Wednesday, January 27, 2021
Home ইসলাম প্রতিদিন সালাম: হৃদয় থেকে হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় প্রশান্তির পয়গাম

সালাম: হৃদয় থেকে হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় প্রশান্তির পয়গাম

মাওলানা মো: আবু সালেহ্।।

সালামের অর্থ ও সংজ্ঞা

সালাম ( سلام‎) একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ- শান্তি, প্রশান্তি কল্যাণ, দোআ, আরাম, আনন্দ, তৃপ্তি। সালাম একটি সম্মানজনক, অভ্যর্থনামূলক, অভিনন্দনজ্ঞাপক, শান্তিময় উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন পরিপূর্ণ ইসলামী অভিবাদন পদ্ধতি।

‘আস্-সালাম’ আসমাউল হুসনা তথা, আল্লাহ তাআলার সুন্দর নামসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি নাম এবং জান্নাতের নামসমূহের মধ্যে একটি জান্নাতের নামকরণও করা হয়েছে এই একই নামে।

সালামের যতো ফজিলত:

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

সালাম একটি সুন্নত আমল। একটি শান্তির বারতা। হৃদ্যতাপূর্ণ অভিবাধন। প্রতি দিনের সম্বোধন। প্রতিক্ষণের সম্প্রীতি। মুমিন মানেই সালামের আমল। ইসলামের যতগুলো সুন্দর দিক আছে; যতগুলো সৌন্দর্য্য ইসলামকে সৌন্দর্য্যমন্ডিত করেছে, তার অন্যতম একটি হল সালাম। সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহুমগণের পক্ষ হতে রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো, ইসলামের কোন আমল সর্বোত্তম? জবাবে শন্তির বার্তাবাহক রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘অভাবীদের পানাহার করানো, আর পরিচিত অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া।’ -আবু দাউদ- ৫১৯৬

বুখারী শরিফের অন্য এক হাদিসে বর্নিত হয়েছে- ‘তিনটি জিনিস যে ব্যক্তি একত্রিত করতে পারবে সে ঈমান একত্রিত করল, (১) নিজের ব্যাপারেও ইনসাফ করা, (২) জগতের সকলকে সালাম দেওয়া, আর (৩) অল্প সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তা থেকে ব্যয় করা।’ -বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১/৮২, নং ২৮; আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মাওকূফ ও মু‘আল্লাক হিসেবে।

সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটানোর মাধ্যমে সমাজে প্রবাহিত করা সম্ভব শান্তির স্নিগ্ধ সমীরণ। সালামের আমল দ্বারা সমাজের সকলের মাঝে পারস্পারিক শান্তি, সৌহার্দ্য ও হৃদ্যতা ভালোবাসার প্রাসাদ নির্মান করা সম্ভব। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জীবনে বাস্তবে আমল করে দেখিয়ে তার দৃষ্টান্ত আমাদের জন্য রেখে গেছেন। তিনি এই আমলটিকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে, কেমন জানি পরস্পর ভালোবাসার মানদন্ডই নির্ধারণ করেছেন সালামের আদান প্রদানকে। হযরহ আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«لا تدخلوا الجنة حتى تؤمنوا ولا تؤمنوا حتى تحابوا أو لا أدلكم على شيء إذا فعلتموه تحاببتم؟ أفشوا السلام بينكم» رواه مسلم.

‘তোমরা কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না; যতক্ষণ না তোমরা ঈমান গ্রহণ করো, আর ততক্ষন পর্যন্ত তোমরা ঈমানকে পরিপূর্ণ করতে পারবে না যতক্ষন পর্যন্ত নিজেদের মাঝে ভালোবাসা আর শান্তির পরিবেশ গড়ে তুলবে।’ অতঃপর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন কিছু বলে দিবো, যা তোমরা আমল করলে তোমাদের পরস্পর আত্মার সর্ম্পক স্থাপন হবে- তাহলে শোন, নিজেদের মাঝে সালামের প্রচার ঘটাও।’ -ইবনে মাযা- ৩৮২৩

উল্লিখিত দু’টি হাদিস দ্বারা একথা প্রমাণিত হয়, শান্তির জন্য সালামের প্রচার প্রসার ঘটানো জরুরী। এছাড়াও যদি সালামের অন্যান্য দিকগুলো দেখি তাহলেও দেখা যাবে যে, সালাম কতোটা গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। বিদেশি সভ্যতা সংস্কৃতির অনুসরণে এই যুগে আমরা সালামকে ভুলতে বসেছি। অনর্থক অথবা কখনো কখনো অর্থহীন কিছু বিদেশী শব্দোচ্চারণে সম্বোধন আদান প্রদানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। টাটা, হাই, হ্যালোর মত অর্থহীন শব্দ সম্ভার ব্যবহারসহ সকালে দেখা হলে গুড মর্নিং, শুভ সকাল, বিকেলে দেখা হলে গুড ইভিনিং, শুভ সন্ধ্যা, রাতে গুড নাইট, শুভ রাত্রি ইত্যাদি কথামালা আমাদের সমাজ জীবনের নিত্য দিনের অনুষঙ্গে পরিণত হয়ে উঠছে। সম্মানিত পাঠক, প্রশ্ন আসে, এগুলো বলার দ্বারা সত্যিকারার্থে ফায়দা কি? বড় জোর যাকে এ কথা বলে সম্বোধন করা হয় তাকে খুশি করার একটা প্রচেষ্টা এর ভেতরে থাকতে পারে। কিন্তু একজন মুসলিম তো তার প্রতিটি কথা এবং কাজে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সন্তুষ্টিকে সবার উপরে প্রাধান্য দিবে। প্রিয়তম রাসূলের প্রতিটি আদর্শকে জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভালোবাসায় পরিপালন করে তাঁর প্রতি মুহাব্বতের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে হুব্বে রাসূলের নমুনা বানাবে নিজেকে।

