Wednesday, January 20, 2021
Home ইসলাম প্রতিদিন নারী স্বাধীনতা ও পরাধীনতা : ইসলাম কি নারীকে ঠকিয়েছে?

নারী স্বাধীনতা ও পরাধীনতা : ইসলাম কি নারীকে ঠকিয়েছে?

শিখো বাংলায়.কম: যারা মনে করেন ইসলামে-পুরুষ স্বাধীন আর নারী পরাধীন।পুরুষ রাষ্ট্রনায়ক হতে পারে, নারী পারে না। পুরুষকে নানা ক্ষমতা দেয়া হয়েছে নারীকে দেয়া হয়নি। আজকের লেখাটি তাদের জন্যে।

আমাদের সমাজে ধর্মের নামে অথবা ভুলভাবে উপস্থাপিত নানা বক্তব্য প্রচলিত আছে। যেগুলোর বেশকিছু বিষয় আমি ‘ইলাল উখতিল মুসলিমা’ বইটিতে লিখেছি। যেমন, হাদিসের বক্তব্য এই এই বিষয় দেখে কনে দেখতে যাওয়া, অথচ হাদিসের মূল বক্তব্য, এই এই বিষয় দেখে সাধারণত কনে দেখা হয়। যেমন, নারীরা ফিতনা। অথচ ফিতনা শব্দটি শুধু নারীদের ক্ষেত্রে নয়, সম্পদ, সন্তান এমনকি পুরো দুনিয়াকে ফিতনা বলা হয়েছে। যেমন শুধু নারীদের শয়তান বলা, অথচ পুরুষের দৃষ্টিকেও হাদিসে শয়তান বলা হয়েছে। এরকম অন্যান্য বিষয় এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, আপনার মনে হবে আপনার ধর্মে নারী হয়তো পতিত।

ঠিক একইরকম স্বাধীনতা ও পরাধীনতার বিষয়টাও। যখন আপনি একটি গল্প পড়বেন, অথবা হিজাব পরিহিতা কোনো বোনের স্বামীর অনুমতির তোয়াক্কা না করে বাইরে চাকরির ব্যাপারে উৎসাহমূলক বক্তব্য শুনবেন, আর আপনি দেখবেন, ইসলাম আসলেই নারীকে স্বামীর অনুমতির মুখাপেক্ষী করে রেখেছে, তখন আপনার মনে হবে আপনার ধর্মে পুরুষের তুলনায় আপনার অবস্থান হীন, নীচ।

সূক্ষ্মভাবে এই মনোভাব আপনাকে ইসলাম বিদ্বেষীতে পরিণত করবে। তাসলিমা নাসরীন এমনি এমনি ইসলাম বিদ্বেষী হয়নি। সে মুসলিম পরিবারের মেয়ে ছিল কিন্তু সে দেখেছে নারীর ওপর ধর্মের নামে নির্যাতন। শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, এমনকি বুদ্ধিবৃত্তিক নির্যাতন। ওই মহিলা নিজের জেদ ও অহংকারের দরুন সত্যিকার ইসলামকে তলিয়ে দেখার প্রয়োজন বোধ করেনি। মূর্খের মতো চিল কান নিয়েছে শুনে, চিলের পেছনে দৌড় দিয়েছে, কানে হাত দিয়ে দেখেনি। কিন্তু এই ভুল আমরা করব না। আমাদের সমাজে ধর্মের নামে নির্যাতন এখনো আছে। আর এইসবের জন্য যতটুকু দায়ী গাও-গেরামের ইলমহীন ভণ্ড সুরেলা বক্তা, ঠিক ততটুকু দায়ী ফারজানা মাহবুবার মতো আপারা, যারা ইসলামের সঠিক বক্তব্য না বুঝে নিজের মনগড়া ইসলাম প্রচার করেন। [ফারজানা মাহবুবা বোনের নাম ধরার কারণ, যেন আপনারা বোনের বক্তব্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকেন]

