হাদীসের আলোকে পুন্যময়ী নারীর পরিচয়

22

আলেমা মারিয়া মিমঃ পৃথিবীতে সুন্দর ও উপভোগ্য জীবন যাপনে সচ্চরিত্র নারী-পুরুষের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ইসলাম নারী ও পুরুষ প্রত্যেককে যার যার উপযুক্ত সম্মান ও অধিকার দিয়েছে। কোরআন এবং হাদিস গ্রন্থসমূহে পুরুষের আলোচনার পাশাপাশি গুণবতী নারীদের আলোচনাও বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে৷

এক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বিষয়টি চমৎকারভাবে তুলে ধরে বলেন,’পুণ্যময়ী নারীরা স্বামীর অনুগতা এবং তার অনুপস্থিতিতে লোক-চক্ষুর অন্তরালে (স্বামীর ধন ও নিজেদের ইজ্জত) রক্ষাকারিণী হয়৷’
(সুরা নিসা,আয়াত:৩৪)

নারী অসতী হলে ব্যাক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।তাই একটি আদর্শ সমাজ গঠনে একজন পুন্যময়ীনারীভূমিকা খুব‌ই গুরুত্বপূর্ণ।

নিম্নে পুণ্যময়ী নারীর ৪টি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো৷

১. স্বামীর অনুগতা

পৃথিবীতে একজন স্বামীর সবচেয়ে মূল্যবান এবং দামি বস্তু একজন পুণ্যময়ী স্ত্রী৷ স্ত্রীর যত ভালো হবে স্বামীর সংসার তত সুখের হবে৷ রাসুলুল্লাহ (সা.) এর এক হাদীসে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলেছেন, অর্থাৎ ‘পার্থিব জগতটাই হল ক্ষণিক উপভোগের বস্তু। আর পার্থিব জগতের সর্বোত্তম সম্পদ পুণ্যময়ী নারী।’ সহিহ মুসলিম, হাদিস:১৪৬৭।

এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত সাহাবি আবু উমামাহ (রাঃ) থেকে অপর একটি হাদিস বর্ণিত আছে। যে নবী কারিম (সা.) বললেন, “কোন মুমিন ব্যক্তি আল্লাহভীতির পর উত্তম যা লাভ করে তা হলো পূণ্যময়ী স্ত্রী। স্বামী তাকে কোন নির্দেশ দিলে সে তা পালন করে; স্বামী তার দিকে তাকালে (স্ত্রির হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও প্রফুল্লতা) তাকে আনন্দিত করে এবং সে তাকে শপথ করে কিছু বললে সে তা পূর্ণ করে। আর স্বামীর অনুপস্হিতিতে সে নিজের সম্ভ্রম ও সম্পদের হেফাযত করে।” সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৫৭

২. সতীত্ব ও ধন-সম্পদের রক্ষাকারী।

একজন নারীর প্রধান সৌন্দর্য আপন সতীত্বের হেফাজত করা৷ ‘যে নারী তার সতীত্ব রক্ষা করতে পারেনা সে নারী চরম হতভাগা৷’ এই বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর নবী (সা.) চৌদ্দশত বছর আগেই নারীদের সতীত্ব রক্ষায় সম্মানের কথা এভাবে বলেছেন,’নারী যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে, রমযান মাসের রোযা রাখবে, নিজ লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে এবং স্বামীর আনুগত্য করবে তখন তাকে বলা হবে, যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ কর।’ মুসনাদে আহমদ,হাদিস:১৬৬১

এই মর্মে বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) আরেকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে , রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘উত্তম স্ত্রী সে, যার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে তোমাকে আনন্দিত করে, আদেশ করলে আনুগত্য করে, তুমি দূরে থাকলে তার নিজের ব্যাপারে এবং তোমার সম্পদের ব্যাপারে তোমার অধিকার রক্ষা করে। মুসনাদে ত্বয়ালিসী, হাদিস : ২৩২৫

৩.দ্বীনদার এবং চরিত্রবান

নারীর আরেকটি সৌন্দর্য হলো, দ্বীনদারীর সাথে সাথে চরিত্রবান হওয়া৷ ‘যে নারীর চরিত্র নষ্ট সে নারী সর্বমহলে ধিকৃত৷’ তাই সর্বদা নারীদের চরিত্র সুন্দর থেকে সুন্দর করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে৷

আরেক হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) দ্বীনদার ও চরিত্রবান নারীদের বিবাহ করার উৎসাহ প্রদান করতে গিয়ে বলেন, ‘৩ গুণের যেকোনো একটি গুণের কারণে নারীকে বিবাহ করা হয়: যথা, ধন-সম্পদের কারণে, রূপ-সৌন্দর্যের কারণে ও দ্বীনদারির কারণে। তুমি দ্বীনদার ও চরিত্রবানকেই গ্রহণ কর।’ মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১১৭৬৫

৪.স্বামীর গৃহে অবস্থান করা

অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া গুণবতী ও পুণ্যময় নারীর অনন্য বৈশিষ্ট্য। ইসলাম পূর্ব যুগে নারীরা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে লাগামহীন ভাবে ঘোরাফেরা করত৷ পর্দা ছাড়া তাদের এই চলাফেরা আল্লাহর কাছে পছন্দ হয়নি৷ তাইতো এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা নারীদের পর্দা সহকারে চলাফেরার নির্দেশ দিয়ে বলেন,’তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করো। (পর পুরুষকে) সাজসজ্জা প্রদর্শন করে বেড়িও না। যেমন প্রাচীন জাহেলী যুগে প্রদর্শন করা হত।’ সুরা আহযাব, আয়াত : ৩৩

বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে আল্লাহর রাসুল (সা.) এক হাদিসে এভাবে তুলে ধরেছেন,
‘নারী হল আবরণীয়। যখন সে বের হয় শয়তান তার অনুসরণ করে। যখন সে ঘরে আবদ্ধ থাকে তখন আল্লাহর রহমত লাভের অতি নিকটবর্তী থাকে।’ মুসনাদে বাযযার,হাদিস:২০৬১

আল্লাহ তাআলা সকল মুসলিম নারীদেরকে এই গুণগুলো অর্জন করে পুণ্যময়ী ও নৈকট্যভাজন বান্দী হওয়ার তৌফিক দান করুন৷

লেখিকা:- ফাজেলা: জামিয়া ইবরাহীমিয়া আমীনিয়া মহিলা মাদরাসা, সিদ্ধিরগঞ্জ,নারায়ণগঞ্জ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here