সঙ্গিনীর সাথে কেমন আচরণ করবেন

19

শিখো বাংলায়: একজন মানুষকে দূর থেকে দেখলে অসাধারণ মনে হয়। কিছুটা হলেও ভুলের উর্ধ্বে মনে হয়। দূরত্ব যত কমে, মানবীয় দূর্বলতা তত বেশি প্রকাশ পায়। কখনও ভেতরের কালো মনটা প্রকাশ পায়, দূর থেকে যা কল্পনাও করা যায় না। মানুষকে সবচেয়ে ভালোভাবে জানতে পারে তার জীবনসঙ্গিনী।

রাসূল (স.) তাই বলতেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আমি আমার স্ত্রীদের নিকট সবচেয়ে উত্তম।

রাসূল (স.) যে তাঁর স্ত্রীদের নিকট সবচেয়ে উত্তম ছিলেন। এটা তাঁর মমতাপূর্ণ আচরণই বলে দেয়। প্রতিদিন সকালে তিনি ফজরের পর স্ত্রীদের সাথে দেখা করতেন। তাদের খোঁজ-খবর নিতেন। আসরের পর তাদের সাথে আরেকবার দেখা করতেন। সে সময়ে কখনও তাদের জড়িয়ে ধরতেন, কখনও চুমু খেতেন।

স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন সর্বমোট এগারোজনকে। এর মধ্যে দু’জন তাঁর জীবদ্দশাতেই মারা গিয়েছিলেন। বাকি নয় জন স্ত্রীদের সাথে তিনি পালাক্রমে থাকতেন। এ ব্যাপারে কখনো অবিচার করতেন না। একজন স্ত্রী প্রতি নয় দিন পর তাঁর সাথে থাকার সুযোগ পেতেন। যদি নয় দিন পর পর তিনি স্ত্রীদের সাথে দেখা করতেন, তবে তা তাদের জন্য অনেক কষ্টকর হতো। শূন্যতাবোধ যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য তিনি প্রতিদিনই দু’বার করে তাদের সাথে দেখা করতেন। স্ত্রীরা তাই ভাবতেন, রাসূল তো সবসময় আমাদের সাথেই আছেন।

এখনকার সময়ে আমরা স্ত্রীদের অনুভূতির দিকে মনোযোগ অনেক কম দেই। অবার এমন মানুষও খুঁজে পাওয়া যাবে যারা স্ত্রীদের অনুভূতির তোয়াক্কা করেন না। সারাদিন কাজ নিয়ে পড়ে থাকি। রাতের বেলা বিছানায় শরীর এলিয়ে দেই। অথচ তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে আমি চাইলে কিন্তু সহজেই পারি তাকে আমার অনুভূতির কথা অফিসে বসেই জানাতে। কাজের ফাঁকে সামান্য সময় বের করে তার খোঁজ খবর নিতে পারি।

রাসূল (স.) ছিলেন ভীষণ রোমান্টিক একজন স্বামী। স্ত্রীদেরকে ভালোবাসার কথা অকপটে জানাতেন। রাতের বেলা আয়েশা (রা.) কে নিয়ে ঘুরতে বের হতেন। হালকা গল্প করতেন। স্ত্রীদের আদর করে ছোট ছোট নামে ডাকতেন তিনি। কখনো ভালোবেসে আলাদা একটা নামই দিয়ে দিতেন। আয়েশা (রা.)-কে আদর করে ডাকতেন ‘হুমাইয়ারা’ (লাল-সুন্দরী) নামে।

প্রিয়তমাদের অনুভূতির দিকেও রাসূল (স.) সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। নিজের জীবনে দুঃখ-কষ্টের কোন শেষ ছিল না, তারপরেও স্ত্রীদের কষ্ট তাঁর চোখ এড়িয়ে যেতো না।

অনেক স্বামীই স্ত্রীদের মাসিক শুরু হলে তাদের থেকে দূরে থাকেন। তাদের ঘৃণা করেন। রাসূল (স.) মোটেও এমন করতেন না। আয়েশা (রা.) এর মাসিকের সময়েই তিনি তার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকতেন। সে অবস্থাতেই তিনি রাসূল এর চুল আঁচড়ে দিতেন। একরাতে তিনি মায়মুনা (রা.) এর সাথে একই চাদরের নিচে শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ মায়মুনা (রা.) এর মাসিক শুরু হলে, তিনি দ্রুত উঠে পড়েন যাতে রাসূলের পবিত্র দেহে রক্ত না লাগে। রাসূল (স.) সব বুঝতে পেরে তাকে ডেকে কাছে নিয়ে আসেন, দু‘জন আবার একই চাদরের নিচে শুয়ে থাকেন।

জীবনসঙ্গিনীদের কাজের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে কষ্ট দিতেন না। নিজের কাজ নিজেই করতেন। নিজের জুতো নিজ হাতেই ঠিক করতেন, নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন। নিজেই নিজের কাপড় পরিস্কার করতেন। ছাগলের দুধ দোয়াতেন। স্ত্রীদেরকে ঘরের কাজে সাহায্য করতেন। নবাব সাহেবের মতো পা তুলে শুধু স্ত্রীকে অর্ডারের পর অর্ডার দিয়ে যেতেন না। ঘন ঘন মিসওয়াক করতেন। সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। শরীরে যাতে কোন দুর্গন্ধ না থাকে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে স্ত্রীর হক আদায় ও তাদের অনুভূতি বোঝার তাওফিক দান করুন। আমীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here