বাচ্চাদের শারীরিক শাস্তির কুফল

20

শিখো বাংলায়: অনেক পিতামাতাই তাদের সন্তানদের সুষ্ঠু লালনপালনের উদ্দেশ্যে শারীরিক প্রহার করে থাকেন। এক্ষেত্রে অনেক শিক্ষকও পিছিয়ে নেই কোনো অংশে। তারা মনে করেন, বাচ্চাদের শাসন বুঝি শুধু মুখের কথায় হয় না। অতীতে শিশুদের শাসনের ব্যাপারে এই অত্যধিক কড়াকড়ি একটা মতবিশ্বাস হিসেবে বড়দের মনে বদ্ধমূল ছিলো। সেকালে বেত, লাঠি কিংবা চাবুক বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচ্য হতো।

কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ পদ্ধতিও শিশুমনস্তত্ত্ববিদ শিশুদের এই শাসনপ্রক্রিয়াকে বর্বর বলে আখ্যা দিয়েছেন। তারা বলেন, শারীরিক প্রহার শিশুদের মনে স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। উন্নত বিশ্বের দেশসমূহে শাসনের উদ্দেশ্যে শিশুদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।

শারীরিক প্রহারের মাধ্যমে কখনো একজন শিশুর সঠিক শাসন নিশ্চিত হয় না। এটিকে সাময়িকভাবে ফলপ্রসু মনে হলেও অবশেষে এটি শিশুদের জন্য স্থায়ী মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

একজন শিশুকে যখন শারীরিক প্রহার করা হয়, তখন তার মনে একটি ধারনা জন্ম নেয় যে, যেকোনো কাজে বলপ্রয়োগই সফলতা এনে দেয়। সে ভাবতে শুরু করে, কারো উপর রাগান্বিত হলেই তাকে পেটাতে হবে। এতে করে সেই শিশু ভবিষ্যতে বাবা-মা কিংবা শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে সেও শাসনের ক্ষেত্রে একই পন্থা অবলম্বন করবে।

যে শিশু তার বাবা-মা কিংবা শিক্ষকের কাছ থেকে হরহামেশাই শারীরিক প্রহারের শিকার হয়ে থাকে, শিক্ষক কিংবা বাবা-মা’র প্রতি তার মনে এক গভীর ক্ষোভের তৈরি হয়। আর শিশুমনে যখন কারো প্রতি একবার কোনো বিরূপ ধারণা জন্ম নেয় তা কখনোই তার মন থেকে মুছে যায় না। কখনো কখনো সেই শিশু তার/তাদের প্রতি বিদ্রোহাত্মক হয়ে ওঠে।

অত্যধিক শারীরিক শাস্তির ফলে একজন শিশু ভবিষ্যতে কাপুরুষে পরিণত হয়। শারীরিক শাস্তির ফলে উক্ত শিশুর ব্যক্তিত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাঝে মাঝে দেখা যায়, শৈশবে অধিক শারীরিক প্রহারের শিকার শিশুরা পরবর্তীতে মানসিক রোগীতে পরিণত হয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শারীরিক শাস্তি শিশুর মনে বিপরীত প্রভাব ফেলে। এতে করে সে নিজেকে শোধরানোর পরিবর্তে পুনরায় সেই অপরাধ করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। কেননা সে শুধুমাত্র শিক্ষক ও পিতামাতার লাঠিকে ভয় করে; ফলে এই ভয় তার অপরাধবোধকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

যেসব শিশুরা শারীরিক শাস্তির শিকার হয়, তাদের ফলাফল হয় দুয়ের একটি। এক, হয় সে ভবিষ্যতে একজন দুর্বল ও নিস্তেজ ব্যক্তিতে পরিণত হবে। দুই, নয়তো সে একটি দুর্ধর্ষ ও একরোখা মানুষে পরিণত হবে।

মনে রাখতে হবে, একজন মানুষকে অবশ্যই মৌখিক শাসনের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়। শুধুমাত্র পশুদেরকে শারীরিক শাস্তির মাধ্যমে সংশোধন করতে হয়। এখানেই মূলত একজন রাখাল ও মানুষের শাসকদের মধ্যে পার্থক্য নিহিত।

রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা ভালোবাসা ও স্নেহের মাধ্যমে বাচ্চাদের শিক্ষাদান ও সুষ্ঠু লালনপালন নিশ্চিত করো। কখনো নিষ্ঠুরতার আশ্রয় নেবে না। কেননা একজন হৃদ্বতাপূর্ণ অভিজ্ঞ শিক্ষক একজন নিষ্ঠুর শিক্ষকের চেয়ে উত্তম। বিহারুল আনোয়ার।

উক্ত হাদীস থেকে বোঝা যায়, অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা কখনো শিশুদেরকে শারীরিক প্রহার করে না। কারণ তারা জানে , একজন শিশুকে কী করে শারীরিক শাস্তি ব্যতিতই মানুষ করা যায়। শিশুশাসনের ব্যাপারে যাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই, একমাত্র তারাই শিশুদেরকে শারীরিক শাস্তি দেয়।

ইসলামে শিশুদের শাসনের জন্য বেত্রাঘাত করা, ঘুষি দেওয়া, লাথি মারা ইত্যাদি’র অনুমতি নেই। অন্যথায় শাসন পরিনত হবে শোষণে, বাবা-মা কিংবা শিক্ষক পরিণত হবেন জালেমে এবং অসহায় শিশুরা পরিণত হবে মাজলুমে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here