Sunday, January 17, 2021
Home বাংলাদশে সংবাদ মুসলিম হয়ে হিন্দুদের পূজা উদ্বোধন করবো কেনো: সাকিব আল হাসান

মুসলিম হয়ে হিন্দুদের পূজা উদ্বোধন করবো কেনো: সাকিব আল হাসান

শিখোবাংলায়.কম: কলকাতায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিশ্বসেরা অলরাউণ্ডার সাকিব আল হাসান কালীপূজার উদ্বোধন করার পর সাকিবকে নিয়ে দেশব্যাপী মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অবশেষে এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন সাকিব।

তিনি বলেন, ‘প্রথমেই বলতে চাই, আমি নিজেকে একজন গর্বিত মুসলমান হিসেবে মনে করি। আমি সেটাই চেষ্টা করি পালন করার। ভুলত্রুটি হবেই, ভুলত্রুটি নিয়েই আমরা জীবনে চলাচল করি। আমার কোনো ভুল হয়ে থাকলে অবশ্যই আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। নিউজ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া সবখানে এসেছে আমি নাকি পূজার উদ্বোধন করতে গিয়েছি। আমি কখনোই পূজার উদ্বোধন করিনি বা উদ্বোধন করতে যাইনি। তাছাড়া আমি মুসলিম হয়ে হিন্দুদের পূজা উদ্বোধন করবো কেনো?’

সাকিবের উপস্থিতিতে ঐ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা। সাকিব বলেন, ‘এটার প্রমাণ আপনারা অবশ্যই পাবেন। অনেক সাংবাদিক ভাইবোনেরা ওখানে ছিলেন। বা আপনারা ইনভাইটেশন কার্ডও যদি দেখেন, ওখানেই লেখা আছে কে উদ্বোধন করেছেন। যেখানে আমাদের অনুষ্ঠান হয়েছে সেটি পূজা মণ্ডপ ছিল না। পাশে আরেকটি মঞ্চ ছিল। সেখানে অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। পুরো অনুষ্ঠান সেখানে হয়। প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট ব্যাপী অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম এবং সেখানে কোনো ধর্ম-বর্ণ নিয়ে কোনো কথা হয়নি।’

মণ্ডপের সামনে তোলা ছবি কিংবা মোমবাতি প্রজ্বলন নিয়েও মুখ খুলেছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠান শেষে যখন গাড়িতে উঠতে হবে, যেহেতু পাশেই পূজার আয়োজন ছিল, অনেক রাস্তা বন্ধ ছিল। স্বাভাবিকভাবে মণ্ডপ পেরিয়ে আমাকে যেতে হত। যাওয়ার সময় পরেশ দা, যিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তার আমন্ত্রণে আমি প্রদীপ প্রজ্বলন করি।

‘সাংবাদিকরা অনেক উৎসুক ছিল। সবার অনুরোধে প্রদীপ প্রজ্বলনের সময় সেখানে পরেশ দা’র সাথে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তোলা হয়। ছবি তুলে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সাথে আমার নিরাপত্তাকর্মীদের একটু বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতিও হয়। সেই ঘটনায় আমরা ওদিক দিয়ে আর যেতে পারিনি। পরে ফিরে অন্য রাস্তা দিয়ে যাই। পুরো ঘটনাটা এরকম ছিল।’ বলেন সাকিব।

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

‘দুই মিনিট আমি যে পূজামণ্ডপে ছিলাম সে নিয়ে সবাই বলছে। তারা ধারণা করছে আমি পূজার উদ্বোধন করেছি। যেটা আমি কখনোই করিনি এবং একজন সচেতন মুসলমান হিসেবে করবো না। তারপরও হয়ত ওখানে যাওয়াটাই আমার ঠিক হয়নি। সেটা যদি আপনারা মনে করে থাকেন, অবশ্যই আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত, ক্ষমাপ্রার্থী এবং আমি মনে করি এটা আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এবং ভবিষ্যতে আমি এরকম কোনো ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেই চেষ্টাও করবো।’

জনপ্রিয় খবর