শিখোবাংলায়: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিপরিতে আল্লাহর ৯৯ নামের স্তম্ভ নির্মাণের কথা বলায় খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, হেফাজতে ইসলামের নবনির্বাচিত যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের উপর ক্ষেপেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মাওলানা মামুনুল হককে বিষোদগার করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে এ সংগঠনটি।

ইসলাম শিক্ষা ও মাদরাসা শিক্ষার উপর হস্তেক্ষেপ করার সাহস দেখিয়ে ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধসহ আরও পাঁচটি দাবি জানিয়েছে এ মুক্তযুদ্ধ মঞ্চ।

তারা মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার দাবি জানায়।

এদিকে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারীরা কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। সংবিধান লঙ্ঘন করে জাতির পিতাকে অবমাননা করা হয়েছে। এদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন অশালীন ভাষা ব্যবহার করে মাওলানা মামুনুল হককে গালি দিয়ে বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হককে গ্রেপ্তার না করলে সমগ্র দেশে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়: ১. জাতির পিতাকে অবমাননা করার অপরাধে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করতে হবে। ২. দেশের প্রতিটি উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভার্স্কয নির্মাণ করতে হবে। ৩. বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। ৪. বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক গুজব ছড়ানো ও অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ৫. ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৬. মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়াতে হবে। ৭. মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত বাজানো, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।