রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কেনো প্রয়োজন?

33

সুফিয়ান ফারাবী
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট>

চলছে মহামারীর ক্লান্তিময় সময়। করোনা ধকল কাটিয়ে ওঠা যায়নি এখনো। এর মধ্যেই বাংলাদেশের সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের জন্য আবেদন করেছিলেন এডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ। ইতিমধ্যে তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন মহামান্য আদালত।

এই পরিস্থিতিতে কিছু প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। তারা জানতে চান, বারবার বিষয়টিকে সামনে আনার কারণ কী? রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকলে কী লাভ? না থাকলে কী ক্ষতি? কোন যুক্তিতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখতে হবে?

এ বিষয়ে আমরা কথা বলেছি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর সঙ্গে।

কিছুদিন পর পর এই বিষয়টি উত্থাপনের মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়, তারা এদেশের তৌহিদি জনতার প্রতিক্রিয়া দেখতে চায়। তারা বারবার ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম থেকে বাদ দেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। এবং এর মাধ্যমে বুঝার চেষ্টা করে এদেশের তৌহিদী জনতা কতটা সক্রিয়? আলহামদুলিল্লাহ এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ প্রতিবারই তাদের তৎপরতা নস্যাৎ করেছে।

এখন যেহেতু মহামারীর সময় অতিবাহিত হচ্ছে, সরকারও সভা-সমাবেশে কিছুটা বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে, তাই হয়তো তৌহিদী জনতা মাঠে নামতে পারবে না। এই সুযোগে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা ছিল এবার। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ তাদের এ তৎপরতা সফল হয়নি।

অনেকে মনে করছেন যেহেতু এদেশের ইসলামিক আইন চলে না, এ দেশ চলে সংবিধান অনুযায়ী, তাহলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার কী দরকার?

এমন প্রশ্নের জবাবে কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম মাওলানা ইউসুফ নূর বলেন, যেহেতু অমুসলিম এবং নাস্তিকরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, সুতরাং ধরেই নেয়া যায় এর মধ্যে কল্যাণ নিহিত

৪৭ -এর দেশভাগের প্রধান ইস্যু ছিল ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া। হিন্দুস্তান থেকে বিভক্ত হয়ে দুটি রাষ্ট্র হয়েছিল ধর্মকে কেন্দ্র করেই। আমরা জানি বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ ছিল। আমাদের সাথে পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব হয়েছিল ইনসাফ নিয়ে! ধর্ম নিয়ে নয়।

সুতরাং সাতচল্লিশের দেশভাগের মূল কারণের উপর ভিত্তি করেই এদেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকা প্রয়োজন।

এছাড়া আরও একটি বিষয় হল, শুধুমাত্র নামকাওয়াস্তে আমাদের দেশে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে রাখা হয়েছে। সংবিধান হিসেবে নয়। এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে ইসলাম রাষ্ট্র ধর্মের মর্যাদা পায়। কার্যত এর মাধ্যমে সাংবিধানিক অথবা আইনি কোনো উপকারিতা লক্ষ করা যায় না। কেমন যেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকা না থাকা সমান।

তারপরও যখন ইসলাম বিদ্বেষীরা রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে, বাতিল করার জন্য তৎপরতা চালায়, সুতরাং স্পষ্ট বোঝা যায়, এটা বলবৎ রাখার মাঝেই কল্যাণ নিহিত। মুসলমানদের জন্য কোনটা উপকার, সেটা মুসলিমরা না জানলেও, ইসলামবিদ্বেষীরা ভালো করে জানে। সুতরাং বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকা অত্যাবশ্যক।

নানা ধর্মের মানুষের বসবাস বাংলাদেশে। তাহলে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম রাখতে হবে কেন? – এর উত্তর দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ।

এদেশে ৯২ শতাংশ মুসলমানের বসবাস। বিশাল সংখ্যার দিকে লক্ষ রেখে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখতে হবে। তা না হলে এদেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি হুমকির মুখে পড়বে। মানুষের মাঝে সভ্যতা বলতে কিছু থাকবে না। অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড সহসায় চালানো যাবে। সুতরাং এদেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে হলে ধর্মীয় অনুশাসন বজায় রাখা জরুরি। আর এ কারণেই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা প্রয়োজন।

আমাদের দেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান একই সাথে বসবাস করে। পরস্পর ধর্ম নিয়ে কখনো বিবাদে জড়ায়না। অমুসলিমদের উপর মুসলমানরা আক্রমণ করেছে এরকম বিচ্ছিন্ন কোনো খবরও আমরা পাইনা। পৃথিবীর বুকে সম্পৃতির এমন দৃষ্টান্ত আর কোথাও নেই।

বেশ কিছুদিন পূর্বে কোন একটি টেলিভিশনে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা কতটা যৌক্তিক এ বিষয়ে আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন লালবাগ জামেয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি। সেখানকার উপস্থাপিকা এবং আগত অতিথিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তার ভাষায়, সেই টেলিভিশনটি বরাবরই এমন করে। সাংবাদিকতা ওদের একটা লেভেল মাত্র। তারা সাংবাদিকতা নয় বরং একটি মিশন বাস্তবায়ন করতে চায়। ওদের মিশন ইসলাম ও দেশের বিরুদ্ধে। অন্য কিছু নয়।

অতিথি হিসেবে যেসব ওলামায়ে কেরাম সেখানে যান, উপস্থাপক অথবা উপস্থাপিকাসহ সকলেই একসাথে তার বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করে। নানা ধরনের প্রশ্ন তোলে। কিন্তু সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেয়া হয় না। আমি মনে করি তারা একটি রাষ্ট্রের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মুফতি সাখাওয়াত বলেন, এটা বলার অবকাশ রাখে না। এবিষয়টি বাংলাদেশের সকলেই জানে। নতুন করে বলার প্রয়োজন মনে করছি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here