হাইয়াতুল উলইয়ার প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোয় মতিঝিল থানায় জিডি

26

কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের শেষ হওয়া কেন্দ্রীয় পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট করায় ঢাকার মতিঝিল থানায় জিডি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার মালিবাগ মাদরাসা থেকে হাইয়াতুল উলইয়ার কর্মকর্তাদের এক ভিডিও বার্তা থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ভিডিও বার্তায় বলা হয়, ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৯ টায় https://www.facebook.com/muhammednurulhuda688 আইডি থেকে ফেসবুকে আল-হাইআতুল উলয়ার দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) ‘পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের পোস্টমর্টেম’ শিরোনামে একটি বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক পোস্ট দেয়া হয়।

বার্তায় আরো বলা হয়, ২৬ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়ার মনিটরিং সেলের সভার সিদ্ধান্তক্রমে উক্ত আইডিধারীর বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় জিডি করা হয় এবং এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটে জিডির কপিসহ রিপোর্ট করা হয়।

স্পেশাল ব্রাঞ্চ জানায়, উক্ত আইডিধারী জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ মাদরাসার ছাত্র এবং মালিবাগ সেন্টারে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীনে দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষা দিচ্ছে।

এ তথ্যানুসারে আজ মঙ্গলবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার কিছু পূর্বে আল-হাইআতুল উলয়ার মনিটরিং সেলের সদস্যসহ হাইআতুল উলয়ার কর্মকর্তাগণ জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগে উপস্থিত হন এবং পরীক্ষা শেষে উক্ত আইডিধারী মুহাম্মদ নূরুল হুদা, রোল নং ১০৮৮১, নিবন্ধন নং ৮১৯১ কে প্রধান নেগরান ও জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগের মুহতামিম সাহেবের সহযোগিতায় মাদরাসার দফতরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দি গ্রহণ করা হয়।

পোস্টকারী মুহাম্মদ নুরুল হুদা তার দেয়া ফেসবুক পোস্টে লিখেন, বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্নফাঁসের খবর শুনছি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ছাত্রদের সাথে ছেলেখেলা চলছে। হাইয়াতুল উলইয়ার দায়িত্বশীলদের চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের। ফলে নিজ নিজ মাদরাসার জন্য আগাম প্রশ্ন জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।

সাইবার টিম আমাদের জানায়, নুরুল হুদা বাংলাদেশ কওমি ছাত্র ফোরাম নামের একটা সংগঠনের সদস্য। তার সঙ্গে আরো অনেকে যুক্ত আছেন।

ভিডিও বার্তায় বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক পোস্টকারী দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষাথী নূরুল হুদা স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে বলেন, আমি যা করেছি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, আমি যা লিখেছি সবই ধারণাপ্রসুত। আমি শয়তানের প্ররোচণায় করেছি। বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। হাইয়াতুল উলইয়ার দায়িত্বশীলদের কাছে অনুরোধ করছি এবারের মত তারা যেনো আমাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে। আমি সামনে কখনোই আর এ ধরনের কাজ করবো না। হাইয়াতুল উলইয়ার কোনো সিন্ডিকেট নেই।

ভিডিও বার্তায় সর্বশেষ হাইয়াতুল উলইয়ার পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়, হাইয়াতুল উলইয়া পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে এবার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ছাত্ররা পরীক্ষার হলে প্রবেশ করার পরই আমরা প্রিন্টারের মাধ্যমে প্রশ্ন পাঠিয়েছি। আগামীতে কখনো যদি এ ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্ট করা হয় তাহলে তার বিরোদ্ধে ডিজিটাল আইনে সরকারীভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মালিবাগ মাদরাসার এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মুফতি রুহুল আমিন, মুফতি এনামুল হক, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মালিবাগ মাদরাসার মুহতামিম মুফতি বোরহানুদ্দিন, মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা নাসিম আরাফাত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here