Monday, January 25, 2021
Home আজকের ফতোয়া মেয়েদের কপালে টিপ দেওয়া এবং লিপ স্টিক ব্যবহারের বিধান কি

মেয়েদের কপালে টিপ দেওয়া এবং লিপ স্টিক ব্যবহারের বিধান কি

মুফতি মাসউদ দিনাজপুর

প্রশ্নঃ মেয়েদের কপালে টিপ দেওয়া এবং লিপ স্টিক ব্যবহারের বিধান কি?

উত্তরঃ লিপিস্টিক দেওয়ার বিধান

যা কিছু সাজসজ্জা ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সেটার মূল বিধান হচ্ছে— বৈধ ও জায়েয হওয়া।

আল্লাহ্‌তাআলা বলেন: “তিনিই সেই মহান সত্তা যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ২৯] কখনও মুস্তাহাব হতে পারে; যদি সেই সাজ স্বামীর উদ্দেশ্যে হয়।

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

তখন এটি শরিয়ত নির্দেশিত বিষয়। 

তবে এটি বৈধ হওয়া শর্তযুক্ত: যাতে করে সেটা হারাম ক্ষেত্রে ব্যবহৃত না হয়; যেমন যাদের সামনে সৌন্দর্য প্রদর্শন করা নাজায়েয এমন গাইরে মাহরাম পুরুষদের জন্য সাজগোজ করা। 

অনুরূপভাবে প্রসাদনী সামগ্রীর মাঝে দেহের জন্য ক্ষতিকর কোন উপাদান বা নাপাক উপাদান (উদাহরণতঃ শূকরের চর্বি) না থাকা। যদি থাকে তাহলে এমন সাজগোজ হারাম হবে। 

কেননা যা কিছু মানুষের জন্য ক্ষতিকর তা করা নিষিদ্ধ। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয় এবং অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা নয়।

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন: “ঠোটে লিপস্টিক দিতে কোন আপত্তি নেই। কেননা মূল বিধান হল: বৈধতা; যতক্ষণ না হারাম হওয়া সাব্যস্ত হয়…। কিন্তু যদি সাব্যস্ত হয় যে, এটি ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর; এটি ঠোঁটকে শুকিয়ে ফেলে, ঠোঁটের আর্দ্রতা ও তৈলাক্ততা দূর করে দেয়— এ ধরণের অবস্থার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার থেকে নিষেধ করা হবে। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, এটি ঠোঁট ফাঁটার কারণ। যদি তা সাব্যস্ত হয় তাহলে মানুষের জন্য যা কিছু ক্ষতিকর সেটি করা তার জন্য নিষিদ্ধ।[ফাতাওয়া মানারুল ইসলাম (৩/৮৩১)]

সাধারণ ভাবে লিপস্টিক ব্যবহার হালাল হবে কিছু শর্ত পূরণের পরে

১। লিপস্টিকের কেমিক্যাল ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর হতে পারবে না। যদি ব্যবহারে ঠোঁটের ক্ষতি হয় তবে সে লিপস্টিক ব্যবহার হারাম হবে।

২। কোন পথভ্রষ্ট নারী, নর্তকী, মডেল, নায়িকা, কাফিরাদের অনুকরণে লাগানো হারাম হবে।

৩। এটা কোন অবস্থাতে নন মাহরামদের সামনে দেওয়া যাবে না। লিপস্টিক লাগিয়ে নন মাহরামদের সামনে সুন্দর হয়ে যাওয়া, স্টাইলিশ হিজাবি সেলফি তোলে গায়ের মাহরামদের দেখানো সম্পূর্ণ হারাম, এবং এটা হিজাবের খেলাফ।

৪। এর পিছে অপচয় করলে ব্যবহার হারাম হবে।

এই শর্ত গুলোতে ধরা না খেয়ে, স্বামীর সামনে নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপনে লিপস্টিকের ব্যবহার শুধু হালালই নয় বরং এটা মুস্তাহাব হবে, এবং সওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাল্লাহ।

অপর দিকে এটা লাগিয়ে গায়ের মাহরামদের থেকে সুইট, বিউটি, প্রিটি ইত্যাদি বিশেষণ আশা করলে পাপের পাল্লা ভারী হবে।

কিন্তু বর্তমানে এটা আমাদের বোনরা পুরো উল্টোই করে থাকে। গায়ের মাহরামদের সামনে লাল লিপস্টিক দিয়ে আবেদনময়ী হিসেবে যায়। আর ঘরে স্বামীর সামনে থাকে রুক্ষ ভাবে!!!

সবশেষে অজুর সময় লিপস্টিক তুলে ফেলতে হবে। লিপস্টিক না উঠালে ঠোঁটে পানি লাগবে না। ফলে অজুও হবে না।

 

      কপালে টিপ দেওয়ার বিধান

এটি হিন্দুয়ারী রুসুম। হিন্দুদের প্রাচীন বিয়ে পদ্ধতির মাঝে একটি ছিল নারীদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া। হিন্দু দেবতা কৃষ্ণ অনেক নারীকে অপহরণ করে বিয়ে করেছিলেন। এমন কি বহুল প্রচলিত কৃষ্ণের প্রেমিকা রাধা ছিল তারই আপন মামার বিবি।

কৃষ্ণ তাকে অপহরণ করে বিয়ে করেছেন।বিবাহিত নারীরা অপহরণ থেকে বাঁচতে তারা তাদের সিঁথিতে সিঁদুর দিতো। এখনো বিবাহিত হিন্দু নারীরা তাই করে থাকে।

বর্তমানে সেই হিন্দুয়ানী সিঁদুর প্রথা সৌন্দর্যের নামে কতিপয় নাদান মুসলিমরাও ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে। যা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম।

আরেকটি কুপ্রথা হল, শিশুদের বদনজর থেকে বাঁচতে কপালে টিপ দেয়া। এটিও পরিত্যাজ্য। টিপ দিলে বদনজর থেকে বাঁচা যায় এটি লোকমুখে প্রচলিত একটি কথা মাত্র। কুরআন ও হাদীসতো দূরে থাক  বাস্তবতার সাথেও এর কোন সম্পর্ক নেই।

তাই একাজ অবশ্য পরিত্যাজ্য।

عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ:: ” الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঈদ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, ব্যক্তি [কিয়ামতের দিন] তার সাথে থাকবে যাকে সে মোহাব্বত করে। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৩৭১৮, বুখারী, হাদীস নং-৬১৬৮, ৫৮১৬}

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ

হযরত ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি যার সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪০৩১}

যেহেতু কপালে টিপ পরা হিন্দুয়ানী রুসুম। তাই তা পরিত্যাজ্য। শরীয়তগর্হিত সাজ।

আর স্বামীর শরীয়ত বিরোধী হুকুম মানতে স্ত্রী বাধ্য নয়।

কারণ আল্লাহর অবাধ্য হয়ে  কারো আনুগত্য করা জায়েজ নেই। তাই স্বামীর আদেশ হলেও কপালে টিপ পরা স্ত্রীর জন্য বৈধ হবে না।

لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ

আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়ে কোন সৃষ্টির আনুগত্য করা জায়েজ নয়। [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১০৯৫, 

জনপ্রিয় খবর