Wednesday, June 16, 2021
Home ইসলাম প্রতিদিন আলেমদের উপর হামলা ন্যাক্কারজনক: শায়খ আহমাদুল্লাহ

আলেমদের উপর হামলা ন্যাক্কারজনক: শায়খ আহমাদুল্লাহ

শিখো বাংলায়.কম: আলেমদের উপর হামলা অত্যান্ত ন্যাক্কারজনক বলে মন্তব্য করেছেন আস সুন্নাহ ফাউণ্ডেশনের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার ও দায়ী শায়খ আহমাদুল্লাহ।

তিনি সাম্প্রতিক সময়ে আলেমদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও দেশের শীর্ষ আলেমদের করণীয় সম্পর্কে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেন, শুরুতেই ওয়াজের মাহফিলে আমরা দেখতে পেলাম তরুণ আলেম মুফতি এম হাসিবুর রহমানের  উপর আক্রমণ করা হলো। তার গাড়ী ভাঙ্গচুর করা হলো। এরপর লালবাগের রাস্তায় প্রকাশ্যে দিবালোকে মুফতি জসীমুদ্দীনের মতো সিনিয়র আলেমেদীনের উপর রিক্সায় চড়াও হয়ে পেছন দিক থেকে ছুরিকাঘাত করা হলো। এরই রেশ কাটতে না কাটতে শায়ক আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের উপর হামলা হয়েছে।

বিষয়গুলো অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। যে উলামায়ে কেরাম এদেশের মানুষের মাঝে নীতি-আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার জন্য, মানুষকে মনুষ্যত্বের শিক্ষা দেয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই ওলামায়ে কেরামের জীবন যদি এভাবে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে, হুমকির মধ্যে পড়ে তাহলে সেটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর একটি বিষয়। আমি মনে করি এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলের দায়িত্ব আছে। বিশেষ করে উলামায়ে কেরাম যারা আছেন (বিভিন্ন ঘরানার) তাদের এই বিষয়গুলো ভাবা উচিত। কেন আমাদের উপর হামলা হচ্ছে? আমরা কি অসহিষ্ণুতায় পড়ছি? আমাদের আভ্যন্তরীণ যে চিন্তাধারা আছে, সেগুলোর চর্চা করতে গিয়ে আমরা কি সীমালঙ্গন করে ফেলছি। আমরা যে একে অপরকে সহ্য করার শক্তি। সে শক্তি কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে? এই বিষয়গুলো আমাদের সিরিয়াসলি ভাবা উচিত। আর না হয় যদি এভাবে চলতেই থাকে। আমরা যদি আমাদের পরস্পরের দ্বন্দ্ব নিয়ে জড়িয়ে থাকি। তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

বিশেষ করে এদেশে যারা সেক্যুলার ও নাস্তিক্যবাদি শক্তি আছে। তারা এগুলো দেখে মজা নিবে। আমাদের মধ্যে যেন আরো বেশি হানাহানি হয়, আমরা যেন আরো বেশি বিপদে পড়ি, সেগুলো তারা চাইবে। অতএব আমাদের আভ্যন্তরীণ সমস্যাবলী- আভ্যন্তরীণ বলতে, আমাদের মুসলিম সমাজের বিভিন্ন চিন্তার মানুষ বসবাস করি, এই চিন্তা ধারণ করার পর একজন আরেকজনের প্রতি আন্তরিক থাকা। আল্লাহর জন্য অন্তত একজন মুসলমানকে ভালোবাসা। সহনশীল থাকা। বিনম্র থাকা। এই বিষয়গুলো আমাদের মাঝে বাড়ানো উচিত।

আর এগুলো যদি বাহিরের কোন ষড়যন্ত্রের অংশ হয়। টার্গেট করে আক্রমণ করে। অথবা বিশেষ কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। এবং এই বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করার জন্য আমাদের সিনিয়র ওলামাকেরামকে চিন্তা করা উচিত। ভাবা উচিত।

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

দেশের ওলামায়ে কেরামকে মাহফিলের জন্য, ইসলামের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হয়। তাদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে সিনিয়র ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন। তাদের ভাবতে হবে কেন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এবং কারণ চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার চেষ্টা করতে হবে।

আর যারা যাচ্ছেন তারাও দাওয়াত পেলেই না যাওয়া। বরং যেখানে যাচ্ছেন সেই জায়গার পরিবেশ-পরিস্থিতি সবকিছু দেখে শুনে বুঝে তারপর দাওয়াত কনফার্ম করা। যারা দাওয়াত দিচ্ছেন তাদের কতটুকু যোগ্যতা আছে, যাকে দাওয়াত দিয়েছেন তার নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভাবার? তাকে সসম্মানে বিদায় দেওয়া বা নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার মত? ওই আলিমের সহযোগী যারা আছেন বিষয়টি তাদের দেখার দায়িত্ব। কোন আলেমকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া ঠিক না।

আয়োজকদের ও দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা উচিত। যাকে তাকে, যেকোনো জায়গায় দাওয়াত দেওয়া উচিত না। যে আলেমকে যেখানে নিরাপত্তা দিতে পারবো না বা তার দায়দায়িত্ব নিতে পারবো না অন্তত তাকে নিরাপদে ফেরত দেওয়ার মতো যতটুকু আয়োজন করা দরকার ততটুকু করতে পারবোনা। তারা ওলামায়ে কেরামকে ডেকে এনে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া উচিত হবে না।

আর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব প্রশাসনের রয়েছে। তাদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। কারণ তাদের গাফলতির কারণে যদি ওলামায়ে কেরামের জীবন হুমকির মাঝে পড়ে। তাহলে সেটা আমাদের কারো জন্যই কল্যাণকর হবে না। আমরা ওলামায়ে কেরামের সকলের নিরাপত্তা কামনা করি। আল্লাহতায়ালা সবাইকে নিরাপদে ও হেফাজতে রাখুন।

জনপ্রিয় খবর