কঠোর আইন ও প্রয়োগ থাকলে কুলাঙ্গার আসাদ নূররা ইসলাম অবমাননার সাহস পেত না: আল্লামা কাসেমী

76

তিনি বলেন, ইসলাম অবমাননারোধে সরকারের আন্তরিকতা থাকলে আসাদ নূররা বার বার দু:সাহস পায় কী করে?

শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ইসলামধর্ম ত্যাগী স্বঘোষিত মুরতাদ আসাদ নূর কয়েক দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ ভিডিওতে মহান আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও পবিত্র ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে জঘন্য কটূক্তি করেছে। এর আগেও সে ইসলামের বিরুদ্ধে জঘন্য কুৎসা রটিয়েছিল। উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদ জনতার দাবির মুখে সরকার তাকে গ্রেফতার করে তখন কিছু দিন জেলে রেখেছিল। কিন্তু কয়েক মাস পর বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এতে সে আরো সাহসী হয়ে ওঠে। যার পরিণতিতে সে আবারো আল্লাহ, রাসূল (সা.) ও ইসলামের বিরুদ্ধে জঘন্য কটূক্তি শুরু করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সে বাংলাদেশের মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনাবোধে বার বার জঘন্যভাবে আঘাত হেনে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায়। সে ইসলামবিদ্বেষী ও দেশবিরোধী অপশক্তির ক্রীড়নক হয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা, সহাবস্থান এবং সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নিরাপদ রাখতে হলে আসাদ নূরের মতো ইসলামবিদ্বেষী চক্রের লাগাম কঠোরভাবে টেনে ধরতে হবে।

আল্লামা কাসেমী বলেন, মাঝে মাঝে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা বলে থাকেন, তারা ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তি বা অবমাননার কিছু সহ্য করবেন না। কিন্তু এ যাবত অসংখ্য ধর্ম অবমাননার ঘটনায় কাউকে তো শাস্তি দিতে দেখি না। কখনো কখনো দুর্বার আন্দোলনের মুখে দুয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়। কয়েক মাস পর চুপি চুপি আবার ছেড়েও দেওয়া হয়। কিন্তু কাউকে তো শাস্তি পেতে দেখি না। এটা সাধারণ তৌহিদী জনতা ও আলেম সমাজকে বোকা বানানোর প্রয়াস ছাড়া তো কিছু নয়। ইসলাম অবমাননার প্রায় ঘটনাতেই দেখা যায়, সরকারের কোন পদক্ষেপ না দেখে তৌহিদী জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামে। সেই সব আন্দোলনেও রহস্যজনক অঘটন ঘটিয়ে আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতাকেই মামলা ও পুলিশী হয়রানী করা হয়। ইসলাম অবমাননাকারীরা নিরবেই পার পেয়ে যায়। গত কয়েক মাস আগে ভোলায় নবী অবমাননার ঘটনায় দেশবাসী তো এমনটাই দেখেছে। তখন ধর্ম অবমাননাকারীকে হেনতেন করা হবে, অনেক কথাই শোনানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে অপরাধীর কোন শাস্তি হয়নি। তারও আগে রংপুরেও একই রকম ঘটেছিল এবং উল্টা মুসলমানদেরকেই শাস্তি পেতে হয়েছে। মূলত: ইসলাম অবমাননা রোধে আমরা বার বার সরকারের আন্তরিকতার অভাব দেখে আসছি।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সহাবস্থান ও শান্তিতে বিশ্বাসী। আমরা জ্বালাও-পোড়াও ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে বিশ্বাসী নই। আমরা স্পষ্টভাবে সরকারকে জানাতে চাই, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে কঠোর হস্তে ইসলাম অবমাননকারীদেরকে পাকড়াও করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন। আসাদ নূরদের মতো ইসলাম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে বার বার তাদেরকে সাহসী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে এবং তারাও বার বার মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে মুসলমানদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে থাকবে- এমনটা চলতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা সুস্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে কুলাঙ্গার আসাদ নূর ও তার সহযোগীদেরকে গ্রেফতার করতে হবে। পাশাপাশি ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধানে রেখে কঠোর আইন পাশ করে সেই আইনের আওতায় এসব দূরাচারদেরকে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে হবে। ইসলাম অবমাননারোধে সরকার বাস্তবসম্মত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে, এই বর্বরতা প্রতিরোধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে তৌহিদী জনতার গণজোয়ার রাস্তায় নেমে আসতে দ্বিধা করবে না। তখন উদ্ভূত পরিস্থিতির সকল দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। – বিজ্ঞপ্তি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here