পক্ষান্তরে এই যে বিজাতীয় সংস্কৃতি সভ্যতার অনুকরণে তাদের মুখের বুলিকে আমরাও পরম আগ্রহে গলধঃকরণ করে যাচ্ছি, তাদের সম্ভাষন রীতিকে নিজেদের মনে করে আনন্দিত বোধ করছি, তার ভেতরে কি আছে আমাদের সভ্যতা সংস্কৃতি! নাকি কোনো পূন্য, সওয়াব! তাহলে কেন এগুলো হবে আমাদের নিত্য পালনীয়? এমনিভাবে গুড আফটারনুন, গুড ইভিনিং, গুডনাইট নয়; বরং সালামকে করতে হবে আমাদের প্রারম্ভ এবং পরিশেষের প্রাককথন এবং ইতিকথা।

সালামের আরও কিছু ফজিলত:

সালামের ফযিলত সম্পর্কিত হাদিস রয়েছে প্রচুর। সেই ফযিলতে উৎসাহিত হয়ে সাহাবায়ে কেরাম সমাজের মধ্যে সালামের রব উঠিয়েছেন। হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিলেন- ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে; রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জবাব দিয়ে বলেন, ‘তার দশটি সওয়াব হলো।’ আরেক জন সালাম দিলেন- ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ’ বলে; উত্তর দিয়ে তিনি বললেন, ‘তার বিশটি সওয়াব হলো।’ আরেকজন এলেন এবং তিনিও সালাম দিলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ’ বলে; উত্তর দিয়ে তিনি বললেন- ‘তার ত্রিশটি সওয়াব হলো।’

অন্য রেওয়ায়েতে আছে, সালাম দিলেন আসসালু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ ওয়ামাগফিরাতুহ’ বলে; উত্তর দিয়ে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তার চল্লিশটি সওয়াব হলো।-আবুদাউদ : ৫১৯৪

সালাম আদান প্রদানে বহুমুখী ফায়দা:

হাদীসের ভাষ্যানুসারে, সাহাবায়ে কেরামগন বেশি বেশি বাজারে যেতেন এই উদ্দেশ্যে যেন বেশি বেশি সালাম বিনিময় করতে পারেন। সালাম দ্বারা চতুর্মুখী ফায়দা হাসিল হয়। কেননা সালামের দ্বারা-

প্রথমত: আল্লাহ তাআলার যিকর তথা, আল্লাহ পাককে স্মরন করা হয়।

দ্বিতীয়ত: অপর ভাইয়ের সঙ্গে ভালোবাসা স্থাপিত হয়।

তৃতীয়ত: অপরের জন্য শান্তি, সুখ ও নিরাপত্তার দুআ করা হয়।

চতুর্থত: চেনা অচেনা যার সাথে দেখা হয়, দেখা হওয়া মাত্র সকল কথাবার্তার পূর্বে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে প্রথমেই তাকে এ কথার ওয়াদা করা হয় যে, আপনি আমার হাত-পা-মুখ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ।

এতোগুলো পুণ্যের কাজ পৃথকভাবে করতে কতো সময় ও শ্রমের প্রয়োজন। অথচ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত বাস্তবায়ন করার দ্বারা একসাথে নিমিষে অনেকগুলো সওয়াব আমলনামায় লেখার সুযোগ করে দেয় সালাম।

সালামের আদব এবং আরও কিছু ফায়দা:

‘সালাম’ মহান আল্লাহ তাআ’লার একটি গুণবাচক নাম। এটিই হবে জান্নাতিদের সম্ভাষন। এই শব্দের মধ্যে নিহিত রয়েছে আশ্চর্য্য এক ঐশী শক্তি। কেননা সালাম শব্দের ব্যবহার স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই তাঁর চিরন্তন ও শ্বাশত বাণী কুরআনে পাকে করেছেন। যেমন- তিনি বেহেশতবাসীদের ‘সালামুন আলাইকুম তিবতুম’ বলে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করবেন বলে জানিয়েছেন। তাই আল্লাহ পাকের পছন্দনীয় শব্দের ব্যবহার তাঁর রহমতের বারিধারা অবতীর্ণ হওয়াকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে- এটা কি খুবই স্বাভাবিক নয়? সালামদাতা ও গ্রহিতা উভয়ের মাঝে সৃষ্টি হয় মধুর সম্পর্ক। এ জন্য রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামকে পারস্পারিক প্রীতি ও ভালবাসা সৃষ্টির সহায়ক শক্তি হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে প্রতিটি কর্মের একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে, যার অনুকরণে কাজটির অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য্য ফুটে উঠে।

হযরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আরোহী ব্যক্তি হেটে চলা ব্যক্তিকে, চলমান ব্যক্তি থেমে থাকা ব্যক্তিকে, আগমনকারী অবস্থানকারীকে, কমসংখ্যক লোক বেশী সংখ্যককে এবং কম বয়সী বেশী বয়সীকে সালাম প্রদান করা উত্তম।’

হাদিসে বর্ণিত এই নিয়মানুবর্তিতা সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে।

হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, ‘একবার রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাদেরকে সালাম দিয়েছিলেন।’

