মুফতী মাসউদুর রহমান ওবাইদী

শিখোবাংলায়.কম: আজ পিতা-মাতা ভাত,কাপড়, থাকার স্থান পায় না, কি কারনে ?

সন্তানের এ অবস্থার জন্য কি আমি নিজেই দায়ী নই? আমি কেন সন্তানকে দীন শিক্ষা দিলাম না, কেন কোরআন শিক্ষা দিলাম না?

সন্তানকে কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা দেওয়া হয়নি বিধায় সে পিতা-মাতার হক ও প্রাপ্যের কথা জানে না, বোঝে না। ফলে বাবা-মার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। বিশেষত বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতা যেন সন্তানের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বৃদ্ধাশ্রমগুলো এর জ্বলন্ত প্রমাণ। সেখানে বৃদ্ধ মা-বাবারা সন্তানদের ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ব্যবসায়ীসহ শিক্ষিত ও সম্পদশালী বহু লোক রয়েছেন ছেলেমেয়েদের দৃষ্টিতে এরা তাদের সঙ্গে থাকার উপযুক্ত নয়, তাই বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গেছে।

সন্তানকে দীনি ইলম শিক্ষা দিলে সে জানতে পারত, আল্লাহ কোরআনে তাঁর ইবাদতের পরই মা-বাবার ইবাদতের কথা বলেছেন। সে জানত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো নেক সন্তান মা-বাবার দিকে দয়ামায়ার দৃষ্টিতে তাকালে আল্লাহ তাকে প্রতিবার তাকানোর বিনিময়ে একটি কবুল হজের সওয়াব দান করবেন।’

 সাহাবিরা আরজ করলেন, যদি কেউ এক দিনে একশ বার তাকায় তবু?

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, আল্লাহ অনেক বড়, অনেক মহান।’ শুয়াবুল ইমান। সে আরও জানত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা চাইলে বান্দার সব গোনাহ মাফ করে দিতে পারেন। তবে মা-বাবাকে কষ্ট দেওয়ার গোনাহ তিনি মাফ করবেন না; বরং তার মৃত্যুর আগে দুনিয়াতেই এর শাস্তি ভোগ করাবেন।’ শুয়াবুল ইমান। সে কোরআন-হাদিস পড়েনি বিধায় মা-বাবার কদর বোঝে না। মা-বাবাকে কষ্ট দেয়। সম্মান করে না। সন্তানকে দীন শিক্ষা না দেওয়ার এটা হলো দুনিয়াবি কুফল। আর আখিরাতে তো এর শাস্তি আছেই। হাশরের ময়দানে এ সন্তানই পিতা-মাতার বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ করবে। এমনকি পিতা-মাতার জন্য কঠিন শাস্তির আবেদন করবে। কোরআনুল কারিমে এর বিবরণ এসেছে এভাবে, ‘তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের অনুসরণ করেছি, আর তারাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছে। হে আমাদের রব! তাদের দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদের মহা-অভিসম্পাত করুন।’ সূরা আহজাব, আয়াত ৬৮, ৬৯। যে সন্তানের জন্য বাবা-মা এত কষ্ট স্বীকার করছে সেই সন্তান না মৃত্যুর সময় কাজে এলো, না মৃত্যুর পর। কবরের জীবনেও কোনো কাজেই এলো না। আর হাশরের ময়দানে তো কাজে আসবেই না; বরং সন্তান পিতা-মাতাকে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তির আবেদন করবে।