Wednesday, January 27, 2021
Home আজকের ফতোয়া স্ত্রী রাগ করলে স্বামীর করনীয় কি

স্ত্রী রাগ করলে স্বামীর করনীয় কি

     

মুফতি মাসউদুর রহমান ওবাইদী

  স্ত্রী রাগ করলে স্বামীর করনীয় কি

স্ত্রী রাগ করলে কি কি করণীয় একটা কথা মনে রাখবেন যে মেয়েটার রাগ বেশি তার ভিতরে ভালোবাসার পরিমাণ বেশি উপরে দেখা যায় খুব কঠিন ৷ 

কিন্তু ভিতরের মনটা নরম,এরা হক কথা মুখে বলতে পছন্দ করে।আবার অল্পতেই কান্না করে ফেলে। 

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

যে মেয়েটা রান্না করতেপারতোনা সেই মেয়েটা এখন আপনার জন্যই রান্না করে, যে মেয়েটি পিয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে পানি চলে আসতো।সেই মেয়েটাকে এখন লাকড়ীর চুলার ধোয়াতে বসে আপনার জন্য রান্না করে। যে মেয়েটা মুরগীর পায়খানা দেখে বমি করে ফেলে সেই মেয়েটা এখন আপনার সন্তানের প্রসাব পায়খানা পরিস্কার করে৷ 

কি জন্য এসব করে ভেবে দেখেছেন। মা বাবা ভাই বোন ছেড়ে দিয়ে শুধু আপনার কাছে এসেছে৷ 

 

 বাবা মায়ের আদরের মেয়েটা বাপের বাড়ি বেড়াতে গেলে।মা আসতে দিতে চায় নাহ। কিন্তু মেয়েটা বলে তোমার জামাই রাগ করবে আর ও বাড়িতে একা আছে।আমাকে আজকেই যেতে হবে। আপনি কী এমন ব্যাক্তি,,, যে আপনার স্ত্রী আপনাকে এতো প্রধান্য দেয়।মায়ের কথা অমান্য করে ছুটে আসতেছে আপনার কাছে। তাহলে সে রাগ করার অধিকার রাখবে নাতো কে অধিকার রাখবে বলুন। স্ত্রী যদি রাগ করে তার রাগ ভাঙ্গিয়ে দেয়া আপনার দায়িত্ব। হযরত ওমরের দরবারে এক ব্যাক্তি আসতেছে বউয়ের নামে বিচার দিতে, হঠাৎ বাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখছে হযরত ওমর (রাঃ) এর স্ত্রী, ওমরকে খুব কড়া ভাষায় কথা শুনাচ্ছে। এই কড়া ভাষায় কথা শুনে লোকটি চলে যাচ্ছে এমন সময় হযরত ওমর ডাক দিয়ে বলছে ভাই আপনি এসেছেন আবার ঘুরে যাচ্ছেন৷