তবে এই হাদিস দ্বারা বুঝা যায় যে, সালাম দেয়া সার্বজনীন। এখানে বিশেষ কোন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা উচিত নয়। কে আগে দেবে, কে পরে দিবে ব্যাপারটা গৌণ; মূল উদ্দেশ্য হল, সালামের প্রথা চালু করা, সালামের বরকত হাসিল করা। এ কারণে আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট ছোট বালকদেরও সালাম দিয়েছেন। আমাদেরও এমনই হওয়া উচিত।

রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘প্রথমে সালাম প্রদানকারী অহংকার মুক্ত।’ -বাইহাকি

সালাম এবং উত্তর প্রদান উভয়টিই হতে হবে স্পষ্ট উচ্চারণেঃ

সালাম এবং উত্তর প্রদান উভয়টিই হতে হবে স্পষ্ট উচ্চারণে। কারণ, আরবি ভাষার উচ্চারণ সামান্য কমবেশীতেই অর্থের বিকৃতি ঘটে। যেমন ‘আস-সামু আলাইকুম’ এর অর্থ- ‘আপনার মৃত্যু হোক’। এতে শান্তি কামনার বিপরীতে অশান্তি কামনা করা হয়। সালামের অপব্যবহারসহ এর উদ্দেশ্য ব্যহত হয়। ইহুদিরা মুসলমানদের এভাবে বিকৃত করে সালাম দিত। তাদের এই ধরণের উদ্দেশ্য প্রণোদিত সালামের উত্তরে রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ওয়া আলাইকুম’ অর্থাৎ ‘তোমাদের প্রতিও’ বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে দুঃখজনকভাবে ইদানিংকালে স্পষ্ট উচ্চারণে সালাম এবং সালামের উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রেও নতুন ফতোয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি, ঢাবির জনৈক অধ্যাপক স্পষ্ট উচ্চারণে সালাম এবং সালামের উত্তর দেয়ার ভেতরে নতুন করে জঙ্গিবাদের নমুনা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। আত্মবিকৃত জাতির পরিণাম হয়তো এমনই হয়। ইসলামি তাহজিব তামাদ্দুন বিস্মৃত এ জাতির আজ কি হলো? অপরাপর জাতির অন্ধানুকরণপ্রিয় কিছু নামধারী মুসলিমের বোধ বিশ্বাস কোথায় নেমে যাচ্ছে? তাদের ক্ষয়িষ্ণু বিশ্বাস আর আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব ঘূণে ধরা আমল অবশেষে তাওহিদের আলোহীন স্রেফ অন্ধকারের কৃষ্ণ গহবরের দিকে ধাবিত করছে তাদের। এ পথ থেকে তাদের ফিরে আসার সময় কি এখনো হয়নি? আলোর পথ যে ডাকছে তাদের। প্রিয় নবীজির রেখে যাওয়া দ্বীন আজ পরিত্যক্ত! দ্বীনে হক্ক আজ বুক চাপড়ে আর্তনাদ করছে! মুসলিমদের কাছে আরতি জানাচ্ছে, তুমি তো মুসলিম সন্তান! মুসলিম মায়ের স্তন্য পান করেছো তুমি! ইসলামের পবিত্র রক্তধারা বহমান তোমার শরীরে! তুমি আজ আমাকে ছেড়ে দিয়েছো! তুমি দ্বীন ভুলে গিয়েছো! তুমি রাসূলের আদর্শ ভুলে গিয়েছো! জগতের প্রতিটি মানুষের কাছে দ্বীনে হক্ক হৃদয়ের মিনতি জানাচ্ছে, ফিরে এসো, ফিরে এসো মানুষ। ফিরে এসো দ্বীনের ঝান্ডাতলে! শান্তির পয়গাম এখানেই! মুক্তির পথ এটাই! ফিরে এসো, ফিরে এসো! আল্লাহ পাক কতই না মায়া ভরা কন্ঠে তোমাদের ডেকে ডেকে বলছেন-

يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ

হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল?

সালাম প্রদানের পদ্ধতি:

স্পষ্ট ভাষায় ‘আস-সালামু আলাইকুম’ বলে সালাম দিতে হবে। উত্তরে একটু বাড়িয়ে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি’ বলে জবাব দেয়া উত্তম। আরও সুন্দর হবে, যদি সালাম দেয়ার ক্ষেত্রে ‘আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি’ বলা হয় এবং সালামের জবাব দেয়ার ক্ষেত্রে ‘ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকুতুহু’ বলা হয়।

সালামের জবাব সালামদাতাকে শুনিয়ে দেয়া জরুরী। শোনানোর পরিবেশ না থাকলে ইশারায় জবাব দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যের পক্ষ থেকেও সালাম পৌঁছানো যায়। যেমন কেউ বললেন, ‘অমুক ব্যক্তি আপনাকে সালাম বলেছেন।’ এর উত্তর হল- ‘ওয়া আলাইকা ওয়া আলইহিস সালাম’, অর্থাৎ ‘আপনার এবং তার উভয়ের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক’। সুতরাং, হাদিসের আলোকে উপরোক্ত আলোচনা হতে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, সামাজিক জীবনে সালামের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে এবং এর ফলাফল সমাজের সর্বস্তরের মানুষকেই প্রভাবান্বিত করে থাকে।

জান্নাতে সালামের সূচনা; সালাম আদান প্রদান শরিয়তের সর্বপ্রথম নির্দেশ:

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজরত আদম আলাইহিস সাল্লামকে সৃষ্টি করে তার মধ্যে রূহ প্রদান করার পর যখন আদম আলাইহিস সাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন, তখন আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে আদম আলাইহিস সাল্লামকে বলেছিলেন, ‘তোমার সামনে যারা বসা আছে, তারা হলো ফেরেশতা, তাদের সালাম কর এবং সালামের জবাবে তারা কী বলে, তা আমাকে শোনাবে।’

তখন হজরত আদম আলাইহিস সাল্লাম ফেরেশতাদের লক্ষ্য করে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’

জবাবে ফেরেশতারা বলেছিলেন, ‘ওয়ালাইকুমুসসালাম, কিংবা আসসালামু আলাইকুম।’

তারপর আল্লাহপাক জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আদম! ফেরেশতারা তোমার সালামের জবাবে কী বলেছে?’

