মুফতী মাসউদুর রহমান ওবাইদী

ফজরের নামাযে রয়েছে ১০ টি  উপকারিতা:

১. রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ইশার সালাত আদায় করলো সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়লো। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়লো,সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়লো  (মুসলিম: ৬৫৬)

২. রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করলো,সে আল্লাহর জিম্মায় চলে গেল,অতএব আল্লাহ যেন তার জিম্মার বিষয়ে তোমাদেরকে কোনোরূপ অভিযুক্ত না করেন(তিরমিযি: ২১৮৪)

৩. রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

যারা আঁধারে (ফজরের নামাজে) মসজিদের দিকে হেঁটে যায়,তাদের কেয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নূর প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও(তিরমিযি:২২৩)

৪. রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে (অর্থাৎ ফজরের ও আসরের নামাজ) আদায় করবে,সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না (মুসলিম:১৩২২) কিন্তু এর বিপরিত যারা ফজরের সালাত না পড়ে ঘুমিয়ে থাকবে, মৃত্যুর পর তাদের মাথা পাথর দিয়ে ভাংগা হবে। বোখারী ৭০৪৭/

৫. রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

মুনাফিকদের উপর ফজর ও এশার নামাজ অপেক্ষ ভারী নামাজ আর নেই,যদি তারা এর ফজিলত ও গুরুত্ব জানতো,তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছার ভরে অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হত (বুখারি:৬১৫)

৬. রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফেরেশতারা আসে,তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যেরত ছিল তারা ওপরে উঠে যায়

আল্লাহ তো সব জানেন।তবুও ফেরেশতাদেরকে প্রশ্ন করেন,আমার বান্দাদেরকে কেমন রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, “আমরা তাদেরকে নামাজরত রেখে এসেছি,যখন গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাজরত ছিল”  (বুখারি:৭৪২৯)

৭. রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

ফজরের দুই রাকাত দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ  (মুসলিম:১৫৭৪)

৮. রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায়ের পর বসে আল্লাহর যিকিরে মশগুল থেকে সূর্য উদয় হওয়ার পর দুই রাকাত নফল নামাজ (ইশরাক) আদায় করবে,সে পরিপূর্ণ এক হজ্জ ও ওমরার সওয়াব লাভ করবে  (তিরমিযি:৫৮৬)

৯. রাসূলুল্লাহ ﷺ ছুন্নাহ হল খুব ভোরে অর্থাৎ খুব অন্ধকারে ফজরের সালাত আদায় করা : তাই এই ফিতনার জামানায় কেউ যদি রাসুল (সঃ) একটি ছুন্নাহের উপর থাকতে পারে, তাহলে তার জন্য ৫০ জন সহীদের মর্জাদা রয়েছে। (আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ত্বাবারানী, সঃ জামে’ ২২৩৪ নং)

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসূল (ছাঃ) অন্ধকারে ফজরের ছালাত আদায় করতেন। অতঃপর মুমিন মহিলারা ছালাত শেষ করে চলে যেত। কিন্তু অন্ধকারের কারণে তাদেরকে চেনা যেত না অথবা পরস্পরকে তারা চিনতে পারত না।

ছহীহ বুখারী হা/৮৭২, ১/১২০ পৃঃ, (ইফাবা হা/৮৩০, ২/১৬৩ পৃঃ) ছহীহ আবুদাঊদ হা/৩৯৭, ১/৫৮ পৃঃ।

এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, সমাজে দেরী করে অর্থাৎ ফর্সা হলে ফজরের সালাত জামাতে আদায় করার যেই প্রথা চালু আছে, তা ঠিক নয়, এবং তা সহীহ হাদিসের বিরুধি।

১০. এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ- এর কাছে ছিলাম,হঠাৎ তিনি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের  দিকে তাকিয়ে বললেন,

“শোন! নিশ্চয় তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে তেমনি স্পষ্ট দেখতে পাবে… যেমন স্পষ্ট ঐ চাঁদকে দেখতে পাচ্ছ… তাঁকে দেখতে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না।

কাজেই তোমরা যদি সূর্য উঠার আগের নামাজ ও সূর্য ডুবার আগের নামাজ আদায়ে সমর্থ হও,তাহলে তাই করো।”

তারপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন “সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসার তাসবীহ পাঠ করুন”(বুখারি:৫৭৩)