Wednesday, January 20, 2021
Home বাংলাদশে সংবাদ ১২ নভেম্বর ১৯৭০ : আল্লাহর কুদরতের সামনে মানুষ বড় অসহায়!

১২ নভেম্বর ১৯৭০ : আল্লাহর কুদরতের সামনে মানুষ বড় অসহায়!

শিখোবাংলায়.কম: আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সালের এই দিনে মহা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে লাখ লাখ মানুষ সেদিন প্রাণ হারায়। দিনটি আমাদেরকে আবারো স্মরণ করিয়ে দেয়, আল্লাহর শক্তির সামনে আমরা বড় অসহায়। তাই আমাদেরকে তারই অভিমুখী হওয়া উচিত।

উপমহাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে ‘৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। প্রলয়ঙ্করী ওই ঝড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। এর মধ্যে ভোলা জেলায় লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আর অসংখ্য জনপদ বিরান ভূমিতে রূপ নেয়। উত্তাল মেঘনা নদী আর তার শাখা-প্রশাখাগুলো রূপান্তরিত হয়েছিল লাশের ভাগারে। সে এক ভয়াবহ দৃশ্য। ঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছিলো পুরো ভোলাসহ উপকুল অঞ্চল।

১৯৭০ সালের ১১ নভেম্বর বুধবার সকাল থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হতে থাকে। পরদিন ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আবহাওয়া আরো খারাপ হতে লাগল এবং মধ্যরাত থেকেই ফুঁসে উঠতে শুরু করে সমুদ্র। তীব্র বেগে লোকালয়ের দিকে ধেয়ে আসল পাহাড় সমান উঁচু ঢেউ। ৩০/৪০ ফুট উঁচু সেই ঢেউ আছড়ে পড়ল লোকালয়ের উপর। আর মুহূর্তেই ভাসিয়ে নিয়ে গেলো মানুষ, গবাদি পশু, বাড়ি-ঘর এবং ক্ষেতের সোনালী ফসল। পথে প্রান্তরে উন্মুক্ত আকাশের নীচে পড়েছিলো কেবল লাশ আর লাশ। কত কুকুর, শিয়াল আর শকুন খেয়েছে সে লাশ তার কোন ইয়ত্তা নেই। মরনপুরীতে রূপ নেয় ভোলাসহ গোটা অঞ্চল।

তৎকালীন দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি ও ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম হাবিবুর রহমান বলেন, বন্যার পরে দেখেছি সাপ আর মানুষ দৌলতখানের চৌকিঘাটে জড়িয়ে পড়ে আছে। স্নেহময়ী মা তার শিশুকে কোলে নিয়ে মেঘনার পাড়ে মৃত অবস্থায়। সোনাপুরের একটি বাগানে গাছের ডালে এক মহিলার লাশ ঝুলছে। এমনিভাবে মনপুরা, চরফ্যাশন, লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও দৌলতখানসহ সমগ্র জেলায় মানুষ আর গবাদি পশু সেদিন বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলে ভেসে গেছে। জন-মানুষ শূন্য হয়ে পড়েছিলো দ্বীপজেলা ভোলা।

তিনি বলেন, ঝড়ের আঘাতে টিঅ্যান্ডটি ভবনসহ সকল স্থাপনা ভেঙ্গে যায়। নিউজ পাঠানোর কোন মাধ্যম ছিলোনা। ঘটনার তিনদিন পরে তিনি তৎকালীন বরিশাল জেলা প্রশাসক হাসেম আলীর অনুমতি নিয়ে ভোলা থানার ওয়ারলেসযোগে পূর্বদেশ পত্রিকায় ‘বাংলার মানুষ কাঁদো, গাছে গাছে ঝুলছে লাশ’ শিরোনামে সংবাদ পাঠান। এছাড়া একটি ট্রলারে করে ছবি পাঠান পত্রিকা অফিসে। ঘটনার ৪দিন পরে পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলে পুরো দেশে এ নিয়ে আলোড়িত হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে ত্রাণ আসতে শুরু করে। সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল মনপুরায়। মনপুরার ২৬ হাজার মানুষের মধ্যে ১৭ হাজারই সেদিন সাগরের জলে ভেসে গিয়েছিলো।

বিজ্ঞাপনImage is not loaded
বিজ্ঞাপনImage is not loaded

জনপ্রিয় খবর