এবার দেখুন, আগেও ব্যাপারটা নিয়ে লিখেছি, নারীবাদীদের মূল সমস্যা কিন্তু সামান্য ঘরের কাজ না করা, বাইরে গিয়ে পুরুষের মতো চলাফেরা কিংবা বুদ্ধিহীন স্বেচ্ছাচারিতা নয়, সত্যিকার নারীবাদের সমস্যা হলো- সমাজ, রাষ্ট্র, সর্বক্ষেত্রে সমতা। যা কোনোভাবেই ইসলামী আইনে সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

ইসলাম সমতা নয় ইনসাফের কথা বলে। কারণ- মানুষের শারীরিক ও মানসিক ভিন্নতার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামের দৃষ্টিতে ‘সম অধিকার’ ইনসাফপূর্ণ নয়। যে কারণে ইসলাম সমতার কথা বলে না, বরং ইনসাফের ভিত্তিতে সকল লিঙ্গের মানুষের ইনসাফপূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে। এমনকি ন্যাচারাল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেও আপনি জানবেন সমতা অসম্ভব একটা ব্যাপার। নারী ও পুরুষের প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন পুরুষ যা পারবে, একজন নারী তা পারবে না। আবার একজন নারী যা পারে তা একজন পুরুষ কখনোই পারবে না। পুরুষ কি মা হতে পারে, নাকি কখনো বলে, নারী পারে আমি পারব না কেন?

যেহেতু নারী পুরুষের প্রকৃতি ভিন্ন তাই আইনও ভিন্ন। এখন যদি ‘ক্বাওয়ামাহ’ নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন ওঠে যে, একজন পুরুষকে কেন কর্তৃত্ব দেয়া হলো, অথবা আপনি ক্বাওয়ামাহ অস্বীকার করেন, কিংবা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুরুষের ওপর ন্যস্ত থাকায় নারীকে দুর্বল প্রমাণের চেষ্টা করেন, তবে বলব এটা আমাদের দ্বীন বুঝার দৈন্যতাই শুধু নয়, মানসিক হীনতাও। মানসিক হীনতা কারণ আমরা নারীরা সমানভাবে আল্লাহ প্রদত্ত মর্যাদাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও অন্যের মর্যাদা নিয়ে কাড়াকাড়ি করছি।

ক্বাওয়ামাহর প্রয়োজনীয়তা বুঝাতে লম্বা আলাপের প্রয়োজন, সেদিকে না গিয়ে শুধু এতটুকু বলব যে রাষ্ট্র বলুন অথবা ঘর, কোনোটাই পুরুষের নিজের মনগড়া আইনে চলে না, বরং আল্লাহর আইনে চলে, তবুও অন্তরের শান্তির জন্য বলতে পারি, মুমিন হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহর সত্তা পরিপূর্ণ ন্যায়পরায়ণ।
সুতরাং এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, নারীকে পুরুষের চেয়ে কম মর্যাদা, কম অধিকার, ইত্যাদি কম দেয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা নারী ও পুরুষকে একের ওপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। এর মানে এই না যে কর্তৃত্ব দানের মাধ্যমে শুধু পুরুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। বরং নারী-পুরুষের প্রকৃতিগত ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে একের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

কাওয়ামাহর মাধ্যমে ইসলাম একজন নারীকে যেমন পুরুষের অধীন করে দিয়েছে, ঠিক তেমনই মাতৃত্বের মাধ্যমে পুরুষকেও নারীর অধীনস্থ করে রেখেছে। কুরআনে শিরকের পরপর যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে, তা হলো বাবা-মার অবাধ্যতা। স্বামীর অবাধ্যতার কথা কুরআনে এভাবে বলা হয়নি যেভাবে বারবার বাবা-মার অবাধ্যতার ব্যাপারে আল্লাহ সতর্ক করেছেন। দেখতে পারেন [সুরা-৩১ লুকমান, আয়াত: ১]