হজরত আদম আলাইহিস সালাম জবাব শোনালেন।

আল্লাহ পাক বললেন, ‘যেই দ্বীন ইসলামের জন্য আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি, পৃথিবী সৃষ্টি করেছি, জান্নাত সৃষ্টি করেছি, সেই দ্বীন ধর্মের পরিবর্তন-পরিবর্ধন হবে; কিন্তু এটা এমন একটি আমল দিলাম, এটা যদি তোমার সন্তানদের মধ্যে সহি শুদ্ধভাবে চালু থাকে তাহলে তার মধ্যে ঈমান আসবে, মৃত্যু পর্যন্ত তার মধ্যে ঈমান অবশিষ্ট থাকবে, কবর হাশরে শান্তি পাবে, অবশেষে আমি তাকে সালাম করে জান্নাতে নিয়ে যাব।’

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন, ‘হে নবী! আপনার উম্মতের মধ্যে যদি সহিহ সালাম অধিক হারে চালু থাকে, তাহলে তাদের ঈমানি মৃত্যু ও জান্নাত লাভ অতি সহজ হবে।’

ভ্রাতৃত্ববন্ধনের অপর নাম সালামঃ

‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাাহি ওয়াবারাকাতুহ’ এর অর্থ হচ্ছে, ‘আপনার উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।’ সালামের উত্তর হলো ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকা-তুহ’। অর্থাৎ ‘আপনার উপরেও আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।’

একজন মুসলমানের সঙ্গে যখন অন্য মুসলমানের দেখা হয় তখন প্রথমে সালাম করা উচিত। যেমনটি হাদিসে এসেছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আসসালামু কাবলাল কালাম’, অর্থাৎ, ‘প্রথমে সালাম পরে কালাম বা কথা হবে।’ -তিরমিজি

কে কাকে সালাম দিবে?

ছোট বড়কে, বড় ছোটকে, সন্তান পিতা-মাতাকে, পিতা-মাতা সন্তানকে, স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে সালাম করবে। সালামের ক্ষেত্রে সবাই সমান। আমাদের অনেক ছেলে-মেয়েরা নিজের পিতা-মাতাকে এবং স্বামী-স্ত্রীকে, স্ত্রী-স্বামীকে কিংবা ভাই-ভাইকে সালাম দিতে চায় না, যা একেবারেই অনুচিত। সালাম বিনিময় দ্বারা পরস্পর মায়া-মহব্বত তৈরি হয়। বিশেষ করে অনেক পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কারণে-অকারণে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। তারা যদি খাঁটি মনে নিজেদের মধ্যে সালাম বিনিময় করে তখন দেখা যাবে ঝগড়া- বিবাদ ভালোবাসায় রূপান্তরিত হয়ে যাবে। আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় ঘরের মধ্যে ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের ছেলেমেয়েরা যা দেখবে তাই কিন্তু শিখবে। তাই হিসাব করে চলতে হবে। সালামের গুরুত্ব এক কথায় বলতে গেলে অপরিসীম।

সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুমগনও ছোট-বড় সবাইকে সালাম করতেন। তারা নিজেদের মধ্যে খুব বেশি বেশি সালামের প্রচলন ঘটাতেন। এমনকি একবার সালাম করার পর গাছের আড়াল হয়ে গেলে, যখন গাছ পার হয়ে আসতেন তখন আবার সালাম করতেন।

সালাম অহমবোধের মূলোতপাটন করেঃ

কোনো মানুষের মধ্যে অহংকার থাকা খুবই খারাপ। অহংকার পতনের মূল। অহংকারের কারণেই মানুষকে পদে পদে অপমানিত হতে হয়। তাই অহংকারমুক্ত জীবন গঠন করা প্রকৃত ঈমানদারের কাজ। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ বিন উমার রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু সালামের খুব বেশি গুরুত্ব দিতেন। তিনি চিঠিতে ছোট-ছেলে মেয়েদের প্রতিও সালাম জানাতেন। সালামের ব্যাপারে তিনি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর, সবার আগে ছিলেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগে যেমন কোনো সাহাবি সালাম করতে পারতেন না, তেমনি হজরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুও কাউকে আগে সালাম দেয়ার অবকাশ দিতেন না। শেষ জীবনে তার অবস্থা এমন হয়েছিল যে, শুধু সালাম করার জন্য তিনি বাজারে যেতেন। বাজারে যার সঙ্গে দেখা হতো তাকে সালাম করতেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি বাজার থেকে কিছু না কিনে আবার চলে আসেন তার কারণ কী?’

