শিখোবাংলায়.কম: দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ফেসবুকের জন্য একটা বাজার ছাড়া আর কিছু না। ফেসবুক এই দেশগুলোতে কোনো মানব সমাজের বসবাস আছে বলে মনে করে না্। অন্তত ফেসবুকের কর্মকাণ্ড থেকে এসব কথাই প্রতীয়মান হয়।

জাতিসংঘের মতে ফেসবুক মিয়ানমারে গণহত্যার পেছনে মারাত্মক পর্যায়ের ভূমিকা রেখেছিল। যেই গণহত্যার ফলে ৮ লক্ষাধিক মুসলিমকে দেশ ছাড়তে হয়েছে।

সম্প্রতি ফেসবুকের এহেন কর্মকাণ্ড দক্ষিণ এশিয়ার আরো বিভিন্ন দেশে লক্ষ করা গেছে। ২০১৮ সনে শ্রীলঙ্কায় মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা, ২০১২ সালে ভারতে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা, এবং ২০২০ সালের ভারতে মুসলমানদের গণহত্যা করা, তাদের ঘরবাড়ি লুট করা এসব কিছুর পেছনে ফেসবুকের  ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ফেসবুক নিজেদের নীতি নিজেরাই ভঙ্গ করে ইসলামোফোবিয়া ছড়ায় বিজেপিকে (ভারতীয় জনতা পার্টিকে) খুশী রাখার জন্য।

দক্ষিণ এশিয়ায় ফেসবুক যতটা না নীতি চায়, তার চেয়ে বেশী চায় বাজার ধরতে। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী ফেসবুক ও তার মালিকানাধীন হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহারকারী ভারতে। দক্ষিণ এশিয়া ফেসবুকের জন্য সবচেয়ে বড় বাজার। খোদ আমেরিকায় বাজার ধরে রাখার জন্যে ফেসবুক কমিউনিটি ম্যানটেইন করে না বলে যেখানে অভিযোগ আছে, সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থা যে আরো করুণ হবে সেটা ত বলাই বাহুল্য।

দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অনেক মানবাধিকার কর্মী ফেসবুককে উসকানি মূল বক্তব্য অপসারণ করার আহ্বান জানালেও ফেসবুক সে ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। অথচ গ্রাহককে অন্যান্য সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে তারা অনেক আগ্রহী।

এ অভিযোগ বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে ফেসবুকের বাকস্বাধীনতার দাবি একটা প্রতারণার কৌশলমাত্র। যখন কাশ্মীরের প্রসঙ্গ আসে তখন কাশ্মীরের নাগরিকদের ভারতীয় সেনাদের হাতে নির্যাতিত হওয়া, মানবাধিকার লংঘিত হওয়ার কথাগুলোও ফেসবুক সেন্সর করে। এমন কি “ফ্রি কাশ্মীর”  এই  শব্দটিও ফেসবুক সেন্সর করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকটিভিস্ট জানিয়েছেন যে বিগত ৩ বছরে ফেসবুক ভারতে যতগুলো আইডি অকার্যকর করেছে এর বেশীর ভাগই হল সেসব আইডি যারা মোদি বা বিজেপিকে নিয়ে সরব ছিল।