তাঁদেরকে ‘উফ্’ বিরক্তি ও অবজ্ঞামূলক কথা পর্যন্ত বলতে আল্লাহ সরাসরি কুরআনে নিষেধ করছেন। দেখতে পারেন [সুরা-১৭ ইসরা-বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩-২৪]

সুতরাং চাকরির ক্ষেত্রে শরয়ী সব শর্ত পাওয়া যাওয়ার পরও শখের বসে চাকরি করলে যেমন স্বামীর অনুমতি নিতে হবে, তেমনই বাবা মা কষ্ট পান পান এমন কোনো কাজ করা যাবে না। বাবা মার এই ব্যাপারটা সরাসরি কুরআনের নির্দেশনা। আর বুখারী শরীফের হাদিসে বলা হয়েছে, তিনবার মা মা মা। মায়ের মর্যাদা। এরপর বাবা। এক স্তর নয়, তিন স্তর পরে বাবার মর্যাদা।

এখন বলুন, কখনো কি কোনো পুরুষ বাবাকে বলতে শুনেছেন, সন্তানের ভরণপোষণসহ যাবতীয় দায়িত্ব তো আমি পালন করি, তাহলে আমার সন্তানদের কাছে আমার ওয়াইফকে কেন তিনবারের মর্যাদা দেয়া হলো আর আমাকে একবার?

এবার দেখুন রাষ্ট্রীয় ব্যাপার। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব একজন পুরুষের। কেন নারী খলিফা হতে পারে না? যদিও দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে নারীর খুশি হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু যেহেতু ব্যাপারটা ক্ষমতার তাই আমরা প্রশ্ন করতেই পারি।

নারীবাদের মূল সমস্যার সমাধান যদি হয় নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীর যাবতীয় দুর্দশা থেকে মুক্তি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাহলে ধর্মীয় দিক থেকে এর সমাধান আমরা অলরেডি পাচ্ছি। নারীর ভরণপোষণের যাবতীয় দায়িত্ব পুরুষের। পুরুষের ওপর ফরজ করা হয়েছে। তারপরও সে পাচ্ছে মোহরানা ও পিতার সম্পত্তির অর্ধেক ভাগ। ইসলাম তার খাওয়া পরার দায়িত্ব অন্যকে দিয়েছে তারপরও প্রয়োজন ব্যতীতই তার অর্থনৈতিক দিক নিশ্চিত করে রেখেছে। সুতরাং ইসলামী রাষ্ট্রে নারীর নিরাপত্তাসহ সুখ নিশ্চিত করার জন্য আলাদা আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই।

এখন যদি বলেন ‘পাওয়ার’ এর কথা। তবে ইসলামে ‘পাওয়ার’ কারো নেই। ইসলামী রাষ্ট্র পুরুষতান্ত্রিক নয়। ইসলামী রাষ্ট্রে খলিফারও আইন প্রণয়নের কোনো ক্ষমতা নেই। ইসলামী রাষ্ট্র চলবে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর আইনে। ইসলামী রাষ্ট্রে নারী কেন, কোনো পুরুষেরও ক্ষমতা নেই কোনো আইন শরীয়তের বাইরে গিয়ে পরিবর্তন করার, চাই সে যতবড় ক্ষমতাধর হোক না কেন? আর সে যায়গা থেকেই শুধু নারী নয়, যে কোনো দুর্বল পতিত নারীও যে কোনো আইন পরিবর্তন করতে পারে যদি তা শরীয়তসম্মত হয়।

তার জলজ্যান্ত প্রমাণ উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো খলীফা যাকে সবাই ভয় পেত, তার খেলাফতের সময়কাল যদি অধ্যয়ন করেন, এমন উদাহরণ পাবেন যে, রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে অতি সাধারণ নারীও হস্তক্ষেপ করে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সংশোধন করে দিয়েছেন।

রাষ্ট্রের খলিফা একজন। কিন্তু কুরআনের আয়াত অনুযায়ী প্রতিটি মুমিন বান্দা আল্লাহর খলিফা। আল্লাহর প্রতিনিধি। আল্লাহর আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের আইন বদলানোর ক্ষমতা প্রত্যেকেরই আছে। খলিফা ভুল করলে তা যদি একজন নারীকেও শুধরানোর ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তাহলে কীসের জন্য এত লড়াই?

