Monday, January 18, 2021
Home ইসলাম প্রতিদিন মামলায় ‘ভীত নয়’ হেফাজত, প্রয়োজনে কর্মসূচি

মামলায় ‘ভীত নয়’ হেফাজত, প্রয়োজনে কর্মসূচি

শিখো বাংলায়.কম: প্রয়াত আমির আহমদ শফিকে হত্যার অভিযোগে সংগঠনের ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম ভীত নয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনের কয়েকজন নেতা। মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে তারা একে ‘হেফাজতের নব উত্থানকে ধ্বংস’ করার চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন।

তারা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় এ মামলা মোকাবিলার পাশাপাশি প্রয়োজনে সাংগঠনিক কর্মসূচিও দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আহমদ শফির শ্যালক মো. মঈনুদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাম্প্রতিক সময়ে ভাস্কর্য বিরোধী বক্তব্যের কারণে আলোচিত হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক, নাসির উদ্দিন মুনির, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়।

শুক্রবার মামলার প্রতিক্রিয়ায় হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেন, ‘আহমদ শফীর মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক। যা দেশবাসীর সামনে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। তা ছাড়া আহমদ শফীর ইন্তেকালের পর তার পরিবারের পক্ষ বড় ছেলে মাওলানা ইউছুফ এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষকরা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন।

একটি মহল আল্লামা আহমদ শফীর জীবদ্দশায় তাকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে। তাকে ব্যবহার করে নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তারা আলেমদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে’।

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

তিনি বলেন, ‘আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছিল এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন পর নতুনভাবে মামলা দায়ের করা জাতির কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়া জনবিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তির ষড়যন্ত্র বৈ কিছু নয়’।

মামলার আসামি ও হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী মামলার বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘মামলায় আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। হেফাজতের নব উত্থানকে ধ্বংস করা এবং সংগঠনের সঙ্গে জড়িত স্বনামধন্য আলেমদের জাতির সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এ ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ধরনের মামলায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা ভীত নন। আইনি প্রক্রিয়ায় এ মামলা মোকাবিলার পাশাপাশি প্রয়োজনে সারা দেশে এ ব্যাপারে সাংগঠনিক কর্মসূচি দেওয়া হবে’।

উল্লেখ্য, শাহ আহমদ শফির ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীকে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিসহ ১৬ দফা দাবিতে ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর টানা দুই দিন মাদ্রাসা অচল করে রাখেন তারা।

এ নিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাদ্রাসার শূরা কমিটির বৈঠক থেকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন হেফাজতের তৎকালীন আমির আহমদ শফি। একই সঙ্গে আনাস মাদানীকেও মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেয় শূরা কমিটি। ওই দিনই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আহমদ শফিকে। ১৮ সেপ্টেম্বর অসুস্থ অবস্থায় হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকার গেন্ডারিয়া আজগর আলী হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। ওই দিন সন্ধ্যায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আহমদ শফি।

জনপ্রিয় খবর