Wednesday, January 20, 2021
Home ইসলাম প্রতিদিন অমুসলিদের বর্ণনায় মহানবি সা. এর শ্রেষ্ঠত্ব

অমুসলিদের বর্ণনায় মহানবি সা. এর শ্রেষ্ঠত্ব

বেলায়েত হুসাইন

‘আল ফাদলু মা শাহিদাত বিহিল আ’দাউ’ (ওই বস্তু সত্যিকারেই শ্রেষ্ঠ যার স্বপক্ষে শত্রুও সাক্ষ্য দেয়)-বহুল প্রচলিত আরবি এ প্রবাদ যথার্থ প্রয়োগ হয় সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে।

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অনেক বড় বড় রথী-মহারথী অমুসলিম ভিন্ন ধর্মের হয়েও মহানবীর শ্রেষ্ঠত্বের কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন। রাসুলের উত্তম চরিত্র, সততা, অসহায়ের প্রতি সহানুভূতিশীলতা, সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং সর্বোপরি তাঁর নিখুঁত ও মহান গুণাবলির প্রশংসা করেছেন তারা। তাদের সেসব অমীয় ও সুবাসমাখা বর্ণনায় পৃথক পৃথক শিরোনামে আজকের প্রবন্ধ সাজানো।

সবচেয়ে সফল নবী

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার একজন লেখক লিখেছেন, পৃথিবীর সব ধর্মের সকল ধর্মীয় ব্যক্তিদের তুলনায় মুহাম্মদ (সা.) সবচেয়ে সফল।

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

অভিজাত ব্যক্তিত্ব

পশ্চিমা দার্শনিক মার্কস ডাড বলেছেন, একজন সম্ভ্রান্ত আরবের চরিত্র যেমন হওয়া প্রয়োজন মুহাম্মদের চরিত্র ঠিক তেমন-ই সুন্দর ছিলো। ধনী-গরীবকে শ্রদ্ধা করার ক্ষেত্রে তিনি কোন পার্থক্য করতেন না। নিজের অধীনস্ত লোকদের খেয়াল রাখা ও সেবার ক্ষেত্রে খুব আন্তরিক ছিলেন।

মহান সংস্কারক

রুশ দার্শনিক কাউন্ট টলস্টয় বলেন, মুহাম্মদ (সা.) ওইসব মহান সংস্কারকদের অন্তর্ভূক্ত যারা জাতির ঐক্যের জন্য অনেক সেবা করেছেন। তাঁর গর্ব করার জন্য এটাই যথেষ্ঠ যে, তিনি একটি পাশবিক সমাজকে সত্যের আলোর দিকে পথ দেখিয়েছেন। তিনি জাতিকে সহাবস্থান ও আত্মবিসর্জন অবলম্বনে অনন্য এক জীবনের শিক্ষা দিয়েছেন। তাদের জন্য উন্মোচন করেছেন উন্নতি ও সভ্যাতার এক নতুন পথ। আশ্চর‌্যজনক ব্যাপার হলো- এমন গুণের মানুষ পৃথিবীতে আর আগমন করেনি।

ড. গৌডিয়া বলেন, মুহাম্মদ (সা.) সবসময় সবার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত থাকতেন। তাঁর দয়া ও উদারতা ছিল সীমাহীন। উম্মতের সংশোধনের চিন্তায় সর্বদা নিমগ্ন থাকতেন। তিনি ছিলেন জাতির জন্য অনন্য উদাহরণ এবং প্রবাদপ্রতীম। তাঁর প্রকৃতিতে গর্ব ও অহংকারের লেশমাত্র ছিলো না। এমনকি নিজ সাথীদের কৃত্রিম শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনে নিষেধ করতেন।

শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

মহাত্মা সত্য দিহারি বলেন, ইসলাম ধর্মের মহান এই নেতার জীবনী বিশ্বকে অমূল্য পাঠ শিক্ষা দান করে। তাঁর জীবনের প্রতিটি বাঁক এবং অবস্থানে বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয় শিক্ষা রয়েছে। যাদের দেখার চোখ আছে, বোঝার মতো মেধা আছে এবং অনুভূতিশীল হৃদয় আছে তাঁরা তাঁর জীবন থেকে অনেক কিছু-ই শিক্ষা অর্জন করতে পারবে।