একটু মনোযোগ দিলেই বুঝবেন। পৃথিবীতে শুধু নারী নয়, পুরুষও পরাধীন। নারীর সাথে সাথে পুরুষের জন্যও ধর্মীয় আইনের সীমা টেনে দেওয়া হয়েছে। পুরুষকেও বহুমুখী দায়বদ্ধতায় আটকে রাখা হয়েছে। পুরুষেরও সিদ্ধান্ত দেওয়ার স্বাধীন ইচ্ছা নেই বরং ধর্ম পুরুষকে নারীর চেয়েও বেশি বহুমুখী দায়িত্ব দিয়ে তাকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রেখেছে।

আমি তো দেখি, নারীই অধিক সুবিধাপ্রাপ্ত। এর কারণ- নারীর প্রকৃতি। একজন নারী মা হওয়ার মাধ্যমে মানব সম্প্রদায় আগে বাড়ানোর যে বিশাল দায়িত্ব পালন করেন, তারপর যদি তার ওপর অর্থ উপার্জনের অর্থনৈতিক দায়িত্ব দেয়া হতো, তবে সেটা নিশ্চয়ই ইনসাফ হতো না।
ইসলাম ইনসাফপূর্ণ বলেই নারীকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ইত্যাদি দায়িত্ব থেকে মুক্ত করে রেখেছে। এমনকি ঘরোয়া কাজের ব্যাপারেও ইসলামী আইনে এমন কোনো বিধান পাবেন না যে, নারীকে ঘরসংসারের কাজ করতে হবে। নারী সবদিক দিয়েই মুক্ত। বিবাহিত হলে একজন মা ও ভালো স্ত্রী হওয়া ব্যতীত তার আর কোনো দায়িত্ব নেই।

আমরা যারা দ্বীন মেনে চলতে চাই, আমাদের মূল উদ্দেশ্য কী, দুনিয়ার মজা নেয়া নাকি জান্নাত লাভ করা?
অবশ্যই জান্নাত লাভ করা। দুনিয়া মানুষের কর্মস্থল। এখন দেখুন, নারীকে জান্নাত লাভের জন্য কী করতে হবে? পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানের রোজা আর স্বামীর আনুগত্য। ব্যস সোজা বেহেশত।

আর পুরুষকে? অর্থ উপার্জন, স্ত্রী সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব, তাদের দ্বীনি তারবিয়াতের দায়িত্ব, জিহাদের দায়িত্ব, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বসহ কত শত দায়িত্ব। এই সবকিছুর পরও ঘুরেফিরে একজন নারীর পদতলে তার জান্নাতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।তাহলে ঠিক কোথায় নারীর বঞ্চনা?

ইসলামে নারীবাদ কিংবা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে বিপক্ষে নয়। যে কারণে ইসলাম কখনোই সমতার কথা বলে না। সমতা মানেই বে-ইনসাফী। ইসলাম মানবতার কথা বলে। আর এই মানবিক আইন, যা নারীর জন্য সবচেয়ে সহজ; তা অনুসরণের মাধ্যমেই জান্নাত লাভ সম্ভব, যে জান্নাত আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য।

তাহলে কেন দুদিনের পৃথিবীতে অহেতুক পুরুষের মতো হতে চাওয়া, যে দায়িত্ব আমার নয়, তা কাঁধে নেয়ার জন্য কান্নাকাটি করা? সুষ্ঠুভাবে জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ তাআলা যে নীতি দিয়েছেন, তার বিরোধিতা করা?

