ফ্রিজ থেকে কি করোনা ছড়ায়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

78

শিখো বাংলায়: করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে ফ্রিজ এখন আতঙ্কের অন্য নাম। গৃহিণী সকালে উঠে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করার পর থেকে তা প্রস্তুত করা পর্যন্ত মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস ও চোখে চশমা পরে থাকছেন।রান্নাবান্নার আগেও আবার এক ব্যাপা র। কাঁচা মাছমাংস যতক্ষণ না পুরোপুরি রান্না হচ্ছে, মুখে মাস্ক, চোখে চশমা। বিকেলে আরেকবার ফ্রিজে হাত, নাক-মুখ-চোখ-হাত ঢেকে, রান্না করা খাবার ফ্রিজে রাখার জন্য, আরেকবার রাত্রে।

ফ্রিজ থেকে করোনা ছড়াই এই আতঙ্কে নিয়ম মেনে চলছেন সবাই। তবে ঘরোয়া ফ্রিজের যা তাপমাত্রা তাতে ভাইরাস খুব বেশিক্ষণ বাঁচে না বলে জানালেন ভারতের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডা. নন্দী।  এখন প্রশ্ন হলো ফ্রিজে কি আসলে ভাইরাস থাকে? ভাইরাস বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী জানিয়েছেন, থাকে, যদি সে ফ্রিজের তাপমাত্রা -১৯০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়। এটা একমাত্র সম্ভব গবেষণাগারে। ভাইরাস নিয়ে গবেষণা হয় যে সমস্ত ল্যাবরেটরিতে সেখানে তরল নাইট্রোজেনের সাহায্যে ফ্রিজের তাপমাত্রা কমিয়ে ভাইরাসের নমুনা জমিয়ে রাখা হয়। যাকে বলে ক্রায়ো প্রিজারভেশন। তারপর কাজের সময় তাকে বাইরে বার করে ধাপে ধাপে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নিয়ে এলে ভাইরাস জীবিত হয়ে ওঠে। অসাবধান হলে তখন সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। কিন্তু সাধারণ ফ্রিজে সে ভয় নেই। কারণ ঘরোয়া ফ্রিজে ফ্রিজারের তাপমাত্রা থাকে ০ থেকে ২/৩ ডিগ্রির মতো। ফ্রিজের সাধারণ অংশে ৪ থেকে ৮/১০ ডিগ্রি, কখনও আরও বেশি।এখন যদি প্রশ্ন আছে কাঁচা মাছ মাংস থেকে কি সংক্রমণ হবে? যদি আপনি হাত দেওয়ার ঠিক আগে কোনও করোনা রোগী সেটা হাত দিয়ে থাকেন, আর আপনি সে সবে হাত দেওয়ার ঠিক পরেই নিজের নাকে-চোখে-মুখে হাত দেন তবে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করবে, জানালেন ডা নন্দী। তার পরেও প্রশ্ন কয়টা ভাইরাস শরীরে প্রবেল করলো? দু-চারটে প্রবেশ করলে তো সংক্রমণ হবে না।  তবু সাবধানতা হিসেবে বাজার আনার পর বেশ কিছুক্ষণ বাইরে রেখে, ভাল করে ধুয়ে ফ্রিজে তুলতে হবে। তারপর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে অবশ্যই। কিন্তু মাস্ক বা চশমা পরার কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ ভাইরাস লাফ দিয়ে নাকে-মুখে ঢোকে না।ভাইরাস জড় বস্তুর উপর কতক্ষণ বেঁচে থাকে তা দেখার জন্য বিজ্ঞানীরা কালচার মিডিয়াম থেকে এক ফোঁটা ভাইরাস সে সব বস্তুর উপর ফেলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেখান থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন কোথায় কতক্ষণ বেঁচে থাকে সে। তার ভিত্তিতে মোটামুটি বলা যায় কভিড আক্রান্তের হাঁচি-কাশির ড্রপলেট কোথায় পড়লে কতক্ষণ ভাইরাস বেঁচে থাকবে। কিন্ত সেখানে হাত দিয়ে নাকে-মুখে হাত দিলে সংক্রমণ হবেই তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ কালচার মিডিয়ামে ভাইরাস থাকে লক্ষ কোটিতে। সেই তুলনায় ড্রপলেটে থাকে অতি নগণ্য সংখ্যায়। তার মধ্যে সবকটাই যে যতটুকু সময় বেঁচে থাকার কথা, বেঁচে থাকবে, তা নয়। যে কটা বেঁচে থাকবে, তা হাতে লাগার কতক্ষণ পরে নাকে-মুখে-চোখে লাগছে সেটাও দেখার  বিষয়। অর্থাৎ কোথাও গোটা কয়েক ভাইরাস পড়ে রয়েছে মানেই আপনার সংক্রমণ হবে, এমন নয় ব্যাপারটা। সে শাক-সব্জি-ফল বা মাছ-মাংসে থাকলেও নয়। ফ্রিজে থাকলেও নয়। এটা পুরোপুরি নির্ভর করে কত সময় পরে সেখানে হাত দেওয়া হল ও কয়টা  ভাইরাস ঢুকল তার উপর।ডা. নন্দীর কথায়, ভাইরাস সংক্রমণ হওয়া ও সেখান থেকে রোগ হওয়া এক জটিল প্রক্রিয়া। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরও জটিল। কারণ এই ভাইরাসের বিশেষ কিছুই আমরা জানি না এখনও। যে সব কথা ভাবছি এবং বলছি, তার অনেকটাই এই জাতীয় অন্য ভাইরাসের ক্ষেত্রে ঘটেছিল বলে এ ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে তা অনুমান করে বলছি। তার সবটাই যে সত্য হবে   এমন নয়। কাজেই অহেতুক ভয় পেয়ে জীবন দুর্বিষহ করে কোনও লাভ নেই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here