পিপিই পরিহিত অবস্থায় নামাযের বিধান

77

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক প্রকার বিশেষ পোশাক পরিধান করতে হয়। যাকে ইংরেজিতে P.P.E (পিপিই) বলা হয়। এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Personal Protective Equipment. অর্থাৎ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার উপকরণ। এটা মূলত প্রতিরক্ষামূলক একটি পোশাক, যা পরিধানকারীর দেহকে বাইরের আঘাত বা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

সাধারণত P.P.E এর মধ্যে নিম্নোক্ত উপকরণগুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে:

  • 1.Apron (অ্যাপ্রোন)
  • 2.Helmet (হেলমেট)
  • 3.Safety Goggles (সেফটি গগলস)
  • 4.Hand Gloves (হ্যান্ড গ্লাভস)
  • 5.Safety Shoe (সেফটি সু)
  • 6.Safety Belt (সেফটি বেল্ট)
  • 7.Gas Mask (গ্যাস মাস্ক)
  • 8.Face Mask (ফেস মাস্ক)

কাজের সাথে সঙ্গতি রেখে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্দেশ্যে এসব সুরক্ষা সরঞ্জাম পরিধান করা হয়।

উক্ত PPE পরা অবস্থায় সাধারণত টয়লেটে যাওয়া বা অযু করা সম্ভব হয় না। কারণ তা একবার পরিধান করে খোলার পর পুরোটা না ধুয়ে পুনরায় ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষেধ। একারণে বিদেশে লোকেরা এডাল্ট ডায়াপার পরে কাজ করে। আর তাতে মলমূত্র ত্যাগ করে। অপরদিকে অযু ও পবিত্রতার সময় পিপিই খুলে আরেকটি পিপিই পরিধানের পরামর্শও দেয়া যায় না। কেননা আমাদের দেশে জরুরি সংখ্যক পিপিই-এর অভাব রয়েছে। আবার ডাক্তারের সংখ্যাও প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম। যদ্দরুণ ডিউটির সময়ও কমিয়ে দেয়া যায় না।

এ পরিস্থিতিতে ডাক্তার ও রোগীদের সেবায় নিয়োজিতরা অযু, নামায ও পবিত্রতার বিষয়ে বিরাট বিড়ম্বনায় পড়ে যান। তাদের প্রশ্ন হচ্ছে, তারা যেহেতু PPE পরা অবস্থায় অযু বা সরাসরি শরীরের উপর তায়াম্মুম করতে পারছেন না তাই PPE এর উপর তায়াম্মুম কিংবা মাসেহ করতে পারবেন কি না? নিম্নে এবিষয়ের শরয়ী বিধান আলোচনা করা হলো।

প্রথমত হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নামাযের সময়ের প্রতি খেয়াল রেখে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটির শিডিউল নির্ধারণের চেষ্টা করবেন। যাতে প্রত্যেকে নিজ নিজ ডিউটি শেষে সময়মত স্বাভাবিকভাবে নামায আদায় করতে পারেন।

যেমন বর্তমানে যোহরের সময় বিকাল ৪.৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকে। তো যারা সকাল থেকে ডিউটি করবেন তাদের ডিউটির সময় যদি বিকাল ৪ ঘটিকা বা তার কিছু পর পর্যন্ত নির্ধারিত হয় তাহলে তারা ডিউটি শেষে পিপিই খুলে যথানিয়মে পবিত্রতা অর্জন করবেন। অতঃপর ওয়াক্তের ভিতরেই সাড়ে চারটার আগ মুহূর্তে যোহরের নামায আদায় করে নিবেন। প্রয়োজনের সময় এভাবে ওয়াক্তের শেষ সময়ে নামায পড়া বিনা দ্বিধায় বৈধ।

এরপর যারা রাতের শিফটে ডিউটি করবেন তারা যথাসময়ে যোহরের নামায পড়ে নিবেন। আর আছর ও মাগরিব নামাযের সময় তাদের ডিউটি শুরুর কাছাকাছি সময়ে হওয়ার কারণে অযু ও পবিত্রতা নিয়ে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

কিন্তু এভাবে ডিউটির শিডিউল নির্ধারণ করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ উত্তমরূপে অযু করে পিপিই পরিধান করবেন। নামাযের সময় অযু থাকলে স্বাভাবিকভাবে নামায আদায় করবেন। আর অযু না থাকা অবস্থায় বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না থাকলে PPE এর উপর তায়াম্মুম কিংবা মাসেহ করবেন না। কারণ কাপড়ের উপর তায়াম্মুম এবং সুস্থ শরীরে কাপড়ের উপর মাসেহ করা প্রমাণিত নয়।

এক্ষেত্রে তারা ডিউটি শেষে ওয়াক্তের পর যথানিয়মে পবিত্রতা অর্জন করেই নামায আদায় করবেন। এ অবস্থায় তাদের জন্য নামায পরে পড়াই মূল বিধান।

অবশ্য রোগীদের চিকিৎসা বা সেবাযত্নে কোনোরূপ বিঘ্ন না হলে যথাসম্ভব ওয়াক্তের মধ্যে নামাযীর সাদৃশ্য অবলম্বন করবেন। অর্থাৎ নিয়ত ও ক্বেরাআত ছাড়া নামাযীদের ন্যায় কিয়াম, রুকু-সিজদা ও বৈঠক করবেন। আর পরবর্তীতে অবশ্যই অযু করে এবং শরীর ও কাপড় পবিত্র করে উক্ত নামায পুনরায় আদায় করে নিবেন।

উল্লেখ্য যে, এ মাসআলা শুধুমাত্র ঐসকল ব্যক্তিবর্গের জন্য প্রযোজ্য হবে, যাদের জন্য আবশ্যিকভাবে পিপিই মেইনটেইন করা জরুরি। সাধারণ কোনও লোকের জন্য এই মাসআলা প্রযোজ্য হবে না।
[হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ পৃ. ১১৭]
والله سبحانه وتعالى أعلم بالصواب

লেখক – মুফতি ও মুহাদ্দিস,
জামিয়া হাকিমুল উম্মত, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here