তিনি জবাব দিলেন, ‘আমি শুধু সালাম করার জন্য বাজারে আসি।’

সালাম; হৃদয় থেকে হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় প্রশান্তির পয়গামঃ

বিশ্ব মানবতা শান্তির অন্বেষায় যখন পাগল প্রায়। মানবতা যখন আইয়ামে জাহেলিয়াতের ঘূনে ধরা অন্ধকারাচ্ছন্ন তমসায় ডুবুডুবু। বিশ্ববাসী মানবকুল যখন শান্তি শান্তি বলে হাহাকার করছিল তখনই জাবালে নূর তথা হেরা পাহাড়ের দ্যুতিময় গুহা থেকে শান্তির প্রদীপ নিয়ে বেরিয়ে এলেন শান্তির দূত, মানবতার মুক্তির দিশারী সাইয়্যিদুল মুরসালিন খাতামুন্নাবিয়্যিন মুহাম্মদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বিশ্বমানবতাকে তিনি শেখালেন, কী করে শান্তিতে থাকা যায়। কীভাবে মানুষে মানুষে মিলেমিশে সুন্দরভাবে বসবাস করা যায়। একটি শান্তিময় সুন্দর সমাজ পরিগঠনের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে কারও সঙ্গে দেখা হলে প্রথমেই তাকে অভয় দেয়া, তাকে মনে করিয়ে দেয়া যে, আমরা শান্তিপ্রিয়-শান্তিকামী। তাই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্বাসীদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ, লেনদেন, কথাবার্তার শুরুতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বাক্যটি শিখিয়েছেন। ‘আসসালামু আলাইকুম’ মানে আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। কেউ যখন কারও সঙ্গে সাক্ষাতের পর বলে, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তখন স্বাভাবিকভাবেই শান্তিতে থাকা ও শান্তি বজায় রাখার মানসিকতা তৈরি হয়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ওয়া ইজা হুইয়িতুম বিতাহিয়্যাতিন ফাহাইয়ু বিআহসানা মিনহা আও রুদ্দু হা।’

অর্থ, ‘কেউ যখন তোমাকে সালাম দেয়, তুমি তাকে এর চেয়ে ভালোভাবে সালাম দাও। অথবা তার মতো করেই সালাম বল।’

সালাম দেয়া সুন্নত। আর সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। কেউ যদি সালামের জবাব না দেয় তবে সে বড় গুনাহগার হবে। যে সালাম দেয় সে নব্বই নেকি পায়। আর যে সালামের জবাব দেয় সে পায় ১০ নেকি। মূলত এ কারণেই সাহাবিদের মধ্যে সালাম দেওয়ার প্রতিযোগিতা লেগে যেত। সবাই চেষ্টা করত যেন আগে আগে সালাম দিয়ে ৯০ নেকি অর্জন করতে পারে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেউ কখনো আগে সালাম দিতে পারেননি। এমনকি লুকিয়ে থেকেও কেউ কেউ চেষ্টা করেছেন নবীজিকে আগে সালাম দিতে। কিন্তু সাহাবিরা কখনো নবীজির আগে সালাম দিতে পারতেন না।

প্রিয় ভাই, আসুন! আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া শান্তি-সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে আবার প্রতিযোগিতা করে সালামের প্রচলন করি। নিজে শান্তিতে থাকি। সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট হই। আল্লাহ পাক তাওফিক দান করুন।

অন্যান্য নবীদের জীবনে সালামের প্রচলনঃ

ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর ক্ষেত্রে, আল কুরআনে পাওয়া যায়-

‘এবং অবশ্যই আমার ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহীমের নিকট এসেছিল। তারা ‘সালাম’ জানায়। তিনিও ‘সালাম’ দেন।'[৬]

অন্যের গৃহে সালাম না দিয়ে প্রবেশ করা নিষেধঃ

আল কুরআনে আল্লাহ পাক নির্দেশ দিয়েছেন যে,

[৯] يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَدۡخُلُواْ بُيُوتًا غَيۡرَ بُيُوتِكُمۡ حَتَّىٰ تَسۡتَأۡنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَهۡلِهَاۚ ذَٰلِكُمۡ خَيۡرٞ لَّكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُونَ

‘হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম। যাতে তোমরা স্মরণ রাখো।’

হাদিসে অন্যের গৃহে গিয়ে তিনবার সালাম দিতে বলা হয়েছে এবং অনুমতি প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। অনুমতি না পেলে চলে আসতে বলা হয়েছে।

সালাম আদান প্রদানে লক্ষ্যনীয় আরও কিছু আদবঃ

আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে মারফু হাদিস বর্ণিত, তিনি বলেন,

«يجزي عن الجماعة: إذا مروا أن يسلم أحدهم ويجري عن الجلوس أن يرد أحدهم» رواه أبو داود.

“যখন কোন জামাত অতিক্রম করে, তখন তাদের থেকে যে কোন একজনের সালাম যথেষ্ট হবে এবং কোন মজলিস হতে যে কোন একজন সালামের উত্তর দিলে তা সকলের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে”। আবু-দাউদ ।

সালাম দেয়ার পদ্ধতি:

যে ব্যক্তি আগে সালাম দেবে, তার জন্য মোস্তাহাব হল, সে বলবে- «السلام عليكم ورحمة الله وبركاته» সালাম দেয়ার ক্ষেত্রে বহুবচন শব্দ ব্যবহার করবে। যদিও উপস্থিত ব্যক্তি একজন হয়। আর সালামের উত্তর দাতা এ বলে উত্তর দেবে: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته، সালামের উত্তরে واو العطف উল্লেখ করবে। আর মনে রাখবে, সালাম দেয়ার সময় কেউ যদি السلام عليكم এবং উত্তর দেয়ার সময় শুধু وعليكم السلام. বলে, তাতে সালাম আদায় হয়ে যাবে। যখন কোনো একজন মুসলিমকে সালাম দেয়া হল, তারপর তার সাথে যতবার দেখা হবে, ততবার সালাম দেবে। কারণ, হাদিসে সালামকে প্রসার করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন, «أفشوا السلام بينكم» “তোমরা সালামকে প্রসার কর”।

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إذا لقي أحدكم أخاه فليسلم عليه، فإن حالت بينهما شجرة أو جدار أو حجر ثم لقيه فليسلم عليه» رواه أبو داود، وحديث المسيء وتقدم.

