শিখোবাংলায়.কম: যুগের চাহিদা ও প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে কলম ধরাই একজন লেখকের প্রধান কর্তব্য। সেই কর্তব্যবোধ থেকেই এই ব্যতিক্রমধর্মী লেখার উপস্থাপনা। অবশ্য এক হিসেবে এটাকে ব্যতিক্রমধর্মীও বলা যায় না। কেননা, বর্তমান সময়ে বেপর্দা, উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার, প্রেম, পরকীয়া, খুন, ধর্ষণের যে চিত্র মহামারী আকারে আত্মপ্রকাশ করেছে তাতে কারও বসে থাকার সুযোগ খুব কম। প্রত্যেককে যার যার অবস্থানে থেকে এ ব্যাপারে কাজ চালিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। এই অনুভূতিবোধ তো আছেই, সেই সঙ্গে আমার মাথায় কাজ করেছে আরেকটি বিষয়। সেটি হলো, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতকে নারীজাগরণের পথিকৃত বলা হয়। তার বড় কৃতিত্ব (?) ছিল পর্দাদ্রোহ! তিনি যে সময়ের মানুষ ছিলেন সে সময়টায় রক্ষণশীলতা কথাটা বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হতো। মুসলিম পরিবারগুলোও ছিল রক্ষণশীলতার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। স্বয়ং রোকেয়াও জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি রক্ষণশীল পরিবারে। কিন্তু রক্ষণশীলতা আর পর্দার বিরুদ্ধে তিনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। লড়াই আর দর্শনটাকে কথা এবং কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কলমের মাধ্যমেও তা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি রচনা করেন ‘অবরোধবাসিনী’ বইটি। স্বতঃস্ফূর্ত পর্দা পালন করতে গিয়ে কোন্ নারী কীভাবে বিড়ম্বনায় পড়ল সে সব কাহিনী তিনি চটকদার শব্দে বিদ্রূপাত্মক ভাষায় প্রকাশ করেছেন। পর্দার বিরুদ্ধে এলিট শ্রেণীর দৃষ্টিতে পর্দার বিরুদ্ধে লেখা তার এই বইটি যেন অনুপ্রেরণার আদর্শ গ্রন্থ! এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এসব লোকেরা পর্দার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার সহযোদ্ধার দায়িত্ব পালন করে আসছে। এখনও আছে সেই ধারাবাহিকতা। বরং এখন সহযোদ্ধারা আরও শক্তিশালী হয়ে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে। রোকেয়ার দর্শন ও আবেদনকে নারীর কানে কানে পৌঁছে দিয়ে নারীকে তারা ঘর ছাড়া করতে চাইছে।

তাদের এই সর্বনাশা পদক্ষেপ নারী জাতির কী পরিমাণ ধ্বংসসাধন করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নারী জাতি আজ দিকহারা ভ্রান্তপথিক, তাদের ইজ্জত-সম্ভ্রম ধূলোয় লুটোপুটি খায়। আজ তারা পালকহীন পাখির মতো, যার সম্ভ্রমটুকু কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে ফেলে রাখা হয়েছে পথে-ঘাটে, বাজারে, মার্কেটে। সরলতাকে পুঁজি বানিয়ে একেকজন একেকভাবে তাদেরকে ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক চক্র তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ধ্বংস করছে, চতুর ‘বণিকেরা’ তাদেরকে সস্তা পণ্য বানিয়ে মুনাফা করছে, লম্পটেরা বক্রপথে কামনা চরিতার্থ করছে আর এক শ্রেণীর মানুষ ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো কিছু না পেয়েই লাফাচ্ছে। কিছু না পাওয়া এই শ্রেণীই বেশি ভয়ানক। এদের মায়াকান্নাতেই নারীরা পঙ্গপালের মতো আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে। নিজের হাতে রচনা করছে নিজেদের ধ্বংসের পথ।

ছদ্মবেশী এসব দুশমনের অকল্যাণ থেকে নারী জাতিকে সতর্ক করার প্রয়াস হিসেবেই ‘মুক্তবাসিনী’ বইটি লেখা। এতে সমসাময়িক যে সব নারকীয়, দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়ে গেছে, সে সব ঘটনা উল্লেখ করে এর সত্যাশ্রয়ী বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনার অনেকগুলো এত মর্মান্তিক, যা পাঠক হৃদয়ে বেদনার ঝড় তুলবে বলে আমি মনে করি। কারণ, হৃদয় বলে যে শক্তি আছে সেই শক্তিও অনেক সময় নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় কোনও কোনও ঘটনার নির্মমতায়। এই অভিজ্ঞতা আমার আপনার সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

ডাউনলোড লিংক:

Mukto_bashini_01.pdf (1.79MB)

download button

Mukto_bashini_2.pdf (2.29MB)

download button