গরু পাচারের দায়ে বিএসএফ কমান্ডারকে গ্রেফতার করেছে ভারতের গোয়েন্দারা

শিখোবাংলায়.কম: সীমান্তে গরু ও মাদক পাচারে ভারতীয়রা ব্যাপকভাবে বাংলাদেশিদের ওপর দোষ চাপিয়ে থাকে। এসব ঘটনায় ভারতীয়রাও জড়িত থাকলেও বাংলাদেশিদেরকেই গুলি করে হত্যা করা হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিএসএফের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে ভারত সরকার।

এবার গরু পাচারের দায়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৩৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার সতীশ কুমার রায়কে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিবিআই)।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড চাওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) তাকে গ্রেফতারের পর বুধবার (১৭ নভেম্বর) আসানসোল আদালতে সোপর্দ করেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের কর্মকর্তারা। ভারতীয় জি২৪ ঘণ্টা চ্যানেল এ খবর নিশ্চিত করেছে।

সুত্র জানায়, ভারতীয় উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের বাংলাদেশের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন সীমান্ত পথে অবৈধভাবে গরু ব্যবসা হয়ে থাকে। বিজিবির কঠোরতার পরও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তা ও সদস্যের সহযোগিতায় একশ্রেণির চোরাকারবারি অবৈধ পথে গরুর চোরাচালান করে আসছিল।

গরু চোরাচালানির ব্যবসার কারণে অসংখ্য বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারায়। বিষয়টির তদন্ত করতে গিয়ে ভারতীয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই বিএসএফের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। এরপর প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং সীমান্তের গরুপাচার চক্রের সদস্যদের আটকের পর নাম উঠে আসে বিএসএফের ৩৬ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার সতীশ কুমার রায়ের। এরপর সিবিআই তাকে গ্রেফতার করে।

সতীশ কুমার রায়কে জিজ্ঞাসাবাদে ব্যাপক তথ্য মিলেছে বলে জানায় জি২৪ ঘণ্টা নিউজ।

এ ব্যাপারে রংপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভারতীয় সরকার সীমান্তে তাঁরকাটার বেড়া নির্মাণ করে এবং ঘন ঘন পোস্ট করে প্রহরা বসানোর পরও গরু ও মাদক পাচার হয়। এসব ঘটনায় ভারতীয়রাও জড়িত অথচ বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটে। বিষয়টি পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিএসএফের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে ভারত সরকার। যাতে দুই দেশের বন্ধুত্ব নষ্ট না হয় এবং আর কোনো নিরীহ মানুষের জীবন দিতে না হয়, এ জন্য হয়তো গরু ও মাদকপাচার বন্ধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই বিএসএফের ৩৬ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার সতীশ কুমার রায়কে সিবিআই গ্রেফতার করেছে।” তবে সেটি ভারতীয় বিষয় বলেও মন্তব্য করেন এই বিজিবি কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক মোজাম্মেল হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্র: দ্যা ওয়াল