জুমার দিনে সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াতের ফজিলত

13

মুহাম্মদ আল আমিন।।

শিখো বাংলায়: সপ্তাহ ঘুরে আবার হাজির হলো পবিত্র জুমার দিন। জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিন। হাদীসের ভাষায় (সাপ্তাহিক) ‘ঈদের দিন’। মুমিনের নিকট প্রতিটি জুমা ই গুরুত্বপূর্ণ ও মাহাত্ম্যবহ। জুমার দিনের বিশেষ ফযিলত ও করণীয় সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে বহু হাদীস। এদিনে যেসকল আ’মাল ও করণীয় সম্পর্কে প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবিশেষ উৎসাহ প্রদান করেছেন সেগুলোর অন্যতম সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করা। সূরা কাহ্ফ কুরআনুল কারীমের অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ একটি সূরা। সহজপাঠ্য ও অতুলনীয় হৃদয়গ্রাহী। আল কোরআনের ১১৪ টি সূরার মধ্যে সূরাটি ১৮ তম। ১১০ আয়াত বিশিষ্ট সূরাটিতে বর্ণনা করা হয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীসহ জীবন ঘনিষ্ঠ নানাবিধ শিক্ষা। জুমার দিন সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াতের ফযিলতের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
হযরত ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— যে ব্যক্তি জুম’আর দিন সুরা কাহ্ফ পড়বে তার পায়ের তলদেশ থেকে আসমান পর্যন্ত একটি আলো উৎসারিত হবে, যা কিয়ামত দিবসে তার আলোর কাজ দিবে। আর তার দুই জুম’আর মাঝের (সগীরা গুনাহ) মাফ করে দেওয়া হবে। (আত তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১/৩৫৪)

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—’যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহ্ফ পড়বে তার জন্য তা দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়ে নুর হয়ে আলো দান করবে। (মুসতাদরাকে হাকিমঃ ২/৩৯৯, বাইহাক্বীঃ ৩/২৪৯, সহীহুল জামে, আলবানীঃ ৬৪৭০)
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন—’যে ব্যক্তি জুম’আর দিন সূরা কাহ্ফ পড়বে, তা তার জন্য তার ও কা’বা ঘরের মধ্যবর্তী স্থান কে নুর দ্বারা আলোকিত করে তুলবে। (শুয়াবুল ঈমানঃ ২/৯৫৯, সহীহুল জামে’, আলবানীঃ ৬৪৭১।)

হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের সকল প্রাজ্ঞ মনীষীদের মতে জুমআর দিন সূরা কাহ্ফ তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব। মালেকী মাযহাবের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ইমামও এ মত ব্যক্ত করেছেন। (দ্রঃ আল মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ, আদদুরারুস সানিয়্যাহঃ জুমআ অধ্যায়)

তিলাওয়াতের সময়ঃ বৃহস্পতিবার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর থেকে পরবর্তী দিন সূর্য অস্তমিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পূর্ণ সময় জুমার দিন হিসেবে পরিগনিত হয়। হাদীসের মধ্যে ‘জুমার দিন’–এর কথা রয়েছে, কোনো কোনো বর্ণনায় ‘জুমার রাত’–এর কথা রয়েছে, সে হিসেবে বর্ণিত ফযিলত লাভের জন্য উল্লিখিত সময়ের যে কোনো মুহূর্তে উক্ত সুরাটি তিলাওয়াত করা যেতে পারে।

সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতে জীবন বাস্তবতার নানামুখী ব্যস্ততায় জড়িয়ে অনেকের জন্যই কুরআনুল কারিম হাতে নেওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠে না। পবিত্র শুক্রবারের খণ্ড অবসর তাদের জন্য আল কুরআনের পবিত্র সান্নিধ্য গ্রহণের অপূর্ব সুযোগ। অপার্থিব এক আবেশে নিজেকে কিছুক্ষণ জড়িয়ে রাখার মোক্ষম সময়। তাই আসুন, মাহাত্ম্যপূর্ণ এদিনটিকে অবহেলায় নষ্ট না করে কাজে ব্যয় করি। পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করি। আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন আমাদের সকল নেক আমলগুলো কবুল করুন। আমীন।

শিক্ষার্থী, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here