবীকে মুসলিম উম্মাহর সবচে সাহসী বাহাদুর সিপাহসালার হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়৷

তিনিই প্রথম মুসলিম শাসক যিনি “খাদিমুল হারামাইন” তথা দুই হারামের খাদেম উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন৷ কারন তিনি বাইতুল্লার বেশ খেদমত করতেন৷ একই সঙ্গে হিজাজ অঞ্চলের প্রতি তিনি বিশেষ মনোযোগ দিতেন৷

মুসলমানরা ভালোবেসে তাকে “ আস সুলতানুল মিসালি” তথা আদর্শ বাদশা উপাধি দান করেছিল৷

খৃস্টানরা তাকে “ আল ক্বাঈদুল মুসলিমুল হাকিকি” সত্যিকার মুসলিম সিপাহসালার আখ্যা দান করে৷

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন ভাষায় তাঁর চারিত্রিক মাধুর্যতা, খোদা ভীরুতা, অনুপম রণকৌশল, ন্যায়পরায়ণতা ও বীরত্বের প্রশংসায় অসংখ্য বই রচনা করেছেন৷

এ মহান মনীষীর জন্ম: ১১৩৮ খৃস্টাব্দে। ইরাকের তিকরিত শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন৷ তাঁর পিতার নাম নাজমুদ্দীন আল আইয়্যুবী৷ তিনি সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গীর পক্ষ থেকে তিকরীত, দিমাশক এবং বা’লাবাক্ক অঞ্চলের গভর্ণর ছিলেন৷

সুলতান সালাহুদ্দীন ক্রসেডারদের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে অতুলনীয় যোগ্যতা সাহস ও বিরত্বের স্বাক্ষর রাখেন,  ফলে তাকে দামেশকের সেনাবাহীনির কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়৷

১১৬৪-১১৬৯ সালে তিনি স্বীয় চাচা (তিনি নুরুদ্দীন জংঙ্গীর সেনা কমান্ডার ছিলেন) শেরেকোহের সাথে খৃস্টান এবং খৃস্টানদের মিত্র ফাতেমী খলিফার বিরুদ্ধে অনেক যুদ্ধে অংশ নেন৷ এতে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এসব কারণে সরকারী উচ্চ পদে তিনি উন্নীত হন৷ ১১৬৯ সালে চাচার ইন্তেকালের পর তিনি মিসরে সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গীর নায়েব হিসেবে নিযুক্ত হন৷ ১১৭১ সালে তিনি ফাতেমী খেলাফাতের অবসান ঘটান৷

১১৭৪ সালে হিজাজ এবং ইয়েমেন বিজয় করেন৷ ১১৮১ সালে ফুরাত নদী পার হয়ে বেশ কিছু অঞ্চল ও শহর বিজয় করেন৷ তার মধ্যে ‘দিয়ারু বকর, হার্রান, আওরফা, রিক্কা , খারবোন, র’সুল আইন দারা ইত্যাদী৷

১১৮৭ সালের জুলাই মাসে হিত্তিন যুদ্ধে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে তিনি ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করেন এবং খৃস্টানদেরকে পর্যদুস্ত করে দেন৷ একই বছর ২০ সেপ্টেম্বর তিনি ফিলিস্তিনের কুদস শহর অবরোধ করেন এবং অক্টোবরের দুই তারিখে অনবরত ৮৮ বছর খৃস্টানদের দখলে থাকা পবিত্র মাসজিদে আকসাকে আজাদ করেন৷

১১৮৯ সালে খৃস্টানরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে ‘আক্কা’ শহর অবরোধ করে। টানা দুই বছর যুদ্ধের পর তারা আক্কা দখল করে নেয়৷ তবে সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবী তাদের বাইতুল মুকাদ্দাস ও কুদস শহর দখল করার সকল চেষ্টা নস্যাৎ করে দেন৷ এরপর ১১৯১ সালে সুলতান ও খৃস্টানদের মাঝে ৪ বছর ৮ মাসের জন্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়৷

৪ মার্চ ১১৯৪ সালের দামেশকে তিনি ইন্তেকাল করেন৷ সিরিয়ার দামেশক নগরীর মসজিদে উমাবীর পাশে তাকে সমাহিত করা হয়৷ বর্তমান মজলুম মসজিদে আকসা আরেক সালাহুদ্দীন আইউবীর অপেক্ষার প্রহর গুনছে৷

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সী

জনপ্রিয় খবর