শিখোবাংলায়.কম: ফরিদপুরের সালথা উপজেলাধীন ভাওয়াল ইউনিয়নের কামদিয়া গ্রামে আহলে হাদিস তথা লা-মাজহাবিদের একটি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় জনগণ।

গতকাল বুধবার (১৮ নভেম্বর) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি খুব দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রচার হয়, কওমির ছাত্ররা আহলে হাদিসদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার সত্যতা জানতে আওয়ার ইসলাম যোগাযোগ করে ফরিদপুরের জামিয়া ইসলামিয়া আজিজিয়া বাহিরদিয়া মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মুফতী ইমরান হুসাইনের কাছে। তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত দু:খজনক ও অনাকাঙিখত বলে আখ্যায়িত করেন।

কেন এমনটি ঘটলো- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গতকালের ঘটনা কারো উপস্থিত নেতৃত্বে ঘটেনি; বরং এখানের আহলে হাদিসরা স্থানীয় আলেম ঢালকানগরের শাইখুল হাদিস মুফতী আব্দুল গফফার, মাওলানা আকরাম আলী, মাওলানা জহুরুল হক এবং ইসমাতুল্লাহ কাসেমীসহ সব কওমি আলেমকে কাফের ঘোষণা করায় তাদের প্রতি আগে থেকেই তৌহিদী জনতার ক্ষোভ বিরাজ করছিলো। তা ছাড়া মাঝে মধ্যেই ফেকাহগত বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে এলাকায় বিশৃংলা সৃষ্টির কারণে তাদের প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠেছিল এলাকার জনগণ। তারই প্রেক্ষিতে চলমান ঝামেলাপূর্ণ বিষয়ের সমাধানে আমরা ঘটনাস্থলে একটি মিটিং আহবান করি। আর মিটিংয়ের সময় ও স্থান নির্ধারণ হয় সালথার সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও এলাকার সাংসদ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর পুত্র শাহদাব আকবর লাবুর সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমেই। এর আগে উপজেলার একাধিক কর্মকর্তাকেও বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক ভাবে মিটিংয়ের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সেখানে কওমী শিক্ষার্থীরাসহ আম-জনতা উপস্থিত হলে আহলে হাদিসের নেতৃত্বদানকারী নুর ইসলাম ও মঙ্গলের নির্দেশে ‘হাসিবুল ইসলাম’ নামের একজন মাদরাসা শিক্ষার্থীকে গুরুতর আহত করা হয়। এরপরই উপস্থিত জনতা তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়।’

এসময় স্থানীয় নেতৃত্বদানকারী আলেমরা কোথায় ছিলেন? জানতে চাইলে মুফতী ইমরান হুসাইন বলেন, ‘পুরুরা মাদরাসার মাওলানা নিজামুদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান, ও উপজেলা ইউএনও এর সঙ্গে সালথায় মিটিংপূর্ব বৈঠক করছিলেন তারা। অন্যদিকে মাওলানা আকরাম আলীর সঙ্গে বাহিরদিয়া মাদরাসা থেকে সভাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো অনেকেই। এরই মধ্যে ফোনে অনাকাঙ্খিত ব্যাপারটি জানা যায়।’

আর তাদের মসজিদ ভাঙার যে দাবিটি উঠেছে তা সম্পূর্ন অসত্য বলেও জানান মুফতী ইমরান হুসাইন। তিনি বলেন,‘ সেখানে কোন মসজিদ ছিলো না, শুধু ছোট্ট ঘরের মতো একটি আস্তানা ছিলো।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক আলেম জানান, ‘মূলত এলাকার শ্রদ্ধেয় আলেমদের কাফের ঘোষণা, কওমি মাদরাসায় জাকাত দিলে না-জায়েজের ফতোয়া প্রদান এবং সবশেষ ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীকে আহত করার বিষয়টিই উপস্থিত জনতা মানতে পারেনি।

সালথার ইউএনও মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, ‘দুই পক্ষকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাতে আহলে হাদিস মাদরাসায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

হামলার ঘটনা শোনার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে বলেন, ‘ওই মাদরাসায় যে ৩৫ জন নিবাসী ছিল তাদের সবাইকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কারা এই হামলায় জড়িত ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সালথা থানার ওসি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও ঘটনার সুষ্টু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।