লোকটি জবাব দিলো আমিরুল মুমিনীন আমার দরকার নাই। হযরত ওমর বললো আরে ভাই বলুন না কি জন্য এসেছেন।লোকটি বললো আমি এসেছিলাম আমার বউয়ের বিচার দিতে। কিন্তু আমি এসে দেখছি আপনার স্ত্রী আপনাকে অনেক কড়া কড়া কথা শোনাচ্ছে। এর চেয়ে আমার স্ত্রী হাজার গুনে ভালো আমাকে এতো কড়া কথা কয় নাহ। তখন হযরত ওমর বললেন ভাই,,,,,, যে মেয়েটা আমার জন্য এতো কিছু করে।সংসারের এতোকাজ করে তার কি একটু কথা সয্য করতে পারবনা,,,,কেমন পুরুষ মানুষ আমরা। ভাই আপনার স্ত্রী রাগ করেছে তর্ক না করে চুপ করে থাকুন…..!!!! নয়তো অন্য ঘরে চলে যান শয়তানের হাত থেকে পানা চান। কারণ শয়তান স্বামী স্ত্রীর ভিতরে ঝগড়া বাদিয়ে দেয়ার চেষ্টায় থাকে হাদিসে আছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘স্বামী-স্ত্রীর মাঝে শয়তানে ঝগড়া লাগিয়ে দেয়, যাতে তারা একজন থেকে আরেকজন পৃথক হয়ে যায়।’ [সহীহ মুসলিম : ৫০৩৯] স্ত্রী রাগ করে বলছে খাবোনা এখন আপনি যদি বলেন তুই খাবিনা তোর বাপ খাবে। তাহলে সম্পর্ক শেষ,আবার সংসার ও শেষ…!!! যে সময় আপনার বউ খাবেনা ওই সময় খাবারের থালা হাতে নিয়ে যাবেন গিয়ে বলবেন সরি গো আমার ভুল হয়েছে। এবার তো খেয়ে নাও প্লিজ, তাও যদি রাগ করে থাকে….!!!! তাহলে তার পছন্দের কথা বলে রাগ ভাঙ্গাবেন যেমন ধরুণ অনেক মেয়ে গান পছন্দ করে আপনি তাকে প্রেমের গান শোনাবেন। তুমি আমার এমনি একজন যারে এক জনমে ভালোবেসে ভরবেনা, এ মন। এক জনমের ভালোবাসা এক জনমের কাছে আসা একটি মেয়ের পলক পড়তে লাগে কতক্ষণ এইভাবে গান শোনাবেন,দেখবেন রাগ অটোমেটিক চলে গেছে।তবুও রাগের ভান করে আছে। তখন আপনি তার পছন্দের জিনিস নিয়ে দিতে চাইবেন। যেমন ধরুণ আপনার স্ত্রী শাড়ি পছন্দ করে এই সেদিন বাজারে কি সুন্দর জামদানি শাড়ি দেখলাম।আমি তোমাকে একটা শাড়ি দেব, তারপরও মন খারাপ করে আছে। আমি তোমাকে দুইটা দেব।তিনটা দেব। তখন বলবে কখন শাড়ি কিনে দিবা বলো এইযে রাগ ভেঙ্গে বললো কবে শাড়ি দিবা এতে করে একটা ওমরাহ হজের সাওয়াব আপনার আমল নামায় চলে গেছে….!!! আপনি শাড়ি দেন আর নাইবা দেন রাগ ভাঙ্গাতে হবে তো……!!! স্ত্রী আপনার উপর রাগ করবে এটা তার অধিকার,আপনি তার ভাঙ্গাবেন এটা আপনার দায়িত্ব। কারণ আপনাকে ভালোবাসেই বলে আপনার উপর রাগ করে।আর মানুষ ভালোবাসার মানুষের কাছেই রাগ করে। আদর দিয়ে, ফানি কথা বলে, প্রেমের গান শুনিয়ে তার রাগ ভাঙ্গাবেন।এইভাবেই মেয়েদের রাগ ভাঙ্গাতে হয়।কারণ এরা বাকা হাড়ের তৈরী আপনার বউ আপনার বাম পাজরের হাড় ডাইরেক্ট সোজা করতে গেলে ভেঙ্গে যাবে হাদিসে আল্লাহর নবী বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে পুরুষেরা! তোমরা নারীদেরকে সর্বদা সুু উপদেশ দাও। কেননা তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে বাম পাঁজরের বাঁকা হাড় দিয়ে। তুমি যদি তাকে সোজা করতে চাও, তাহলে তা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি একেবারে ছেড়ে দাও তাহলে সে বাঁকাই থাকবে।’ [বুখারি : ৫১৮৬] স্ত্রীকে রান্নার কাজে সাহায্য করবেন জ্বর আসলে বা অসুস্থ হলে সেবা যত্ন করা আপনার জন্য ফরজ..!!! মা আয়েশা রুটি বানাতে বানাতে ঘুমিয়ে গেছে আল্লাহর নবী যুদ্ধের ময়দান থেকে এসেছে পেটে প্রচন্ড ক্ষুদা…!!! তাকিয়ে দেখছে মা আয়েশা ঘুমিয়ে গেছে আল্লাহর নবী আসতে করে আটা খামির করলেন রুটি বানালেন।তারপর গোস্ত রান্না করলেন তারপর মা আয়েশাকে পায়ের তালুতে সুড়সুড়ি দিয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত করলেন। মা আয়েশা তাকিয়ে দেখে রান্না বান্না সব কিছু কম্প্লিট। 

 মা আয়েশা বলতেন আমি যখন বিশ্ব নবীর ঘরে যাই।ঘরে আমাদের কিছুই ছিলোনা কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে ঘরটা ভরপুর ছিলো। মা আয়েশা যখন রাগ করতেন তখন বিশ্ব নবী মরুভুমি দৌড় দিতেন। কারণ বিশ্বনবী জানতেন আয়েশা দৌড় প্রতিযোগিতা পছন্দ করতেন। আরেকটা জিনিস সাবধান করে দিই কোন লোক স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে মারবেন না এমনটা যদি করেন কিয়ামতে ফেরাউনের কাতারে দাড়াতে হবে….!!! আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দান করুণ।

জনপ্রিয় খবর