আমার ইচ্ছা আমি চাকরি করব, আমার যা ইচ্ছা তাই করব, একজন মুমিনার জন্য এমন স্বেচ্ছাচারী চিন্তা ভয়ঙ্কর। আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনলে আপনি কখনোই স্বাধীন নয়। হ্যাঁ, আপনি নিজের ইচ্ছায় রবের দাসত্ব স্বীকার করে এই পরাধীনতা গ্রহণ করেছেন, সে হিসেবে আপনি স্বাধীন। কিন্তু যখন আপনি রবের দাসত্ব কবুল করে নিয়েছেন তখন নিজেকে স্বাধীন প্রমাণের চেষ্টা মূর্খতা মাত্র।

বোন, আল্লাহর দাসত্বে, দ্বীনি আইনের সীমার ভেতরে যে পরাধীনতা, তাতে লজ্জার কিছু নেই। রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও সুবিধার জন্য যদি সরকারের আইন মেনে চলতে মানুষ বাধ্য হয় এবং তার স্বাধীন ইচ্ছা ক্ষুণ্ণ না হয়, তবে সমাজ ও জীবনের শৃঙ্খলার জন্য ইসলামি আইন মানতে লজ্জা কীসের? তখন আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় কী করে?

দুনিয়াতে যদি সামাজিক অথবা রাষ্ট্রীয় কোনো আইন না থাকে তবে এর পরিবর্তে বিশৃঙ্খল ও ভয়ঙ্কর এক পৃথিবীই শুধু প্রতিষ্ঠিত হবে। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়বদ্ধতা থাকবে না, যখন ইচ্ছে ছেড়ে দিয়ে অন্য নারী গ্রহণ করবে। পিতা-মাতা শিশুসন্তানের দায়িত্ব নিতে চাইবে না। সন্তান বৃদ্ধ পিতা-মাতার দায়িত্ব নেবে না। এভাবে অসংখ্য অপরাধ করে বেড়াবে মানুষ! নফসের তো এমনিতেই কোনো আইন থাকে না। আইনই বিবেক তৈরি করে। যার ধর্ম নেই, আইন নেই, তার বিবেকও নেই, রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতাও নেই, তার নফস যা চাইবে সে অবলীলায় তা করে বেড়াবে।

তাই মানবসভ্যতার জন্য আইন অত্যন্ত জরুরি বিষয়। এখন আমার কাছে যদি এই উন্নত সভ্যতার খাতিরেই ধর্মীয় আইন উত্তম মনে হয় এবং আমি নিজের জীবন এই আইনের সীমায় যাপন করব বলে সিদ্ধান্ত নিই তবে সেটা আমারই স্বাধীন ইচ্ছা এবং এই পরাধীনতায় কোনো লজ্জা নেই। তাই অহেতুক নিজেকে স্বাধীন প্রমাণের জন্য ভুলভাল বক্তব্য না দেই আমরা।

পুরুষ হই অথবা নারী, যেই মুহূর্তে আমি বলছি আমি মুসলিম, সেই মুহূর্তেই আমি আল্লাহর দাসত্বের ঘোষণা দিচ্ছি এবং ইসলামের যাবতীয় আইনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ বলে মেনে নিচ্ছি। হ্যাঁ আমি পরাধীন, নিজেকে পরাধীন বলতে কোনো লজ্জা নেই।

মুসলিম হওয়ার পরও মিথ্যে নিজেকে স্বাধীন বলার চেয়ে কী এমন সন্তান প্রতিপালনে মনোযোগী হওয়া উচিত নয়, যে সন্তান শরয়ী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সহযোগী হবে। যে সন্তান আল্লাহর সেই আইন প্রণয়ন করবে, যে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে হিন্দু ও বাঙালি প্রথাগত দুর্দশাসহ যাবতীয় দুঃখ থেকে নারীর মুক্তি মিলবে।

জনপ্রিয় খবর