Saturday, January 16, 2021
Home মুসলিম বিশ্ব দ্বীনের ওপর অবিচল থাকতে যে দোআ পড়বেন

দ্বীনের ওপর অবিচল থাকতে যে দোআ পড়বেন

শিখোবাংলায়.কম: হাদীস শরীফে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘সমস্ত বনী আদমের অন্তরসমূহ দয়াময় রহমানের কুদরতি আঙ্গুলের নিয়ন্ত্রণে। তিনি যেভাবে চান তাতে পরিবর্তন আনেন।’ (মুসলিম ২৬৫৪, তিরমিযী ২১৪০)

অপর এক দীর্ঘ হাদীসে নবীজি ইরশাদ করেছেন, ‘এক বান্দা জাহান্নামীদের কাজ করছে, অথচ সে জান্নাতী। আরেকজন জান্নাতবাসীদের আমল করছে, কিন্তু সে জাহান্নামী।’ এর কারণ স্বরূপ প্রিয়নবীজি বলেন, ‘‘কারণ, শেষ সময়ের (অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বের) আমল ধর্তব্য।’’ (বুখারী ৬৬০৭)

তাই আমাদের সকল মুসলমানের কর্তব্য হলো, প্রতি মুহূর্তে আল্লাহ তাআলার নিকট দ্বীনের পথে অবিচলতার দোআ করা। যেন আমাদের অন্তর জীবনের সকল ক্ষেত্রে শয়তান ও মন্দ আত্মার কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকতে পারে। যেন মৃত্যু পর্যন্ত আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অটল থাকতে পারি।

এখানে এ সম্পর্কিত কোরআন ও হাদীসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দোআ তুলে ধরা হলো।

কোরআনে বর্ণিত দোআ:

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

কোরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দোআ শিখিয়েছেন। যার মধ্যে অন্তরের অবিচলতার দোআ শেখানো হয়েছে। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ

অর্থ : হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে যে হেদায়াত দান করেছেন, তারপর আর আমাদের অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি করবেন না। আর একান্তভাবে আপনার পক্ষ হতে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি অসীম দানশীলতার অধিকারী। (সূরা আলে ইমরান ৮)

হাদীসে বর্ণিত দোআ:

আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি দ্বীনের ওপর অটল থাকার দোআ করেছেন।

হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক পরিমাণে এ দোআটি পড়তেন,

يَا مُقَلِّبَ القُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ

অর্থ: ‘হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।’

সাহাবী হযরত আনাস রা. বলেন, আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার ওপর এবং আপনি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তার ওপর ঈমান এনেছি। আপনি আমাদের বিষয়ে (ঈমান হারানোর) আশংকা করেন? নবীজি ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ। নিশ্চয়ই সকল অন্তর আল্লাহর কুদরতি আঙ্গুলসমূহের মাঝে রয়েছে। তিনি যেভাবে চান, তাতে পরিবর্তন আনেন।’ (তিরমিযি ২১৪০)

অপর এক হাদীসেও আম্মাজান হযরত উম্মে সালামা রা. প্রিয়নবীজিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কোন দোআ বেশি বেশি পাঠ করেন? নবীজি তখন উপরোক্ত দোআটির কথা উল্লেখ করেন।

মুসলিম শরীফের হাদীসে একই প্রসঙ্গে নবীজির পঠিত এ দোআটিও উল্লেখ হয়েছে,

 اللَّهُمَّ مُصَرِّفَ القُلُوبِ صَرِّفْ قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ

অর্থ: হে আল্লাহ! হে অন্তরসমূহের নিয়ন্ত্রক! আপনি আমাদের অন্তরকে আপনার ইবাদতের ওপর অবিচল রাখুন। (মুসলিম ২৬৫৪)

একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতাই হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে জীবন অতিবাহিত করে ঈমানি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীনের পথে অবিচল রাখুন এবং বেশি বেশি এ দোআগুলো পড়ার তাওফীক দিন।

জনপ্রিয় খবর