আবু আবদুর রহমান ।।

 এই মুখরোচক শ্লোগানটি ইদানীং খুব শোনা যায়। একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী তোতাপাখির মতো তা আওড়ে থাকেন। সম্ভবত তারা বলতে চান, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়। অতএব সমাজ-ব্যবস্থা, বিচার-ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র-ব্যবস্থার সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। এই সেক্যুলার ধ্যান-ধারণা হয়তো মানবরচিত ধর্মের ক্ষেত্রে সত্য, কিন্তু আসমান-জমিনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্ম ইসলামের বেলায় তা সম্পূর্ণ অবাস্তব। এতে অনুপরিমাণ সন্দেহ নেই। এই বিষয়ে প্রত্যেক মুসলিমের পরিষ্কার ধারণা ও অটল ঈমান থাকা অপরিহার্য কর্তব্য। পূর্ণ কুরআন মজীদ এবং হাদীস ও সুন্নাহর মৌলিক গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করা সম্ভব না হলে বিষয়ভিত্তিক কুরআনের আয়াতের উপর লিখিত কোনো গ্রন্থ কিংবা সুন্নাহয় আলোচিত বিষয়াবলির উপর খৃষ্টান প্রাচ্যবিদ ড. এ.জে. উইংসিং রচিত (মিফতাহ কুনুযিস সুন্নাহ) র শিরোনামগুলোতে একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।

ইসলামী খেলাফত থাকা অবস্থায় সকল মুসলিম জনপদ ছিল একই কেন্দ্রের অধীন। তখন ইসলামী শাসন-ব্যবস্থা, বিচার-ব্যবস্থাসহ ইসলামের জীবন-ব্যবস্থার বাস্তব কাঠামো ছিল প্রত্যেক মানুষের সামনে দৃশ্যমান। কিন্তু একসময় আমাদের কৃতকর্মের কারণে ইসলামী খেলাফতের দুর্বলতার সুযোগে আল্লাহর দুশমনরা বিশাল মুসলিম সালতানাতকে টুকরা টুকরা করে ফেলে। মুসলিম জনপদগুলো রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে গেলে মুসলমানরা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দেওয়া খেলাফত-ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। দুঃখজনকভাবে বর্তমান সময়ে পৃথিবীর কোনো ভূ-খণ্ডেই পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামী খেলাফত-ব্যবস্থা চালু নেই। আর এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে মানুষের মন থেকে চিরতরে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবন-ব্যবস্থার চিত্র মুছে দিতে আল্লাহর দুশমনরা এই সব অর্থহীন শ্লোগানের কৌশলী ব্যবহারে উদ্যোগী হয়েছে।

অতএব এই পরিবর্তিত পরিসি’তিতে সকল মুমিন-মুসলমানের মনে অনুশোচনা থাকতে হবে এবং জীবনের সকল অঙ্গনে ইসলামী জীবন-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় শরীয়তসম্মত উপায়ে চেষ্টা-প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সর্বোপরি অটল বিশ্বাস রাখতে হবে যে, যদিও আমরা সাময়িকভাবে ইসলামী খেলাফতের রহমত থেকে বঞ্চিত, কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামেরও সুষ্ঠু, সুষম ও প্রতিযুগে কার্যকর একটি আদর্শ ব্যবস্থা রয়েছে, যা সর্বযুগে অশান্ত পৃথিবীর জন্য শান্তির একমাত্র চাবিকাঠি। আল্লাহ সকলকে হেফাযত করুন এবং পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামে দাখিল হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।