মাত্র ৯ দিনে ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে ওমরা পালনকারীর সংখ্যা

24

শিখো বাংলায়: করোনার কারনে বিপর্যস্ত বিশ্ব ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এরই ৪ অক্টোবর থেকে পবিত্র ওমরা চালুর অনুমতি দিয়েছে সৌদি সরকার। উমরা চালুর প্রথম ৯ দিনে ৫০ হাজারের অধিক মানুষ পবিত্র উমরা সম্পন্ন করেছেন।

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি মানুষ উমরা সম্পন্ন করেছেন বলে হারামাইন সূত্রে প্রকাশ। তবে এখনও মসজিদে হারাম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, ১৮ অক্টোবর থেকে মসজিদে হারাম নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ওই দিন থেকে দৈনিক ১৫ হাজার মানুষ উমরা পালনের সুযোগ পাবেন।

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত মার্চ থেকে পবিত্র উমরার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব। মহামারির কারণে এবার মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হজও সীমিত আকারে পালিত হয়েছে। করোনার প্রকোপ কমে আসায় ৪ অক্টোবর সকাল থেকে উমরা পালনকারীদের জন্য মসজিদে হারাম খুলে দেওয়া হয়। ওই দিন থেকে দৈনিক ৬ হাজার মুসল্লি উমরা পালন করছেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর পুনরায় উমরা শুরুর ঘোষণার সময় সৌদি আরবের হজবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ বেনতেন জানিয়েছিলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে খুবই সতর্কতার সঙ্গে এবং সুনির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে উমরা পালন করা হবে। উমরা পালনকারীদের কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত করা হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উমরা পালনকারীদের পবিত্র কাবা তাওয়াফ করতে হবে। আপাতত কাবা শরিফ স্পর্শ ও হাজরে আসওয়াদে চুমো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।’

দ্বিতীয় ধাপ ১৮ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। এ সময়ে একদিনে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার জনকে উমরার জন্য মসজিদে হারামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এই দিন থেকে মসজিদে হারামে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায়েরও সুযোগ পাবেন।

তৃতীয় ধাপ ১ নভেম্বর থেকে সৌদি আরবে অবস্থান করা এবং বিদেশ থেকে আসা উমরাযাত্রীদের মক্কার মসজিদে হারামে ঢুকতে দেওয়া হবে। তখন প্রতিদিন ২০ হাজার মানুষ উমরা পালন এবং ৬০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। চতুর্থ ধাপে করোনা মহামারি দূর হওয়ার পর মসজিদে হারাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

এদিকে ৬ ধরনের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ওমরাহ না করার পরামর্শ দিয়েছে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আজ সোমবার আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, সৌদির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওমরাহর গাইডলাইনে ৬ ধরণের লোককে ওমরাহ ও জিয়ারত আপাতত স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টুইটার অ্যাকাউন্টে বলেছে, ৬ ধরণের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এই মুহুর্তে ওমরাহ ও জিয়ারত করার পরিকল্পনা না করা উচিত। এক. যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কম। দুই. যারা গত ছয় মাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিন. যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। চার. যাদের হৃদরোগ রয়েছে। পাঁচ. যাদের হার্টের অবস্থা দুর্বল। ছয়. যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।

মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, যারা মোটা বা লিভার ডিজিজ, ক্রেনিয়াল রোগে আক্রান্ত আছেন, তারাও ওমরাহ পালনে কিছু সময় নিতে পারে। গর্ভবতী মহিলারাও ওমরাহ ও জিয়ারতের জন্য কিছু দিন অপেক্ষা করা উচিত।

করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘদিন ওমরাহ বন্ধ রাখার পর চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। করোনা রোধেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বরে জানায় মন্ত্রণালয়। সূত্র: আল-আরাবিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here