‘জীবিত আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর চেয়ে মৃত আহমদ শফী অনেক বেশি শক্তিশালী’

25

শিখো বাংলায়ঃ চট্টগ্রাম হাটহাজারীর ডাকবাংলো ওলামা চত্তরে হাটহাজারী ওলামা পরিষদের উদ্যোগে আল্লামা আহমদ শফী রহ. জীবন কর্ম ও অবদান  শীর্ষক সেমিনারে বক্তৃতাকালে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জীবিত আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর চেয়ে মৃত আহমদ শফী অনেক বেশি শক্তিশালী।

আজ শুক্রবার হাটহাজারী ওলামা পরিষদের এ সেমিনারে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, আমি শাইখুল ইসলামের সঙ্গে ছিলাম ২০১৩ সালের অনেক আগ থেকে। শাপলা চত্তরেও হজরতের সঙ্গে ছিলাম। বাতেলের সঙ্গে কখনো আপোষ করা যাবে না। শাইখুল ইসলামের আদর্শ হলো মাজার পুজারী, বেদাত নাস্তিক মুর্দাদের সঙ্গে কখনো আপোষ করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, হাটহাজারী মাদরাসা আরশে আজিমের উপর থেকে কবুল হয়ে গেছে। যে যত ষড়যন্ত্রই করুক এ মাদরাসার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন বলেন, বিশ্ববরেণ্য আলেমে দীন শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী রহ. ইন্তেকালে শুধু বাংলাদেশেই নয় গোটা পৃথিবীর মানুষ শোক জানিয়েছেন। বাংলাদেশের ত্রিশ হাজার মাদরাসার ৫০ লক্ষ মাদরাসার ছাত্র তার কথা মেনে চলেছে। হজরত আমাদের জন্য যে কাজ রেখে গেছেন তা হলো নাস্তিক মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছেন তিনি। আজ আমরা যদি ছাত্রদের ক্ষোভের পিছনের বিষয়ে খোঁজ নিতাম তাহলে হুজুরের ইন্তেকালের আগে দু:খজনক অবস্থার তৈরি হত না। এমন পরিস্থিতি যেনো কোনো মাদরাসায় না ঘটে সে দিকে মাদরাসার মুহতামিমদের খেয়াল রাখতে হবে।

আমাদের মাদরাসাগুলোতে দায়িত্বশীলের সময় বেধে দেয়া দরকার। আজ  আমরা পরস্পর ফেসবুকে যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে যার নামে ইচ্ছে তার নামে আমরা সমালোচনা করছি। কওমি ঘরনার লোকেরাই একে অপরের নামে বিষদগার করছে। সব কিছু রেকর্ড হচ্ছে। আমরা এগুলো করবো না। এগুলো উচিৎ নয়। আমরা সব দেওবন্দি আলেমকে ভালোবাসি। আমরা আমাদের মুরব্বি আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলবো। কোনো মুরব্বি আলেমের সমালোচনা করবো না। আল্লাহ আল্লামা আহমদ শফী রহ. কে জান্নাতের উঁচা মাকাম দান করুন আমিন।

আল্লামা মামুনুল হক বক্তৃতায় বলেন, মায়ের জন্য যেমন সন্তান অবদান রাখে ঠিক তেমই উম্মুল মাদারিসের প্রতি ওলামা পরিষদ অবদান রেখেছে। আমি আল্লামা আহমদ শফী রহ. কে খুব কম সময় পেয়েছি। কিন্তু এ অল্প সময়ে তিনি আমাকে যে মমতা ও স্নেহ দিয়েছেন এটা তার উদারতা ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমানে যারা হাটহাজারী মাদরাসার দায়িত্ব পালন  করবেন, আমরা গোটা বাংলাদেশের ইসলামি অঙ্গনে তাদের অবদান দেখতে চাই। তারাই আমাদের রাহবারি করবে বলে আমরা আশা করি।

আল্লামা আহমদ শফী রহ. ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন মুহতামিম, তিনি ছিলেন একজন বুযুর্গ, একজন শাইখুল হাদিস, একজন আল্লাহ ওয়ালা পীর। ২০১৩ এর পর গোটা বিশ্বে নাস্তিকের বিরুদ্ধে এক যোদ্ধা হিসেবে পেয়েছে।

আমি ধন্যবাদ জানাই শূরা সদস্য কে যারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন অত্যন্ত সুন্দর করে। আজ আমরা বলতে চাই আগামী দিনে হাটহাজারী মাদরাসা আমাদের রাহবার হিসেবে থাকবে। আমাদের মুরব্বি আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ আমাদের মুরব্বিদের নেতৃত্বে আমরা যে কোনো মুকাবেলায় প্রস্তুত থাকবো ইনশাআল্লাহ। জীবিত আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর চেয়ে মৃত আল্লামা আহমদ শফী রহ. অনেক বেশি শক্তিশালী। সারা দেশব্যাপী তার আদর্শ অবদান আমাদের শেষ দিন পর্যন্ত রাহবারি করে যাবে।

জিরি মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা খুবাইব আহমদ বলেন, আল্লামা আহমদ শফী রহ. জিরি মাদরাসায় পড়াশোনা করেছেন। আমার দাদা মরহুম আবদুল জব্বার রহ. এর ছাত্র ছিলেন। আল্লামা আহমদ শফী রহ. যে একজন বুযুর্গ এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা তার মৃত্যুতে রাহবার হারিয়েছি। হজরতের মৃত্যু নিয়ে টালবাহানা করে লাভ নেই। তিনি তার যথা সময়ে স্বাভাবিকভাবেই ইন্তেকাল করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here