কোরবানির চামড়ার মাসায়েল

101

শিখো বাংলায়: কোরবানির চামড়া যদি বিক্রি না করে তাহলে শরিয়তে কোরবানিদাতার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি গ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু চামড়া বিক্রি করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর মূল্য সদকাহ করা ওয়াজিব। আর কয়েক ক্ষেত্রে ওয়াজিব নয়। নিচে এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল একত্রিত করা হলো,

এক. কোরবানির চামড়া নিজের ও পরিবারের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। যেমন জায়নামাজ, কিতাবের মলাট, দস্তরখান, জুতা, ব্যাগসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করতে পারবে। (হেদায়াহ, দুররে মুখতার) তবে এ সমস্ত জিনিস ভাড়া দেওয়া জায়েয নাই। যদি ভাড়া দেয় তাহলে এর মূল্য সদকাহ করে দিতে হবে। ফতোয়ায়ে শামি
দুই. কোরবানির চামড়া বিনা পারিশ্রমিকে কাউকে দান করে দেয়া জায়েয। যাকে দান করবে সে ধনী, নিজের মা-বাবা,আত্মীয় বা অপরিচিত যেই হোক প্রত্যেককে দেয়া জায়েয। হেদায়াহ, ফতোয়ায়ে আলমগীরী
তিন.ফকির-মিসকিনদের দান করতে পারে। দান করা মুসতাহাব। ওয়াজিব নয়। বাহরুর রায়েক, ফতোয়া আলমগিরী
চার. কোরবানির পশুর চামড়া, গোশত, চর্বি ইত্যাদি অর্থাৎ কোরবানির পশুর কোন অংশ কোন খেদমতের বিনিময়ে দেয়া জায়েয নাই। যদি দেয় তাহলে তার মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। ফতোয়া আলমগিরী, ইমদাদুল ফতোয়া
পাঁচ. কোরবানির পশুর রশি কারো খেদমতের বিনিময়ে দেয়া জায়েয নাই। এসব বস্তু দান করে দেয়া মুস্তাহাব। ফতোয়ায়ে শামি
কোরবানির কোনো বস্তু কসাই বা এ জাতীয় কাউকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া জায়েয নাই। তাদের পারিশ্রমিক আলাদাভাবে দেয়া চাই। দুররে মুখতার

কোরবানির চামড়ার মূল্যের বিধান

কোরবানির পশুর চামড়া বা তা দ্বারা বানানো জিনিস বিক্রি করলে ওই মূল্য সদকাহ করা ওয়াজিব। বাদায়েস সানায়ে, ইমদাদুল ফতোয়া

কোরবানির চামড়ার মূল্য দেয়ার খাতসমূহ

এক. কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য ঐসব ফকির-মিসকিনদের দান করতে হবে যাদেরকে জাকাত দেয়া বৈধ। আর যাদের জাকাত দেয়া বৈধ নয় তাদের কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য সদকা করা জায়েয নাই। ইমদাদুল ফতোয়া ৩/৫৬৬

দুই. যার মালিকানায় এ পরিমাণ সম্পদ থাকে যা দ্বারা জাকাত ও কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়। শরিয়তে দৃষ্টিতে এ ব্যক্তি ধনী। তাকে এ সদকা দেয়া নাজায়েয। আর যার কাছে এর কম সম্পদ আছে শরিয়তে তাকে গরীব এবং জাকাত খাওয়ার হকদার সাব্যস্ত করেছে। বাহরুর রায়েক ২/২৬৩

তিন. সায়্যেদ ও বনু হাশেমের (যারা হজরত আলি রা. হজরত আব্বাস রা. হজরত জাফর রা. হজরত আকিল রা. হজরত হারেছ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রা.) বংশধর এদেরকেদেয়া জায়েয নাই। ফতোয়ায়ে শামি

চার. নিজের উর্ধ্বতন বা অধ্বতন কোন ব্যক্তিকে দেয়া জায়েয নাই। উর্ধ্বতন বলতে নিজের মা-বাবা,দাদা-দাদী, নানা-নানী যতো উপরেই হক। অধ্বতন বলতে নিজের ছেলে,নাতি যতো নিচেরই হক। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে দিতে পারবে না। হেদায়া ১ম খন্ড

পাঁচ. কোন অমুসলিমকে কোরবানির পশুর চামড়া সদকা করতে পারবে না। ফতোয়ায়ে শামি ২য় খন্ড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here