Tuesday, June 15, 2021
Home ইসলাম প্রতিদিন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে আইনুদ্দীন আল আজাদ রহ. এর বাড়ির মাদরাসাটি (ভিডিও)

পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে আইনুদ্দীন আল আজাদ রহ. এর বাড়ির মাদরাসাটি (ভিডিও)

শিখো বাংলায়: পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদের বাড়ির মাদরাসা। দেখার কেউ নেই। যে এলাকায় অধিকাংশ মানুষ সুবিধা বঞ্চিত; সে এলাকায় কয়েক লক্ষ টাকায় নির্মিত এমন একটি ভবন পড়ে থাকা সত্যিই কষ্টের। মাদরাসাটি ঝিনাইদহ জেলার সদর থানার পোড়াহাটি ইউনিয়নের হাজরাতলা গ্রামে অবস্থিত। মাদরাসার পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত সঙ্গীত সম্রাট আইনুদ্দীন আল আজাদ।

খতমে নবুওয়াত মারকাযের একটি দাওয়াতি টিমের সঙ্গে আমরা এখন সীমান্তের এলাকা ঝিনাইদহে। উদ্দেশ্য দাওয়াতি কার্যক্রমের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা। আমাদের টিমে আছেন- মুফতি মুমিনুল হক চৌধুরী, যাকওয়ানুল হক চৌধুরী, মুফতি আবু জারিফা প্রমূখ।

পথের বাঁকে আমরা যাই প্রিয়শিল্পী মাওলানা আইনুদ্দীন আল আজাদ রহিমাহুল্লাহর মাকবারা জিয়ারতে। ঢাকায় থাকতে শুনেছিলাম তার কবরের পাশে একটি মাদরাসাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইচ্ছে ছিল তার মাকবারা জিয়ারত করবো ও কবরের পাশের মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলবো। তবে এখানে এসে মাদরাসাটির এমন পরিস্থিতি দেখতে পাবো কল্পনাও করিনি।

তিনরুমের একটি টিনসেড। তবে ওপরে টিন নেই। তিনরুমের মধ্যে একরুমের মেঝ পাকা। তবে শুকনো পাতা, ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। এর পাশের রুমটি কাঁচা। যেখানে হয়তো চাটাই বিছিয়ে কোরআন পড়ানো হতো। কিন্তু আজ সব অতীত। সেখানে বাজে না কোরআনের সুর। ভেসে আসে না নববী হাদিসের অনন্য ধ্বনি। ঘাস ও গাছে ভরপুর কক্ষটি। এর সামনে বারান্দা। বারান্দার অবস্থাও গুরুতর। বারান্দার কর্নারে এটি রুম। দেখে মনে হয় অফিস কক্ষ। তবে সেখানে নেই কোনো শিক্ষাসামগ্রী। আছে চার পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কেরাম বোর্ড।

মেঝ পাকা রুমে আছে একটি ব্লাকবোর্ড। বোর্ডে লেখা সাদা হরফের আল্লাহু। বিষয়টি যে কারো হৃদয়ে নাড়া দেবে। আলোড়িত করবে। ব্যথিত করবে। রুমটিতে পড়ে আছে আইপিএসের ব্যাটারি। ওপরের সানসেডে সোলার বোর্ড। সবকিছু যেন আবারও সজিব হওয়ার প্রার্থনা করছে। কোরআনের ঘ্রাণে সুরভিত হতে চাচ্ছে।

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

মাদরাসাটির নামও চমৎকার। মাদরাসাতু জামেউল উলুম আইনুদ্দীন। অনেক স্বপ্ন নিয়েই হয়তো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এটি। তবে এখন আর প্রাণ নেই। নেই দরসের আলোড়ন। তার মৃত্যুর মাত্র ছয় দিন পর এর উদ্বোধন করেন বর্তমান চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম। শুরু হয় দরস। চলে শিক্ষাকার্যক্রম। কিন্তু অজানা এক কারণে এখন এটি ভূতুড়ে বাড়ি।

সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে এলে হয়তো আবারো সেখানে উচ্চরিত হবে কোরআনের বাণী। নিষ্পাপ শিশুদের কচি কণ্ঠে ভেসে আসবে ‘ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন’।

জনপ্রিয় খবর