“যখন তোমরা তোমাদের কোন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত কর, তাকে সালাম দাও। যদি তোমাদের উভয়ের মাঝে কোন গাছ কিংবা পাথর বা দেয়াল বিচ্ছিন্নতা ঘটায়, তারপর আবার দেখা হয়, তাহলে আবারও সালাম দাও”।

মনে রাখবে, আগে সালাম দেয়া সুন্নত। কারণ, আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে হাদিস বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,

«إن أولى الناس بالله من بدأهم بالسلام»

“নিশ্চয় আল্লাহর নিকট উত্তম ব্যক্তি সে যে মানুষকে আগে সালাম দেয়”। বর্ণনায় আবু-দাউদ শক্তিশালী সনদে।

মজলিস থেকে ফিরে যাওয়ার সময়, সালাম দেয়া মুস্তাহাব। কারণ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«إذا انتهى أحدكم إلى المجلس فليسلم فإذا أراد أن يقوم فليسلم فليست الأولى بأحق من الآخرة»

“যখন তোমরা কোন মজলিসে গিয়ে পৌছবে তখন তুমি সালাম দেবে। আর যখন তুমি মজলিস শেষ করে মজলিস থেকে উঠে দাঁড়াবে, তখনও সালাম দেবে। প্রথম সালাম শেষের সালাম থেকে অধিক গুরুত্ব বহন করে না”। বর্ণনায় আবু-দাউদ ও তিরমিযী এবং ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদিসটি হাসান।

বাচ্চাদের সালাম দেয়া মুস্তাহাব। প্রমাণ:

عن أنس أنه مر على صبيان فسلم عليهم وقال: «كان رسول الله  يفعله» متفق عليه

অর্থ: আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বাচ্চাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন এবং তাদের সালাম দেন এবং বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ অনুরূপ করতেন। -বুখারি ও মুসলিম।

সালামের আরও কিছু জ্ঞাতব্যঃ

ছোটরা বড়দের সালাম দেবে, কম লোক বেশি লোককে সালাম দেবে এবং আরোহী ব্যক্তি পায়ে হাটা ব্যক্তিকে সালাম দেবে। কারণ, আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,

«ليسلم الصغير على الكبير، والمار على القاعد، والقليل على الكثير» متفق عليه، وفي رواية لمسلم: «والراكب على الماشي».

“ছোটরা যেন বড়দের সালাম দেয়, পায়ে হাটা ব্যক্তি যেন বসা ব্যক্তিকে সালাম দেয় এবং কম সংখ্যক লোক যেন বেশি সংখ্যক লোককে সালাম দেয়”। বুখারি ও মুসলিম। আর মুসলিমের বর্ণনায় বর্ণিত, “আরোহী ব্যক্তি পায়ে হাটা ব্যক্তিকে সালাম দেবে”।

যখন দুই সাক্ষাতকারী পরস্পর সালাম দেয় এবং পরস্পরের সালাম শুনতে পায়, তখন উভয়ের উপরই সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। আর যখন কোনো এক দল লোক কোনো বসা ব্যক্তি বা বসা লোকদের মজলিসে উপস্থিত হবে, তখন সে প্রথমে তাদের সালাম দেবে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন, «والمار على القاعد» আর যখন কোনো ব্যক্তি দেয়ালের ওপাশ থেকে সালাম দেয়, তখন তার নিকট সালাম পৌছার পর, উত্তর দেয়া ওয়াজিব।

আর যখন কোনো ব্যক্তি দূর থেকে চিঠির মাধ্যমে অথবা দূতের মাধ্যমে কাউকে সালাম দেয়, তখন তার নিকট সালাম পৌছার পর সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব। তবে মোস্তাহাব হল, দূতকেও সালাম দেয়া এবং এ কথা বলা, وعليك وعليه السلام তোমার উপর ও তার উপর সালাম। কারণ, হাদিসে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’কে একজন ব্যক্তি এসে বলল,

أبي يقرؤك السلام فقال: «عليك وعلى أبيك السلام».

“আমার পিতা আপনাকে সালাম দিয়েছে।” এ কথা শোনে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বললেন, “তোমার উপর এবং তোমার পিতার উপর সালাম” ।

ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল রহ. কে বলা হল, অমুক আপনাকে সালাম দিয়েছে। তখন তিনি বললেন, ‘তোমার উপর ও তার উপর সালাম’।

যদি কোনো ব্যক্তি বধিরকে সালাম দেয়, তখন মুখে বলবে এবং হাতে ইশারা করবে। আর বোবা ব্যক্তির সালাম দেয়া ও উত্তর দেয়া উভয়টি ইশারা দ্বারা হবে। কারণ, তার ইশারা কথার স্থলাভিষিক্ত। আর নারীদের সালাম দেয়া পুরুষদের পরস্পরের সালামের মতই- কোনো পার্থক্য নাই।

একজন পুরুষ অপর পুরুষের সাথে মুসাফাহা করা মুস্তাহাব, অনুরূপভাবে একজন নারী অপর নারীর সাথে মুসাফাহা করা মুস্তাহাব।

প্রমাণ: আবু খাত্তাব, ক্বাতাদা রহেমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন,

“قلت لأنس: أكانت المصافحة في أصحاب رسول الله  قال: نعم”

“আমি আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ কে জিজ্ঞাসা করলাম রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এর যুগে মুসাফাহা করার প্রচলন ছিল কিনা? উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ, ছিল”। বর্ণনায় বুখারি।

বারা ইব্ন আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এরশাদ করেন,

«ما من مسلمين يلتقيان فيتصافحان إلا غفر لهما قبل أن يفترقا» رواه أبو داود.

