ভারতের ২০ কোটি মুসলমান কোনঠাসা; মুসলিমদের খাদে ফেলছে মোদি

23

শিখো বাংলায়: প্রায় তিন দশক সময়, ৮৫০ জন সাক্ষী, স্থিরচিত্র, ভিডিওসহ ৭ হাজার প্রমাণাদি থাকার পরও পবিত্র শহর অযোধ্যায় হিন্দু উগ্রবাদীদের হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ১৬ শতকের ঐতিহ্যবাদী বাবরি মসজিদ মালায় একজনকেও দোষী সাব্যস্ত করেনি ভারতীয় আদালত।

জীবিত ৩২ অভিযুক্তদের মধ্যে ভারতের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা কৃষ্ণ আদভানি রয়েছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনিসহ অভিযুক্ত সবাইকে খালাস দিয়েছে আদালত।

আদালতের ভাষ্য, ১৯৯২ সালে সমাজবিরোধী নামপরিচয়হীন দুষ্কৃতিকারীরা মসজিদ ধ্বংস করেছে এবং তাতে পূর্বের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আদালতের পর্যবেক্ষণ দাঁড়ায়, দুর্ঘটনাবশত বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে।

কয়েক ঘণ্টায় বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। তার আগে প্রকাশ্যে মহড়ায় অংশ নেয় উগ্রবাদীরা। সেখানে স্থানীয় পুলিশের অনেক সদস্য উপস্থিত ছিল। হাজার হাজার মানুষ মসজিদ ভাঙার সে দৃশ্য দেখেছে। ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যও নিয়েছিল তদন্ত কমিশন। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) বিচারিক আদালত সবকিছুকে অস্বীকার করেছে।

গেলো বছর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্বীকার করে বাবরি মসজিদ ভাঙা একটি পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড। যা আইনের শাসনের ভয়াবহ লঙ্ঘন।

সাধারণভাবে রায়কে ভারতের বিচার ব্যবস্থার নিস্ক্রিয়তা এবং বিশৃঙ্খলার আরেকটি কলঙ্কজনক উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়। অনেকের শঙ্কা কয়েক দশক ধরে বিচার বিভাগের ওপর যেরকম নগ্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলেছে, প্রয়োজনীয় তহবিল দেয়া হয়নি এবং এর সক্ষমতা দুর্বল করা হয়েছে, তাতে এটিকে আর সংস্কার করা সম্ভব নয়। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে, ভারতের ২০ কোটি মুসলমানকে যেভাবে কোনঠাসা করা হচ্ছে-প্রান্তিকরণ করা হচ্ছে সে প্রক্রিয়াকে এ রায়, আরও ত্বরান্বিত করবে।

নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার মুসলমানদের একেবারে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে ভারত নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দাবি কর আসছে। ভারতের বহুত্ববাদী এবং অসাম্প্রদায়িকতা চর্চার ইতিহাসে কোনো শাসনামলেই মুসলমানরা এতটা কোণঠাসা হয়নি।

গরুর গোস্ত খাওয়া এবং গরু বহনকারীদের ওপর হিন্দু উগ্রবাদীরা হামলা চালিয়েছে। গরু সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুতে কাছে পবিত্র জিনিস বলে বিবেচিত। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেয়া অমুসলমি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করেছে। মুসলিম অধ্যুষিত জম্মু এবং কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করেছে মোদি সরকার। বাতিল করা হয়েছে রাজ্যের সাংবিধানিক স্বায়ত্বশাসনের অধিকার। রাজ্যটিকে ভেঙে কেন্দ্রে শাসিত আলাদা দুটি অঞ্চলে ভাগ করেছে বর্তমান ভারত সরকার। বিবিসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here