Tuesday, June 15, 2021
Home বাংলাদশে সংবাদ ইংরেজি ১২ মাসের নামকরণের ঐতিহাসিক পটভূমি

ইংরেজি ১২ মাসের নামকরণের ঐতিহাসিক পটভূমি

শিখোবাংলায়.কম: চেরাগদানী : কেমন করে এল ইংরেজি নতুন বছর, মাস ও ক্যালেন্ডার। এর পেছনে রয়েছে অনেক ইতিহাস ও ঘটনাপ্রবাহ। বর্ষ গণনা শুরু হয়েছিল চাঁদের হিসেবে। ঋতুর সঙ্গে চন্দ্রগণনার পার্থক্যের কারণে শুরু হয়েছিল সৌর গণনা। গ্রিক ক্যালেন্ডার অনুসারে, তখন ৩০৪ দিনে ছিল সৌর বছর। দশ মাসে বিভক্ত ছিল বছর। খ্রিষ্ট পূর্ব ৭৯৩ অব্দে আরো ৬০ দিন যুক্ত করে ৩৬৪ দিনে বছর করা হয়। মাঝের ষাট দিনের কোনো মাস ছিল না। জুলিয়াস সিজার জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি যুক্ত করে ঢেলে সাজান। পোপ গ্রেগরি ১৫৮২ সালে পুরানো রোমান ক্যালেন্ডারকে সংশোধন করে নতুন ক্যালেন্ডার তৈরি করেন। তার নামেই ক্যালেন্ডারের নাম হল ‘গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার’। এর আগে ইংল্যান্ড ও আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় বছর শুরু হত বসন্ত বিষুবের দিন, যা সাধারণত মার্চের ২০-২১ তারিখ পড়ত। জেনে নিন বিভিন্ন মাসের নামের ঐতিহাসিক পটভূমি।

জানুয়ারি মাসের নামের পিছনে আছেন রোমান দেবতা জেনাস। দুই মুখ দিয়ে তিনি সামনে ও পিছনে দেখতে পান। খ্রিস্টজন্মের প্রায় ৬৯০ বছর আগে সম্রাট নুমো পম্পিলিস জানুয়ারি মাসকে বছর শুরুর প্রথম মাস হিসেবে ঘোষণা করেন। দুটি মুখ দিয়ে জেনাস পুরনো ও নতুন বছর দেখতে পাবেন, এই ছিল ধারণা।

বসন্তকালের শুরুর দিকে প্রাচীন রোমানরা ‘ফ্রেরুয়া’ নামে একটি ‘শুদ্ধিকরণ উৎসব’ করতেন। উৎসবে ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি চাবুক ‘ফ্রেব্রুয়া’ দিয়ে নিঃসন্তান মহিলাদের অত্যাচার করা হত। মনে করা হত, এর ফলে তারা পবিত্র হয়ে সন্তানের জন্ম দেবেন। সম্রাট পম্পিলিস এই উৎসবের নাম থেকেই হয় ফেব্রুয়ারি নামকরণ করেন।

রোমান যুদ্ধের দেবতা ‘মার্স’কে শ্রদ্ধা জানাতে তার নাম অনুসারে এই মাসের নামকরণ। প্রাচীন রোমানরা বিপক্ষকে বাধ্য করতেন যাতে সমস্ত যুদ্ধ মার্চ মাসে বন্ধ থাকে। এর কারণ, সেই সময় মার্চ ছিল নতুন বছরের প্রথম মাস ও উৎসবের মাস।

ল্যাটিন শব্দ ‘এপ্রিল’ এর মানে ‘দ্বিতীয়’ কারণ সেই সময়ের রোমান ক্যালেন্ডারে এপ্রিল ছিল দ্বিতীয় মাস। অন্য ইতিহাস বলছে, ল্যাটিন শব্দ ‘এপেরিরে’ থেকে এপ্রিল মাসের নামকরণ হয়েছে। অনেকে বলেন, গ্রিক দেবী ‘এফ্রোডাইট’ থেকে এই মাসের নামকরণ হয়েছে। এক মতবাদ অনুযায়ী, এপ্রিলে নতুন রূপে সাজে প্রকৃতি। আর সেই বিচারেই এর নামকরণ। আরেক মত, সৌন্দর্যের দেবী আফ্রোদিতির নামানুসারে হয় এপ্রিল নাম।

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

মে মাসের নামকরণের পিছনে আছে আর এক দেবী যার নাম ‘মাইয়া’।  প্রাচীন রোমানদের বিশ্বাস ছিল, দেবদেবীর মধ্যে কখন কোন দেবতা পৃথিবীতে নামবেন, তা নাকি দেবী ‘মাইয়া’ ঠিক করে থাকেন। কথিত আছে- এই দেবীই ছিলেন সমস্ত শস্যের রক্ষাকর্ত্রী। শস্য ফলনের মাসটিকে তার নামে রাখা হয় মে।

রোমানদের সবচেয়ে বড় দেবতা জুপিটারের স্ত্রী জুনো।  জুনো থেকে আসে জুন মাসের নাম।প্রাচীন রোমানদের কাছে জুন মাস ছিল বিয়ের মাস। এই মাসের নামকরণের পিছনে আছেন রোমান দেবী ’জুনো’। ইনি ছিলেন দেবতাদের রানি।

জুলাই মাসের নামের পিছনে বিখ্যাত রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের নাম রয়েছে। এই জুলাই মাসেই সিজার জন্মেছিলেন। সেই সময় অবশ্য এই মাসের নাম ছিল ‘কুইন্টিলিস’। রোমান ক্যালেন্ডারের প্রবর্তক জুলিয়াস সিজারের নামানুসারেই জুলাই মাসের নামকরণ করা হয়।

জুলিয়াস সিজারের একমাত্র উত্তরাধিকারী ছিলেন রোমান সম্রাট  অগাস্টাস সিজার। অগাস্টাসের নাম অনুসারে নাম করা হয় অগাস্ট।

ল্যাটিন ‘সেপ্টেম’ মানে সাত। রোমান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সেপ্টেম্বর ছিল সপ্তম মাস। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫ সালে যখন জুলিয়াস সিজার তার নাম অনুসারে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার শুরু করলেন, সেখানে ক্রম অনুসারে প্রথম ছয়টা মাস ঠিক একই থেকে গেল। কিন্তু নতুন দুটো মাস জানুয়ারি ও ফ্রেব্রুয়ারি অতিরিক্ত যোগ হওয়ায় সেপ্টেম্বর হয়ে গেল নয় নম্বর মাস।

ল্যাটিন ‘অক্টো’ মানে আট আর ‘বার’ শব্দটি বিশেষণ হয়ে সাফিক্স হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। অক্টো শব্দ থেকেই অক্টোবরের নামকরণ করা হয়। ‘অক্টো’ শব্দটির অর্থ অষ্টম কিন্তু জুলিয়ান এবং গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে অক্টোবর হচ্ছে দশম মাস।

ওই একই ভাবে নভেম্বর মাস এল ‘নভেন’ যার মানে নবম থেকে। বাস্তবে নভেম্বর মাস ১১তম মাস।একইভাবে ল্যাটিন ‘ডিসেম’ মানে দশ, কিন্তু বাস্তবে ডিসেম্বর দ্বাদশ মাস।

জনপ্রিয় খবর