“যখন দুইজন মুসলিম একত্র হবে এবং একে অপরের সাথে মুসাফাহা করে তখন তারা উভয় বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বে আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেন”। বর্ণনায় আবু-দাউদ

যখন তুমি এমন কোনো একদল লোকের মজলিসে প্রবেশ করবে যেখানে ওলামাগণও উপস্থিত আছে, তখন প্রথমে তাদের সবাইকে সালাম দেবে, তারপর আলেমদের আলাদাভাবে সালাম দেবে; যাতে সাধারণ মানুষ ও আলেমদের মধ্যে পার্থক্য বুঝা যায়। অনুরূপভাবে যদি মজলিসে একজন আলেম থাকে তাকেও আলাদাভাবে সালাম দেবে।

সালাম দেয়ার সময় মাথা ঝুঁকানো সম্পূর্ণ অবৈধ, তবে কোলাকুলি করা বৈধ। প্রমাণ:

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«قال رجل يا رسول الله، الرجل منا يلقى أخاه أو صديقه أينحني له؟ قال: لا، قال: أفيلتزمه ويقبله؟ قال: لا، قال: فيأخذ بيده ويصافحه؟ قال: نعم»

“এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্য হতে কোন লোক তার অপর ভাই অথবা বন্ধুর সাথে সাক্ষাত করলে, সে কি তার সম্মানে মাথা নিচু করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ না, তারপর সে বলল, তাকে জড়িয়ে ধরবে কিনা এবং চুমু দেবে কিনা? রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বললেন, না, তারপর আবার জিজ্ঞাসা করা হল, তার হাত ধরে তার সাথে মুসাফাহা করবে কিনা? বলল, হ্যাঁ”। বর্ণনায় তিরমিযী এবং তিনি বলেন, হাদিসটি হাসান সহীহ।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«قدم زيد بن حارثة ورسول الله  في بيتي فأتاه فقرع الباب فقام إليه النبي  يجر ثوبه فاعتنقه وقبله»

“যায়েদ ইব্ন হারেসা মদিনায় আগমন করল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ আমার ঘরে ছিল, সে আমার বাড়ীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ এর নিকট এসে দরজায় আওয়াজ করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ তার দিকে উঠে দাঁড়াল, তারপর তার সাথে মু‘আনাকা করল এবং তাকে চুমু দিল”। -তিরমিযী এবং তিনি বলেন, হাদিসটি হাসান

আর যখন ঘরে প্রবেশ করবে, তখন সালাম দেয়া সুন্নত। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,

﴿فَإِذَا دَخَلۡتُم بُيُوتٗا فَسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِكُمۡ تَحِيَّةٗ مِّنۡ عِندِ ٱللَّهِ مُبَٰرَكَةٗ طَيِّبَةٗۚ ٦١ ﴾ [النور: ٦١]

“তবে তোমরা যখন কোন ঘরে প্রবেশ করবে তখন তোমরা নিজদের উপর সালাম করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকতপূর্ণ ও পবিত্র অভিবাদনস্বরূপ”। -সূরা নূর, আয়াত: ৬১

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,

«يا بني إذا دخلت على أهلك فسلم يكن بركة عليك وعلى أهلك» رواه الترمذي، وقال حديث حسن.

“হে বৎস! তুমি যখন ঘরে প্রবেশ করবে, তখন সালাম দাও। তা তোমার জন্য ও তোমার পরিবার পরিজনের জন্য বরকত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে”। বর্ণনায় তিরমিযী এবং তিনি বলেন, হাদিসটি হাসান।

আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,

«إذا خرج الرجل من بيته فقال بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله يقال له هديت وكفيت ووقيت وتنحى عنه الشيطان» رواه الترمذي، و حسنه والنسائي وابن حبان في صحيحه.

“যখন কোন ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এ দো‘আ পাঠ করে, بسم الله توكلت على الله لا حول ولا قوة إلا بالله তাকে বলা হয়, তোমাকে হেদায়েত দেয়া হয়েছে, তোমাকে বাঁচানো হয়েছে। আর শয়তান তার থেকে দূর হয়ে যায়। বর্ণনায় তিরমিযী, তিনি হাদিসটিকে হাসান আখ্যায়িত করেন, নাসায়ী ও ইবনে হিব্বান; তার সহীহতে।

সূনানে আবু দাউদে আবু মালেক আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,

«إذا ولج الرجل بيته فليقل: اللهم إني أسألك خير المولج وخير المخرج بسم الله ولجنا وبسم الله خرجنا وعلى الله ربنا توكلنا ثم ليسلم على أهله» حديث حسن.