সম্মানযোগ্য ব্যক্তি

লেখক অধ্যাপক মার্গুয়েলিস বলেন, মুহাম্মদ (সা.) এমন অনন্য এক জীবনের অধিকারী ব্যক্তি-যার দীর্ঘ জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনা করে শেষ করার মতো না। তাঁর জীবনে সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রাপ্তির বিপুল অধ্যায় রয়েছে।

অভিজাত বংশ

মিস্টার গাডফ্রি হেইগেনস লিখেছেন, যদিও মুহাম্মদ (সা.) এবং আমাদের যিশু (হজরত ঈসা আ.)-এর প্রাথমিক জীবনের কিছু চিত্র সাদৃশ্যপূর্ণ তবে দুজনের এমন অনেক বিষয় আছে যা একেবারেই আলাদা। যিশুর ওপর ঈমান আনয়নকারী ১২ হাওয়ারি সমাজের নিরক্ষর ও অজ্ঞ ছিলো। পক্ষান্তরে মুহাম্মদের প্রতি ঈমান আনয়নকারী সাহাবিগণের মধ্যে জায়েদ এবং বেলাল ছাড়া অন্য সবাই সমাজের সম্ভ্রান্ত, সম্মানিত ও অভিজাত শ্রেণির লোক হিসেবে পরিগণিত ছিলো। এদের মধ্যে তাঁর পরিবারেরও কিছু লোক ছিলো-যারা খেলাফতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সেনাপতিত্ব ও সাম্রাজ্য পরিচালনায় বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন।

সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী

জার্মানির প্রখ্যাত প্রফেসর হগ বলেন, মহান স্রষ্টার সৃষ্টির সেবা ও উন্নত চরিত্র গঠনে মুহাম্মদ যে শিক্ষা দিয়েছেন আমি তা গভীরভাবে অধ্যায়ন করেছি। এ থেকে আমার অনুভূতি এই যে, যদি কোন অমুসলিমও ইসলামের পথনির্দেশনা মেনে চলে তাহলে সে জীবনে অনেক উন্নতি করতে পারবে। আমার মত হলো- বর্তমান সমাজকে সংস্কার করতে চাইলে ইসলামী শিক্ষার প্রবর্তন ও প্রচলন ঘটানো।

নৈতিকতা শিক্ষাদানকারী

ভারতের জাতির পিতা মাহত্মা গান্ধী বলেছেন, আমি বিশ্বের সব ধর্ম সম্পর্কেই পড়াশোনায় অভ্যস্ত। ইসলামকেও গভীরভাবে অধ্যায়ন করেছি। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মুহাম্মদ (সা.) বিশুদ্ধ নৈতিকতা শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানবতাকে সত্যের পথ দেখিয়েছেন, সাম্যের শিক্ষা দিয়েছেন। আমি পবিত্র কোরআনের অনুবাদও অধ্যায়ন করেছি- তাতে শুধু মুসলমানদের জন্য নয়; বরং সবার জন্য উপকারী দিকনির্দেশনা রয়েছে।

মহান নেতা

হোম লীগের প্রতিষ্ঠাতা মিসেস অ্যানি বেস্টন বলেন, অন্যান্য ধর্মের ওপর ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও পৃথকতার কারণ হলো- ইসলামের মহান নেতা মুহাম্মদের জীবনে কোন অস্পষ্টতা ও রহস্য নেই, যা অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জীবনীর মধ্যে পাওয়া যায়।

সমস্যা দূরীভূতকারী

জর্জ বার্নার্ড শ বলেন, পৃথিবীকে আচ্ছন্ন করে রাখা বর্তমানের সব সমস্যা দুরীকরণের একটাই পদ্ধতি। তা হলো- মুহাম্মদকে গাইড বা নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া।

এতো বিশ্বের বিখ্যাত কিছু ব্যক্তির মতামত উল্লেখ করা হলো মাত্র। তা ছাড়াও একথা বাস্তব যে, প্রতিটি যুগে প্রিয়নবী (সা.)-এর উত্তম চরিত্র, নৈতিকতা এবং অনন্য ব্যক্তিত্ব প্রশংসিত হয়ে আসছে। এখনও যদি আপনি গুগলে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি অনুসন্ধান করেন, তাহলে রহমাতুল লিল-আলামিন মুহাম্মদ (সা.)-এর নামই সবার আগে আসবে। সূত্র: বাসিরাত অনলাইন উর্দু

জনপ্রিয় খবর