Wednesday, June 16, 2021
Home আজকের ফতোয়া জুমআর দিনের আমল ও ফজীলত এবং দোয়া কবুলের সময়

জুমআর দিনের আমল ও ফজীলত এবং দোয়া কবুলের সময়

 

মুফতি মাসউদুর রহমান ওবাইদী

জুমআর দিনের আমল ও ফজীলত এবং দোয়া কবুলের সময়

আজকের কথা মনে আছে তো?

আজ শুক্রবার_জুম্মার_দিন!

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

দোয়া_কবুলের_উত্তম_সময়!

আলহামদুলিল্লাহ্ সপ্তাহের শ্রেস্ঠ দিন জুমার দিন”

আজ সূরা কাহাফ মনে করে মাগরিবের আগেই পড়ে নিবেন।

 শুক্রবার আসর থেকে মাগরিবের মধ্যে দোয়া কবুলের সময়ে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে দোয়া করতে ভুলবেন না।

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন ও জুমআর রাতে আমার প্রতি বেশি বেশি দরূদ প্রেরণ করবে।

যে ব্যক্তি ১বার দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তা’আলা তার প্রতি ১০ বার রহমত নাযিল করবেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বলেনঃ “কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আমার নিকটতম হবে সেই ব্যাক্তি, যে আমার উপর বেশি বেশি দুরুদ পড়ে। 

[ তিরমিজিঃ ৯২৩ ]

যে ব্যক্তি জুম’আর দিনে সুরা কাহফ পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেবেন। 

_জামেউস সাগীরঃ৬৪৭০]

 

রাসুল সাঃ বলেন,

এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।”

 

     সূরা_কাহ্ফ_পাঠ :

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি জুমআর দিন সূরা কাহ্ফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমআর মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।”(নাসাঈ, সুনান, বায়হাকী,হাকেম, মুস্তাদরাক, সহিহ তারগিব ৭৩৫ নং)

অন্য বর্ণনায় আছে, “যে ব্যক্তি জুমআর দিন সূরা কাহ্ফ পাঠ করবে তার জন্য তার ও কা’বা শরীফের মধ্যবর্তী জ্যোতির্ময় হবে।” (বায়হাকী, শুআবুল ঈমান, জামে ৬৪৭১নং)

বেশী বেশী দরুদ পাঠ :

 ছোট দুরুদ – 

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبَيِّنَا مُحَمَّدٍ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আ’লা নাবিয়্যিনা মুহা’ম্মাদ। 

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

.

 ছোট দুরুদ – 

সবচাইতে ছোট যেই দুরুদ পড়া যায়ঃ

صلى الله عليه وسلم

উচ্চারণঃ সল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম। 

অর্থঃ আল্লাহ তাঁর (মুহা’ম্মদের) প্রতি সালাত (দয়া) ও সালাম (শান্তি) বর্ষণ করুন।

জুমআর রাতে (বৃহ্স্পতিবার দিবাগত রাতে) ও (জুমআর) দিনে প্রিয়তম হাবীব মহানবী (সাঃ)-এর শানে অধিকাধিক দরুদ পাঠ করা কর্তব্য। মহানবী (সাঃ) বলেন, “তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল, জুমআর দিন। এই দিনে তোমরা আমার প্রতি দরুদ পাঠ কর। যেহেতু তোমাদের দরুদ আমার উপর পেশ করা হয়ে থাকে। (আবূদাঊদ, সুনান ১৫৩১নং)

তিনি আরো বলেন, “জুমআর রাতে ও দিনে তোমরা আমার উপর বেশী বেশী দরুদ পাঠ কর। আর যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করবে, সে ব্যক্তির উপর আল্লাহ ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন।”(বায়হাকী, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ১৪০৭নং)

 

জুম্মার_দিনে_দুয়া_কবুল_হয়

আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা জুমার দিন সম্বন্ধে আলোচনা করে বললেন,

“ওতে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি ঐ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নামায অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে তা দান করে থাকেন।”

এ কথা বলে তিনি স্বীয় হাত দ্বারা ইঙ্গিত করলেন, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত। (বুখারী ও মুসলিম)

আবূ বুর্দাহ ইবনে আবূ মুসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘আপনি কি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত সম্পর্কে আপনার পিতাকে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতে শুনেছেন?’ তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘হ্যাঁ। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “সেই মুহূর্তটুকু ইমামের মেম্বারে বসা থেকে নিয়ে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়ের ভিতরে।” (মুসলিম)

 

সূরা_কাহাফের_ফজিলত

১-আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

“যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্ত করবে (এবং তা পাঠ করবে) তাকে দাজ্জালের ফিতনা হতে হেফাজতে রাখা হবে”। (সহীহ মুসলিম)

 ২-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ “যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে। আর যে ব্যক্তি উহার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোন ক্ষতি কর`তে পারবে না”। (দেখুনঃ সিলসিলায়ে সহীহা, হাদীছ নং-২৬৫১)

৩-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ “যে ব্যক্তি জুমআর রাত্রিতে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা হতে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নূর হবে”। (দেখুনঃ সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, হাদীছ নং- ৭৩৬)

 ৪-অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “যে ব্যক্তি জুমআর দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত আলোকময় হবে”। (দেখুনঃ সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, হাদীছ নং- ৭৩৬)

বিশেষভাবে আজ_মাগরিব_আগে_কাহফ_পড়ে_শেষ_করুন

আল্লাহ তায়ালা সব গুলি আমল করার তৌফিক এনায়েত ফরমান।

জনপ্রিয় খবর