“যখন কোন ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে, সে যেন এ দো‘আ পাঠ করে।

«اللهم إني أسألك خير المولج وخير المخرج بسم الله ولجنا وبسم الله خرجنا وعلى الله ربنا توكلنا»

“হে আল্লাহ! তোমার নিকট উত্তম বাসস্থান চাই এবং উত্তম বের হওয়া চাই। হে আল্লাহ! আমরা আল্লাহর নামে প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর নামে বের হলাম। হে আমাদের রব আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করলাম”। তারপর সে তার পরিবার-পরিজনকে সালাম দেবে”।

যেসব স্থান ও সময়ে সালাম দেয়া উচিত নয় :

সালামের আদবের ক্ষেত্রে আরও কিছু বিধি-বিধান রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সালাম আদান প্রদানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন। যেমন-

১. কুরআন তিলাওয়াত রত অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে সালাম দেয়া উচিত নয়।
২. প্রসাব পায়খানা ব্যবহার করার সময়।
৩. নামাজী ব্যক্তিকে সালাম দেয়া উচিত নয়। এটা রীতিমত অন্যায়। কারন, এতে তার নামাজের একাগ্রতা বিনষ্ট হতে পারে।
৪. উযু করার সময়।
৫. আলাপ আলোচনায় মগ্ন ব্যক্তিবর্গকে এমন অবস্থায় সালাম দেয়া উচিত নয়, যাতে তাদের গুরুত্বপূর্ন আলোচনায় বিঘ্ন ঘটে। এক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে তাদের কথাবার্তা শেষ করার অপেক্ষা করা যেতে পারে।
৬. যদিও পানাহাররতদের সালাম দেয়া উচিত নয় বলে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, সালাম কিংবা সালামের জবাব দিতে গিয়ে কথা বলার কারনে গলায় বা বুকে খাদ্য পানীয় আটকে যেতে পারে। তবে এটি সঠিক কথা নয়। খাওয়া দাওয়া করার ফাঁকে ফাঁকে আমরা তো সব ধরনের কথাবার্তাই বলে থাকি। তো সালাম কিংবা সালামের জবাব দিলে কি এমন ক্ষতি হয়ে যায়? অন্যসব কথায় খাদ্য পানীয় আটকায় না, আটকায় শুধু সালামের বেলায়? এগুলো আজগুবি কথা। অতএব, পানাহারের সময় সালাম আদান প্রদান করতে কোনো নিষেধ নেই।

প্রিয় পাঠক! আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছি যে, ইসলামে সালামের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। সালাম দেয়া-নেয়ার সময় আমাদের অবশ্যই সালামের শব্দগুলো মুখে স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হবে। সমাজে কেউ কেউ হাত নেড়ে কিংবা মাথা নেড়ে সালামের আদান-প্রদান করে থাকেন। এটা কোনোভাবেই ঠিক না। সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়। তবে যদি অবস্থা এমন হয় যে, যাকে সালাম করা হচ্ছে তিনি অনেক দূরে, তার কাছে সালামের আওয়াজ পৌঁছানো যাচ্ছে না, তখন সালামের শব্দগুলো মুখে উচ্চারণ করে তাকে হাতের মাধ্যমে ইশারা করে বুঝিয়ে দেয়া যে, ভাই আমি আপনাকে সালাম দিয়েছি। আবার সালাম নেয়ার সময়ও সালামের শব্দগুলো মুখে স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হবে।

শুধু লোক দেখানো সালাম অর্থাৎ মুখে কিছু উচ্চারণ না করে শুধু মুখের ইশারা দ্বারা সালামের হক আদায় হবে না।

জান্নাত লাভের জন্য এটা অতি সহজ, এবং অন্যতম একটি আমল। সমাজে বিশুদ্ধ সালাম চালু করা আমাদের সবার কর্তব্য হওয়া উচিত। আমরা প্রিয় নবীজির সুন্নতকে ছেড়ে দিয়েছি। সুন্নতের যে হক আমাদের উপরে রয়েছে তা নষ্ট করেছি। আল্লাহর রসূলের একেকটি সুন্নত আমাদের চোখের সামনে, এমনকি আমাদের দ্বারাই প্রতিনিয়ত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে; অবজ্ঞা, অবহেলা আর উপেক্ষার শিকার হচ্ছে। সুন্নতকে আমরা গুরুত্বহীন মনে করে দায়সারা গোছের গাফলতের জীবন পার করছি। অন্য জাতির অনুকরণে মগ্ন হয়ে ভিন্ন স্বাদ-আস্বাদের অনুভূতি পরখ করছি। আমরা তাঁর উম্মত দাবি করি কীভাবে? সালামের মতো একটি সুন্নতকেও আমরা সবাই মিলে বিনষ্ট করে দিয়েছি বললে ভুল হবে না। বর্তমানে সালাম হয়ে গেছে এক প্রকার আনুষ্ঠানিকতা। আল্লাহ পাক আমাদেরকে সালামের মতো ছোট আমলটি এ জন্য দিয়েছিলেন যে, আমরা হলাম তাঁর প্রিয় নবীর প্রিয় উম্মত! আমাদেরকে বড় কঠিন কোনো আমল দেয়া হলে আমরা হয়তো পারবো না, তাই রাস্তাঘাটে চলার সময় এ আমলটি যেন সহজেই করতে পারি। আসলেই কি করি? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সৌন্দর্য্য-সৌহার্দ্যের প্রতীক চমৎকার অভিবাদন বাক্য সালাম সম্ভাষনে অভ্যস্ত হওয়ার তাওফিক আমাদের প্রত্যেককে দান কারুন। আমিন।

লেখক: আলেম, লেখক, গবেষক

জনপ্রিয় খবর