Monday, June 21, 2021
Home ইসলাম প্রতিদিন ‘উদারতার দোহাই দিয়ে পূজামণ্ডপে অংশগ্রহণ, ঈমান থেকে বিচ্যুতি ছাড়া-এর বিকল্প কোন ব্যাখ্যা...

‘উদারতার দোহাই দিয়ে পূজামণ্ডপে অংশগ্রহণ, ঈমান থেকে বিচ্যুতি ছাড়া-এর বিকল্প কোন ব্যাখ্যা নেই’

রায়হান মুহাম্মদ।।

শিখোবাংলায়.কম: সম্প্রতি সাকিব আল হাসান নামে এক ক্রিকেটারের ভারতে গিয়ে পূজা উদ্বোধনের খবর পাওয়া গেছে। ব্যাক্তিগত দুর্ব্যবহারের কারণে প্রায় সময় সমালোচনায় থাকেন প্রথম সারিতে, লোভের বশে ম্যাচ ফিক্সিং-এর মতো ঘটানাও ঘটিয়েছেন তিনি কিছুদিন আগে। এতো কিছুর পরেও দেশের বিভিন্ন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী সাকিব আল হাসান নামের এই ক্রিকেটার সাধারণ মানুষ ও অনেক তরুণের মাঝে অনুসরণীয় । ফিতা কেটে ও প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা মণ্ডপ উদ্বোধন করলেও আপাদমস্তক একজন মুসলিম এই ক্রিকেটার। শুধু মুসলিম নন, হজ এবং ওমরাও পালন করেছেন সৌদি আরবে গিয়ে।

মুসলিম দেশ-সমাজের এই ক্রিকেটারের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন দেশের আপামর জনতা, ধর্মীয় বিষয়ে এই খামখেয়ালিপনায় চটেছেন স্বয়ং সাকিব আল হাসানের ভক্তরাও। সাকিবের ছবিতে ক্রস চিহ্ন ব্যবহার করে তাকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মানুষেরা।

মণ্ডপে গিয়ে একজন মুসলমানের পূজা উদ্বোধন করার ব্যাপারটি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কিভাবে বিবেচনা করা হবে?- জানতে প্রশ্ন করেছিলাম  জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার শিক্ষাসচিব মুফতি আশরাফুজ্জামানের কাছে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পূজা উদ্বোধনের ব্যাপারে আলোচনার আগে তিনি ইসলাম টাইমসকে বলেছেন, শুধু হিন্দু নয়, ইসলাম পৃথিবীর যেকোন ধর্মের মানুষের সাথে সদাচারণ করতে বলে। ইসলামের ছায়াতলে সবাই নিরাপদ, প্রতিবেশী হিসেবে একজন মুসলমানের কাছে অপর একজন মুসলমান যেমন গুরুত্ব পাবে, হিন্দু প্রতিবেশীও ঠিক ততটাই পাবে। তাই বলে উদারতা জাতীয় শব্দের আশ্রয় নিয়ে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় ইসলামের দৃষ্টিতে। কোন মুসলমানের ব্যাপারে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে তার ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি ঈমান থেকে বিচ্যুত- এই তাবীর (ব্যাখ্যা) ছাড়া অন্যকোন তাবীরের সুযোগ নেই, বলছেন মুফতি আশরাফুজ্জামান।

বিজ্ঞাপনImage is not loaded

দ্বীনের ব্যাপারে কারো বুঝ কম থাকায় এসব অনুষ্ঠানে গেলে তাদের ব্যাপারে কিছুটা নমণীয় হওয়ার সুযোগ আছে কি?- অথবা দায়ীদের দাওয়াতী মিশনে আরো তৎপরতার কোন ব্যাপার আছে কি?

কোন অঞ্চলে আল্লাহ তায়ালা নবী- রাসূল না পাঠালেও সে অঞ্চলের মানুষের জন্য আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান আনা আবশ্যক-ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর এই কথা উদ্ধৃত করে মুফতি আশরাফুজ্জামান বলেন, নবী-রাসূলদের পর বর্তমান যুগে বিভিন্ন মাধ্যমে দায়ীদের দাওয়াতী কথা-কাজগুলো যেভাবে ব্যাপক হয়ে গেছে, তাতে মনে হয় না ইসলামে পূজামণ্ডপে যাওয়া মুসলমানের ব্যাপারে কি হুকুম- শুধুমাত্র ধর্মীয় এই বিষয়টা একজন মুসলমানের কাছে অস্পষ্ট কোন ব্যাপার।

এছাড়া তিনি বলছেন, সম্প্রতি যিনি ভারতে গিয়ে পূজা করে এলেন, তিনি এই একটা ব্যাপার ছাড়া পৃথিবীর অন্য সব ব্যাপারেই বোঝেন, শুধু বোঝেন, না- বলে বলা যায়, দেশের অন্য মানুষদের থেকে কয়েক ধাপ বেশিই বোঝেন। এমন মানুষের ক্ষেত্রে ‘পূজামণ্ডপে যাওয়া মুসলমানের ব্যাপারে ইসলামে কি হুকুম’ শুধু এই ব্যাপারটা না জানা, না বোঝাটা আসলে বোধগম্য ও মানার মতো নয়।

মুফতি আশরাফুজ্জামানের ভাষায়, মুসলিম দেশে বসবাসরত বিধর্মী নাগরিকদের নিরাপত্তার কারণে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এসব অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারটি ভিন্ন। কারণ ইসলাম মুসলিমদের মতো অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলে, কিন্তু এর সুযোগ নিয়ে বর্তমানে ঈদ ও পূজাকে বরাবর করার যেই অসুস্থ ফ্যাশন দেখা যায় রাজনৈতিকদের মাঝে তা দৃষ্টিকটু বলছেন মুফতি আশরাফুজ্জামান।

এদিকে পর্যবেক্ষক, গবেষক আলেম মুফতি ইমামুদ্দীন মেহের বলছেন, সৌজন্যতাবোধের দোহাই দিয়ে কোনভাবেই মুসলমানদের জন্য পূজামণ্ডপে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

নাগরিক নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ অন্য ব্যাপার, একে প্রয়োজন বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে এটা কোনভাবেই মুসলমানের পূজায় অংশ নেওয়ার বৈধতার দলিল হতে পারে না, অংশ নিলে তার ঈমান আছে- এমন ভাবারও কোন সুযোগ নেই তার মতে।

তিনি বলছেন, সাকিব আল হাসানসহ আরো যাদেরকে তরুণরা ফলো করেন, যাদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন-আগামী প্রজন্মকে বিপথ থেকে বাঁচাতে, এমন কারো থেকে এজাতীয় ঘটনা প্রকাশ পেলে অবশ্যই আলেমদের জন্য এসবের ক্ষতির দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা দরকার।

শুরুতেই এজাতীয় ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ না হলে বিষয়টা সামনে স্বাভাবিকতার রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা একটি মুসলিম সমাজে ঈমান-আকীদার বিষয়গুলোকে তুচ্ছ করে দিবে, তাই ধর্মীয় ব্যক্তিদের এখন থেকেই শক্ত অবস্থানের যাওয়ার আহ্বান এই পর্যবেক্ষক আলেমের।

জনপ্রিয় খবর