শিখোবাংলায়.কম: ফ্রান্সে স্কুলের শিক্ষার্থীদেরকে মহানবি সা. এর কার্টুন দেখানোর জন্য ফ্রান্সের এক শিক্ষককে হত্যা করে এক যুবক। এরপরই এই ঘটনার নিন্দা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো। যার জেরে আরব দেশগুলিসহ প্রায় গোটা মুসলিম বিশ্বেই ফ্রান্সে উৎপাদিত হওয়া পণ্য বয়কটের ডাক ওঠে। ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোর সমালোচনা করার পাশাপাশি ফ্রান্সের নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন অনেকে।

এবার পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে দেখে এবার সেই ক্ষোভ প্রশমন করার কাজ শুরু করলেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লে দ্রিয়ান। মিশর সফরে গিয়ে তারা ইসলাম ধর্মকে খুব সম্মান করেন বলেও উল্লেখ করলেন। গত রোববার মিশর সফরে কায়রো গিয়ে প্রথমে সে দেশের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি ও পররাষ্ট্রমমন্ত্রী সামে শৌকরির সঙ্গে দেখা করেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমমন্ত্রী লেদ্রিয়ান।

তারপর ইসলাম ধর্মের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে যেভাবে ফ্রান্স বিরোধী হাওয়া উঠেছে তা অনভিপ্রেত। আমাদের প্রথম নীতি হল, ইসলামের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন। পাশাপাশি আমি একথাও বলতে চাই যে ফ্রান্সের সমাজের পুরো অংশজুড়ে মুসলিমরা রয়েছেন। এখন আমাদের সন্ত্রাসবাদী হামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। ধর্মান্ধতার পরিবেশ তৈরি করে নাশকতার চেষ্টা চলছে। তবে এটা শুধু আমাদের নয় সর্বত্রই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই লড়াইটা সবার একসঙ্গে লড়া উচিত।’

মিশরে গিয়ে সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ সংস্থা হিসেবে খ্যাত হাজার বছরের পুরনো আল আজহা মসজিদেও গিয়েছিলেন লি দ্রিয়ান। সেখানে গিয়ে ওই মসজিদের প্রধান, ইমাম শেখ আহমেদ আল তেইয়্যেবের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেখানে গিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি ফ্রান্সের ফের কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা হলে তারা ছেড়ে কথা বলবেন না বলেও উল্লেখ করেন। শেখ আহমেদ আল তায়েবও তাকে জানান, ইসলামে সন্ত্রাসের কোনও স্থান নেই। আর সন্ত্রাসবাদীদেরকে তারা মুসলিম বলে মনে করেন না।

সূত্র : আল-জাজিরা