শিখোবাংলায়.কম: সরকারের প্রেসক্রিপশনে চলবে না হেফাজত বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের কমিটি আপনাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হয়নি। এজন্য আপনারা অভিমান করেন, রাগ করেন? আপনারা কী মনে করেছেন? হেফাজতে ইসলামের অবস্থান পরিস্কার। হেফাজতে ইসলাম এটা যেমন সরকারবিরোধী কোনো সংগঠন নয়। হেফাজতে ইসলামে তেমনি কোনো সরকারদলীয় অঙ্গ সংগঠনও নয়। আপনাদের বুঝা উচিত, হেফাজতে ইসলাম আপনাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চলবে না। হেফাজত এদেশের উলামায়ে কেরোমের মতানুযায়ী চলবে। হেফাজতে ইসলাম ইসলামের পক্ষে ভূমিকা রাখবে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষে ভূমিকা রাখবে। সরকার যদি দেশের পক্ষে থাকে তাহলে সরকারেরও সহযোগিতা করবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে রহমাতুল্লিল আলামীন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে হওয়ার কথা ছিল রাহমাতুল্লাহ আলামিন ফাউন্ডেশনের সিরাতুন্নবী কনফারেন্স। সেখানে প্রশাসন থেকে অনুমতি না পেলে বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।

রাহমাতুল্লিল আলামিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সিরাতুন্নবী কনফারেন্স এর বাধা দেয়াকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, ‘এই আত্মঘাতী কর্মকান্ড দেখে আমরা বাকরুদ্ধ। আমরা আতঙ্কিত। যে দেশে রহমাতুল্লিল আলামিন সা. কে নিয়ে করা কনফারেন্স বাধা দেয়া হয়, সেই দেশ ও বাধা প্রদানকারীদের পরিণাম কি হবে সেটা আমরা জানি না। আমি বাংলাদেশের সরকার ও বাংলাদেশের প্রশাসনকে নিয়ে যারপরনাই উদ্বিগ্ন যে, তারা ভয়াবহ পরিণাম এর শিকার হতে যাচ্ছে। কে তাদের এসব বুদ্ধি দেয়? আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু দুশমন এসব করছে। তারা সরকারেরও দুশমন। তারা বাংলাদেশেরও দুশমন।’

তিনি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে চায়। তারা সরকারকে সরাসরি ইসলামের মুখোমুখি দাঁড় করাবার পায়তারা চালাচ্ছে। যদি সরকার এই ষড়যন্ত্র থেকে নিজেদের রক্ষা করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে তাহলে পতন হবে সরকারের। এখানে যতটা ক্ষতি হবে, সব ক্ষয়ক্ষতির দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ একটি প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ছিল সিরাতুন্নবীর। সারাদেশ থেকে হাজার হাজার নবীপ্রেমিক ছাত্রবৃন্দ সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান কিভাবে তারা বানচাল করতে পারলো? তা আমাদের বোধগম্য নয়। জাতির কাছে আমরা বিচার দিলাম। সরকার যদি মনে করে এ জাতীয় সিরাত কনফারেন্সকে বন্ধ করে দিয়ে তারা ভালোই ভালোই সময় পার করবে, তাহলে সেটা কস্মিনকালেও হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা লড়াই করতে চাইনা। সংঘাতে জড়াতে চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কথাগুলো জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। কিন্তু এভাবেই যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিটি কার্যক্রমকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে রাজপথে আমাদের প্রতিবাদের আগুন জ্বলবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে ভাস্কর্য কেন্দ্র করে দেশে এক নতুন অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান একজন জাতীয় নেতা হিসাবে তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা চাইনা তার নামে মূর্তি স্থাপন করে তাকে কলঙ্কিত করা হোক। তাকে গুনার ভাগিদার করা হোক।’